অন্যদৃষ্টি ধর্ম ডেস্ক।।
একটি আদর্শ সমাজ ব্যবস্থার জন্য যেসব বৈশিষ্ট্য উপস্থিতি থাকার প্রয়োজন, এর সবকিছুুর বর্ণনা কোরআনে রয়েছে। ইসলাম ন্যায়, সাম্য ও শান্তির ধর্ম। ইসলাম ধর্মের অনুসারীরা উদার ও নীতিবান। কারণ, মুসলমানের ধর্মগ্রন্থ কোরআনে পরস্পর জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে বৈরিতা কিংবা বৈপরীত্যের কোনো সংবাদ নেই। অন্যান্য জাতি-ধর্মের প্রতিহিংসা-বিদ্ধেষের কোনো সংবাদ নেই। সত্যের প্রতি আহ্বান জানানোর ক্ষেত্রে কোরআনে সম্প্রীতি ও মমত্ববোধের অনন্য দৃষ্টান্তের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। কোরআন সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ-মমত্ববোধকে উৎসাহিত করে।
কোরআনের এই আহ্বানের মধ্যে অত্যন্ত শ্রুতি মাধুর্যতা রয়েছে। সূরা নাহলের ১২৫নং আয়াতে ঘোষণা করা হয়েছে, আপনি (হে নবী) আপনার প্রভুর পথে প্রজ্ঞা ও সদুপদেশ দ্বারা আহ্বান করুন। আপনি এমন এক পদ্ধতিতে যুক্তিতর্ক করেন, যা সবচেয়ে উৎকৃষ্ট পন্থা।
সূরা আনআমের ১০৭-১০৮নং আয়াতে ঘোষণা করা হয়েছে, আল্লাহপাক যদি চাইতেন তাহলে এরা কেউ তার সঙ্গে শিরক করত না; আর আমি তোমাকে তাদের ওপর পাহারাদার নিযুক্ত করে পাঠাইনি, তুমি তো তাদের ওপর কোনো অভিভাবকও নও। তারা (মুসলমান ব্যতীত) আল্লাহপাকের পরিবর্তে যাদের ডাকে তাদের তোমরা গালাগাল করো না, নইলে শক্রতা বশবর্তী হয়ে না জেনেশুনে আল্লাহকেও তারা গালি দেবে। আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের কাছেই তাদের নিজেদের কার্যকলাপ (শরিয়ত) সুশোভন করে রেখেছি।
কোরআন এমন একটি ধর্মগ্রন্থ যেখানে উগ্রবাদের কোনো স্থান নেই। কোরআনে জঙ্গিবাদ নেই। সন্ত্রাসবাদ নেই। হিংসা-নিন্দা নেই। আন্দাজ-অনুমানের স্থান নেই। মনগড়া বক্তব্য নেই। সূরা ইউনুছের ৩৬নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘তাদের অধিকাংশ ব্যক্তিই নিজের আন্দাজ-অনুমানের অনুসরণ করে, আর সত্যের পরিবর্তে আন্দাজ-অনুমান তো কোনো কাজে আসে না।’
কোরআন সমগ্র মানবজাতির জন্য রহমতস্বরূপ এসেছে। কোরআনের বাণী প্রচারক নবী মুহাম্মদ (সা.) হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান-ইহুদি ধর্মের মানুষের জন্যও রহমতস্বরূপ ছিলেন এবং এখনও আছেন। নবী করিম (সা.) ভিন্ন ধর্মের কোনো ব্যক্তিকে কষ্ট দিয়েছেন এমন প্রমাণ আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। আবু জাহেল আবু লাহাব কিংবা তায়েফবাসী কর্তৃক হেন কোনো অত্যাচার নেই যে নবী (সা.)কে সহ্য করতে হয়নি। তারপরও নবী (সা.) অত্যাচারীদের অভিশাপ দেননি। অত্যাচারী জুলুমকারীর জন্য নবী (সা.) আল্লাহর কাছে শুধু ক্ষমাই চেয়েছেন।
সুরা হুজরাতের ১৩নং আয়াতে বলা হয়েছে, ‘হে মানুষ, তোমাদের এক পুরুষ ও এক নারী হতে সৃষ্টি করেছি, পরে বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে, যাতে পরস্পর তোমরা পরিচিত হতে পার।’ তাই মুসলমানদের কোরআনের আদেশ-নিষেধ ভালোভাবে জানা প্রয়োজন। শুধু কোরআন তেলাওয়াতের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সময়ের প্রেক্ষাপটে আয়াতগুলোর ব্যবহার কীভাবে হবে সেটা জানা ও বোঝার প্রয়োজন রয়েছে। কোরআনের নির্দেশনাগুলো বর্তমান সময়কার উপযোগী করে এবং বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটকে বিবেচনায় নিয়ে মানুষকে সত্য ও কল্যাণের পথে আহ্বান করতে হবে।
ধর্মে আহ্বানের ক্ষেত্রে কোরআনে হেকমত ও প্রজ্ঞার নীতি অবলম্বনের নির্দেশ প্রদান করেছে। হেকমতের ভাষা কখনও অস্ত্র হতে পারে না। প্রজ্ঞা কখনও পরধর্মের প্রতি বিদ্বেষ হতে পারে না। কোরআনে হেকমত হলো উপায় বা কৌশলগুলো আর প্রজ্ঞা হলো জ্ঞান আকল যুক্তি-বুদ্ধির সমন্বয়। সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের কোরআনের হেকমতগুলো খুঁজতে হবে।
অস্ত্র, গোলা-বারুদ কখনও ধর্মে আহ্বানের ক্ষেত্রে হেকমত কিংবা প্রজ্ঞা হতে পারে না। সামাজিক সম্প্রীতি ও মূল্যবোধ নষ্ট হয়_ এ জাতীয় কর্মকাণ্ড কোরআন সমর্থন করে না। কোরআন হিংসা-বিদ্বেষের বিপরীতে ভালোবাসার সুসংবাদ প্রদান করে। কোরআন মানবাধিকারের সবচেয়ে বড় দলিল। কোরআনের আলোচ্য বিষয়বস্তু সময়ের চাহিদা অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে। সামাজিক সম্প্রীতি মানবাধিকার কোরআনে খুঁজতে হবে।
কোরআনের সুসংবাদগুলো বর্তমান সময়ে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, এর উপায় আমাদের খোঁজে বের করতে হবে। তবেই আমরা পাব আমাদের কাঙ্ক্ষিত শান্তি, মিলবে সফলতা।
অন্যদৃষ্টি / এস.খাঁন
You must be logged in to post a comment.