চট্টগ্রাম মহানগরে পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসকে স্বাগত জানিয়ে র‌্যালী

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
শনিবার, ১০ নভেম্বর, ২০১৮, ৭:১৮ পূর্বাহ্ন

দেলোয়ার হোসাইন, রাংগুনিয়া (চট্টগ্রাম)।।

নবী করিম (দঃ) এর শুভাগমন বিশ্ববাসীর জন্য রহমত বিশ্ববাসীর জন্য আল্লাহ পাকের অশেষ রহমত হচ্ছে হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (দঃ)’র এপৃথিবীতে শুভাগমন। মোবারক মাস হচ্ছে রবিউল আউয়াল। এ মাসের তাৎপর্য অপরিসীম।

এ মাসের গুরুত্বকে তুলে ধারার জন্য নগর গাউসিয়া কমিটি আয়োজিত মাহে রবিউল আউয়ালের স্বাগত র‌্যালী। মহানগর সভাপতি জনাব আলহাজ্ব আবুল মনসুরের সভাপতিত্ত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আলহাজ¦ মুহাম্মদ মাহবুবুল আলমের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত র‌্যালী পুর্ব সমাবেশে বক্তাগণ উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। বক্তাগণ আরো বলেন, যেই নবী হচ্ছে সমগ্র মানবজাতির মুক্তির দিশারী, ভোগের পরিবর্তে ত্যাগের, জাহেলিয়াতের পরিবর্তে মানব সভ্যতা, যাবতীয় বিশৃঙ্খলা-বিদ্বেষ থেকে বিশ্ব মানবতাকে সু-শৃঙখল মানব সভ্যতা ও শান্তির ধর্ম ইসলামের মাধ্যমে বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা, সাম্যমৈত্রির সেতুবন্ধন সহ দুনিয়া-আখেরাতে মহাকল্যাণের দিক দর্শনকারী, সেই নবীর শুভাগমনের মাসকে আমরা যতই শোকরিয়ার সাথে উদযাপন করি না কেন আদায় হবে না। বক্তাগণ বলেন, মোজাদ্দেদে জামান হযরত তৈয়ব শাহ (রঃ) এ পবিত্র মাস ও নবীর (দঃ) শুভাগমনের মহিমান্বিত দিনকে মুসলিম সংস্কৃতিতে প্রতিষ্ঠা করার জন্য ইসলামী বিশ্বের বৃহত্তম ঐতিহাসিক “জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ)” এ মাসে ৯ ও ১২ তারিখে ঢাকা ও চট্টগ্রামে প্রবর্তণ করেন।

চলমান অশান্ত মানব সমাজকে এই অদ্বিতীয় মাসের গুরুত্বের প্রতি আকৃষ্ট করার এবং বিশেষত ১২ই রবিউল আউয়ালের জশ্নে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ) এ সকলকে শরীক সামেল করার আহবান জানানোর জন্য প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও বর্ণাঢ্য স্বাগত র‌্যালী অনুষ্ঠিত হয়। বক্তাগণ আরো বলেন, বর্তমান বিশ্বমুসলিমগণ পারষ্পরিক দ্বন্ধ, হিংসা-বিদ্ধেষ, দলাদলী, মারামারি,তথা স্বার্থের প্রতি অন্ধ হয়ে মারাত্মকভাবে আজ ঐক্যহীন জাতিতে পরিণত। যার ফলে সারা বিশ্বে সবচেয়ে নির্যাাতিত নিষ্পেষিত এবং বিশ্বব্যাপী ইসলামের শত্রুদের দাবা খেলার বস্তুতে পরিণত হয়েছে এ জাতি। এর একমাত্র কারণ হচ্ছে, সত্যিকার নবীপাকের গোলামী হতে মুসলমানরা দিন দিন দুরে সরে যাচ্ছে। যদিও নামায, রোজা, হজ্ব ও যাকাতের মত বাহ্যিক দৃশ্যমান আমল করলো সত্যিকার মুসলমানরা ঈমান বা তাকওয়া পরেহেজগারীর দিক দিয়ে বিশেষত নবী (দঃ) সাহাবায়ে কেরাম ও অলি আল্লাহর আদর্শের সাথে তুলনা করলে দেখা যায় সম্পূর্ণ বিপরীত।

এই বৈপরিত্তের মূল কারণ হল ইসলাম ও কোরআন-হাদিসের ইচ্ছামত বিকৃতি। এই বিকৃতির ফলেই মুসলমান আল্লাহর ভয় পরকালের কঠিন আজাবের কথা ভুলে গিয়ে শুধু দুনিয়াবী রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার দ্বন্ধে জড়িয়ে পড়েছেন’। এই ভয়াবহ অবস্থা থেকে পরিত্রানের জন্য নবী করিম (দঃ) এর সত্যিকার গোলামী ব্যথিত কোন বিকল্প নাই। বর্তমান যুগের প্রধান দাবি হচ্ছে এ সত্যটা মানুষের সামনে তুলে ধরা। আজ জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ হতে আসর নামাজের পর এই র‌্যালী অনুষ্ঠিত হয়। র‌্যালীটি আলমাছ, কাজীর দেউরী, নুর আহমদ রোড, জুবলী রোড, নিউ মার্কেট কোতোয়ালী হয়ে লালদীঘিতে সংক্ষিপ্ত দোয়া মুনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়।

প্রধান অতিথি ছিলেন পি.এইচ.পি গ্রুপের চেয়ারম্যান জনাব আলহাজ্ব সুফী মিজানুর রহমান, প্রধান বক্তা ছিলেন আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জনাব আলহাজ্ব মোহাম্মদ মহসিন, উদ্ভোধন করেন আনজুমানের সেক্রেটারী জেনারেল আলহাজ্ব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, বিশেষ অতিথি ছিলেন আনজুমানের জয়েন্ট সেক্রেটারী আলহাজ¦ সিরাজুল হক, গাউসিয়া কমিটি কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান আলহাজ্ব পেয়ার, মোহাম্মদ, আলহাজ্ব আনোয়ারুল হক, শাহজাদা ইবনে দিদার, আলহাজ¦ মোসাহেব উদ্দিন বখতিয়ার।

বক্তব্য রাখেন, আলহাজ¦ মীর সেকান্দর মিয়া, আলহাজ্ব সিরাজ উদ্দিন কন্ট্রাক্টর, সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব মুহাম্মদ হোসেন, আলহাজ্ব আজীজুল হক চৌধুরী, আলহাজ্ব ইদ্রিস মোহাম্মদ নুরুল হুদা, আলহাজ্ব মোহাম্মদ সেলিম, আলহাজ্ব আবু তাহের, ছালামত উল্লাহ, আলহাজ্ব ছাদেক হোসেন পাপ্পু, আলহাজ্ব মনোয়ার হোসেন, আলহাজ্ব খাইর মোহাম্মদ, হাজী মোহাম্মদ হোসেন, আলহাজ¦ আবদুল হামিদ, আবুল বশর, আজহারুল হক আজাদ, আলহাজ্ব মৌলানা মুহাম্মদ আবদুল্লা, মৌলানা মনির উদ্দিন সোহেল, মুহাম্মদ আলী নেওয়াজ, হাবিবুর রহমান, মৌলানা আরিফুর রহমান, ছাবের আহমদ, ইলিয়াস মুন্সী, জামাল উদ্দিন সূরুজ, মোঃ মুসলিম, এরশাদ খতিবি, মুহাম্মদ জসিম, রাসেদুল মৌমিন, মুহাম্মদ আব্দুল আলম আবদুল্লাহ, জালাল উদ্দিন মানিক, সিদ্দিকুল ইসলাম, সাজ্জাদুল ইসলাম, মাওলানা ইমরান হাসান আল কাদেরী, প্রমুখ।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ