দেলোয়ার হোসাইন, রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি। ।
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলাধীন দক্ষিণ পোমরা জিয়ানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী জিপিএ প্রাপ্ত নঈম উদ্দীনের একমাত্র স্বপ্ন বড় হয়ে ডাক্তার হওয়া!
আজ রোববার দুপুরে তার স্বপ্ন সম্পর্কে জানতে চাইলে!নঈম উদ্দীন বলেন,আমার ছোট বেলার থেকে স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হয়ে গ্রামের অসহায় ও অবহেলিত সাধারণ মানুষের সেবা করার। এ ছাড়াও আমার পিতা-মাতারো স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করে অসহায় মানুষের পাশে দাড়ানোর।
পিতা-মাতার ও আমার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য আমি ছোট বেলার থেকে কঠোর অধ্যাবসায় করার চেষ্টা করছি! গ্রামের অন্যান্য ছেলেরা যে সময়ে খেলাধুলায় সময় অতিবাহিত করে আমি সে সময়ে বই নিয়ে পড়ার মধ্যে ব্যস্তো থাকতাম। যাতে আমার কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নে পৌছতে পারি এবং ডাক্তার হয়ে গ্রামের অসহায় ও দরিদ্র এবং অবহেলিত সাধারণ মানুষের পাশে দাড়াতে পারি।
তিনি আরো বলেন, আমি জানি না! আমার স্বপ্ন পূরণ হবে! আমার এ স্বপ্ন বাস্তবায়নে সমাজ ও দেশের বৃত্তবানদের সহযোগিতা প্রার্থনা করেন। শিক্ষার্থীর সম্পর্কে শহীদ জিয়ানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খোরশেদুর আলম বলেন, ‘নঈম উদ্দীন মেধাবী ও খুব ভাল শিক্ষার্থী ছিল। তার মেধা ও পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ দেখে! আমি ও শিক্ষকদের
পক্ষ থেকে যথেষ্ট সহযোগিতা করা হয়েছে এবং বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাকে বিনাবেতনে পড়ালেখার সুযোগ করে দিয়াসহ সরকারি-বেসরকারি যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, পোমরা ইউনিয়নের পাঁচটি স্কুল ও দুইটি মাদরাসার প্রায় আটশত শিক্ষার্থীদের মধ্যে নঈম উদ্দীন একমাত্র জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী। সে বিগত পঞ্চম শ্রেনীর সমাপনী ও জেএসসি পরীক্ষাও জিপিএ ৫ পেযে উত্তীর্ণ হয়েছে। তার ভবিষ্যৎ যে ডাক্তার হওয়ার যে স্বপ্ন রয়েছে! সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা তার দিন মজুর পরিবারের পক্ষ থেকে সম্ভব না! তাই আমি সমাজ ও দেশের বৃত্তবানদের তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে আসার আহবান জানানো -সহ তার উজ্জ্বল ভবিষ্যত কামনা করেন।
তার পিতা মানবাধিকারকর্মী কাজী ইউসুফ রিপোর্টার দেলোয়ার হোসাইনকে জানান,আমার ছেলের পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ দেখে!৷ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সমাজের মানুষের সার্বিক সহযোগিতা ও তাদের অনুপ্রেরণায় আজকে আমার সন্তান জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। এ জন্য আমি সকরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং আমি আমার সন্তানকে
ডাক্তার করার স্বপ্ন দেখেছি! কিন্তু তাকে ডাক্তার করানো সমাজের বৃত্তবানদের সহযোগিতা ছাড়া আমার একার পক্ষে সম্ভব না! আমি একজন দিনমজুর, দিনে আনে দিনে খায়! আমার আরেকজন ছেলে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। আমার পক্ষে বর্তমানে চারসন্তানসহ পরিবারের ভরণপোষণ করা বা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আর এ দিকে করোনার কারণে প্রতিষ্ঠান মাঝে মধ্যে লকডাউন রয়েছে। তাই আমি আমার ছেরের স্বপ্ন বাস্তবায়ন সকলকে এগিয়ে আসার আহবান রইল।
You must be logged in to post a comment.