অনলাইন ডেস্ক ।।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগকে শেষ করে দেওয়ার অনেক প্রচেষ্টা অনেকেই করেছে। সংগঠনের সাময়িক ক্ষতিসাধিত হয়েছে, কিন্তু আওয়ামী লীগকে একেবারে ধ্বংস করে দিতে পারেনি। আওয়ামী লীগ জাতির পিতার হাতে গড়া আদর্শভিত্তিক সংগঠন। একে ধ্বংস করা যাবে না। গতকাল বিকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। আওয়ামী লীগের সম্মেলন কেন্দ্র করে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হাজার হাজার নেতা-কর্মী, ডেলিগেট ও অতিথির পদচারণে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। তীব্র শীত উপেক্ষা করে খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা
ছুটে আসেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মিলনমেলায়।
ভাষণের শুরুতে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও প্রথম সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক এবং গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। আওয়ামী লীগের ইতিহাস তুলে ধরে দলটির টানা ৩৮ বছর ধরে সভানেত্রীর দায়িত্বে থাকা শেখ হাসিনা বলেন, জন্মলগ্ন থেকেই আওয়ামী লীগ মানুষের অধিকার নিয়ে সংগ্রাম করেছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় বসে গঠন করা কোনো দল নয়। একেবারে গ্রাম বাংলার সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করার লক্ষ্য নিয়ে এ দল প্রতিষ্ঠিত। এ কারণে বাংলার মানুষের যতটুকু অর্জন, তা আওয়ামী লীগের জন্য। একমাত্র আওয়ামী লীগ যখন সরকারে এসেছে, কাজ করেছে, তখনই মানুষ কিছু পেয়েছে।
বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালে ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড ফ্রস্টকে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তাঁর জীবনের মূল লক্ষ্য দেশের মানুষকে সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করা, সংগ্রামের মাধ্যমে দেশকে স্বাধীন করে যাওয়া। এ তথ্য উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, এমন অবিচল লক্ষ্য ছিল বলেই বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। তিনি বলতেন, নেতৃত্ব দিতে হলে সবচেয়ে বেশি যেটা প্রয়োজন, সেটা হলো আত্মত্যাগ। আপনারা বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে দেখবেন, বঙ্গবন্ধু আজীবন কষ্ট করেছেন, আজীবন সংগ্রাম করেছেন। বাংলার মানুষের জন্য, দুঃখী মানুষের জন্য ছিল তাঁর লড়াই। তাদের মুখে হাসি ফোটানোর লক্ষ্য নিয়েই তিনি সংগ্রাম করে গেছেন।
পাকিস্তান আমল থেকেই আওয়ামী লীগকে বারবার ধ্বংস করে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সব সময় লক্ষ্য করেছি, আওয়ামী লীগের ওপর বারবার আঘাত এসেছে। আওয়ামী লীগকে সম্পূর্ণভাবে শেষ করে দেওয়ার অনেক প্রচেষ্টা বারবার হয়েছে। পাকিস্তান আমলে আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খান চেষ্টা করেছেন। পঁচাত্তরের পরও সে চেষ্টা অব্যাহত ছিল। খালেদা জিয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছেন। কিন্তু এই আওয়ামী লীগ জাতির পিতার নীতি ও আদর্শে গড়া সংগঠন। সেই নীতি ও আদর্শ ছিল বলেই জাতির পিতার হাতে গড়া এ সংগঠনকে কেউ ধ্বংস করতে পারেনি।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত করা হয়েছিল। অনেকবার ভাঙন এসেছে। আমরা আবার নতুনভাবে দলকে গড়ে তুলেছি। আমি দেশে ফেরার পর সারা দেশ ঘুরেছি, সারা দেশ ঘুরে সংগঠনকে দাঁড় করিয়েছি। সে কারণেই আজ আওয়ামী লীগ এ দেশে সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী সংগঠন।’
পঁচাত্তরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পরবর্তী প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘কখনো চিন্তাও করিনি আওয়ামী লীগের মতো এত বড় একটি দলের নেতৃত্ব নিতে হবে বা এত বড় গুরুদায়িত্ব আমি নিতে পারব। পঁচাত্তরে বাবা-মা সবাইকে হারিয়েছি। ছয়টি বছর দেশে আসতে পারিনি। রিফউজি ছিলাম দুই বোন। ’৮১ সালে আওয়ামী লীগ আমার অবর্তমানে আমাকে সভাপতি নির্বাচিত করেছিল। নেতা-কর্মীদের ভালেবাসার টানেই দেশে ফিরে এসেছিলাম।’
বিকাল ৩টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় সংগীতের তালে তালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্মেলনের মূল সেøাগান ছিল ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে গড়তে সোনার দেশ/এগিয়ে চলেছি দুর্বার, আমরাই তো বাংলাদেশ’। সম্মেলনস্থলে ২৮টি এলইডি পর্দায় দেখানো হয় সম্মেলনের পুরো অনুষ্ঠান। দেশি-বিদেশি আমন্ত্রিত অতিথি ও কাউন্সিলর-ডেলিগেটরদের সামনে সাংস্কৃতিক উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানে নিয়ে আসা হয় বিশেষ দ্যোতনা। ধর্মগ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে শুরু হয় জাতীয় সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা। প্রথমেই শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ। শোক প্রস্তাবের পর রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতাযুদ্ধ, ১৫ আগস্ট এবং সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়। এরপর স্বাগত বক্তব্য দেন অভ্যর্থনা উপপরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ নাসিম। এরপর বক্তব্য দেন দলের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এর পরই সভাপতির ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় সম্মেলনের অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন। সন্ধ্যার পর সম্মেলনমঞ্চে অসীম কুমার উকিলের নেতৃত্বে পরিবেশিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বক্তব্যের শেষে সম্মেলন আজ (শনিবার) সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মাঠে নির্মিত মঞ্চে সকালে দ্বিতীয় কাউন্সিল অধিবেশনেই আগামী তিন বছরের জন্য নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির ঘোষণা দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আসা প্রায় ৫০ হাজার নেতা-কর্মী ও অতিথিকে মধ্যাহ্নভোজে আপ্যায়িত করা হয়। দুই দিনব্যাপী জাতীয় কাউন্সিল বিকাল ৩টায় শুরু হলেও সকাল থেকে ব্যান্ডদলের বাদ্যে কিংবা জয় বাংলা স্লোগানে সম্মেলনস্থল মুখর করে রাখেন নেতা-কর্মীরা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বক্তৃতায় আরও বলেন, ‘মাত্র এক দশকেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। আর শত ষড়যন্ত্র ও বারবার আঘাত আসা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ এখন দেশের সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী রাজনৈতিক দল।’ তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়, আওয়ামী লীগই এ দেশের মানুষকে কিছু দিতে পেরেছে। বাংলাদেশ আজ সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। দেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি এনে দিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। দেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তিসহ ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা আমরা গড়ে তুলবই।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা একাত্তরে গণহত্যা করেছে, যারা যুদ্ধাপরাধী, তাদের নিয়ে জোট করেছিল বিএনপি। আর তাদের কাজই ছিল সন্ত্রাস। বিএনপি ক্ষমতায় থাকলেও সন্ত্রাস করে, বিরোধী দলে থাকলেও সন্ত্রাস করে। তবে সবচেয়ে জঘন্য ছিল অগ্নিসন্ত্রাস। পাঁচ শতাধিক মানুষকে তারা আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। অনেক মানুষের জীবন নষ্ট করে দিয়েছে। বিএনপি ভুলে যায়, ২০০৮ সালের নির্বাচনে তারা মাত্র ২৯টি সিট পেয়েছিল। ওই নির্বাচন নিয়ে কেউ কোনো কথা বলতে পারেনি। পরের একটি নির্বাচন তারা বয়কট করে। আরেকটি নির্বাচনে (সবশেষ একাদশ জাতীয় নির্বাচন) তারা অংশ নেওয়ার নামে একই আসনে তিনজন, চারজন করে মনোনয়ন দিয়ে বাণিজ্য করেছে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে নির্বাচন করেনি।’
রং লাল-সবুজের পাটের ব্যাগ : আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপপরিষদের পক্ষ থেকে সম্মেলন উপলক্ষে আগত ডেলিগেট ও কাউন্সিলরের প্রত্যেককে জাতীয় পতাকার রং লাল-সবুজের পাটের ব্যাগ দেওয়া হয়। ব্যাগটির একপাশে লেখা ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে গড়তে সোনার দেশ/এগিয়ে চলেছি দুর্বার, আমরাই তো বাংলাদেশ।’ অন্যপাশে লেখা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’। এ ছাড়া ২১তম জাতীয় সম্মেলন ও আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক রয়েছে। ভিতরে ২১তম সম্মেলন উপলক্ষে দুটি স্মরণিকা ও দলীয় সভানেত্রীর গতকালের ভাষণ।
তারুণ্যের সাড়া : তরুণদের নিয়ে বরাবরের মতোই ভিন্নধারার কাজ করে আসছে আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)। সিআরআইর ভিন্নধর্মী আয়োজনে বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত তরুণদের নিয়ে আয়োজন করা হয় বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘লেটস টক’। যেখানে ‘তারুণ্যের ভাবনায় বাংলাদেশের রাজনীতি’ শিরোনামে আলোচনায় তরুণদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, আইসিটি-বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান, এমপি নাহিম রাজ্জাক ও ফজিলাতুন নেসা বাপ্পী। সিআরআইর ইতিহাসভিত্তিক ১০ স্থাপনাও দারুণ সাড়া ফেলে দর্শক ও নেতা-কর্মীদের মধ্যে। স্থাপনাগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে থেকে ছবি তোলা বা বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক উক্তিগুলো পড়তে দেখা গেছে উপস্থিত নেতা-কর্মী ও দর্শনার্থীদের।
সম্রাটের মুক্তির পোস্টার : ক্যাসিনোকান্ডে গ্রেফতার হওয়া যুবলীগ ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের মুক্তি চেয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে আওয়ামী লীগের সম্মেলনে। সম্মেলনস্থল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের চারপাশ ঘুরে এ দৃশ্য দেখা যায়। সম্রাটের মুক্তি দাবিতে পোস্টার লাগানো হয়েছে শিশু পার্কের গেটজুড়ে। যার পাশের গেট দিয়ে সমাবেশস্থলে প্রবেশ করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পাশাপাশি সম্মেলনস্থলের চারপাশের দেয়ালজুড়েও পোস্টার লাগানো হয়েছে।
উদ্যানের বাইরেও অসংখ্য নেতা-কর্মী : সম্মেলন উপলক্ষে সারা দেশ থেকে আসা হাজার হাজার নেতা-কর্মী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মূল সম্মেলনস্থলে ঢুকতে না পেরে বাইরে অবস্থান করেন। বিকাল পৌনে ৩টার দিকে টিএসসি চত্বরের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয় অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে। এ সময় অনেকেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢুকতে না পেরে শাহবাগ, টিএসসি চত্বরের আশপাশ, দোয়েল চত্বর, হাই কোর্ট পর্যন্ত ভিড় করেন।
অনন্য উদ্বোধনী : গতকাল ঠিক বিকাল ৩টায় যখন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পৌঁছেন তখন উদ্যান কানায় কানায় ভরা। হর্ষধ্বনি, হাততালি আর স্লোগানের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা মঞ্চের দিকে এগিয়ে যান। এরপর জাতীয় পতাকা উড়িয়ে কাউন্সিলের শুরু। মঞ্চে তখন শতাধিক সংগীতশিল্পীর কণ্ঠে গান- আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি…। পাশে দাঁড়িয়ে দলীয় পতাকাটিও আকাশে ওড়ালেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এরপর শান্তির পায়রা আর আনন্দের বেলুন উড়িয়ে এক শান্তিপূর্ণ, আনন্দময় কাউন্সিলের প্রত্যাশা ছড়ালেন শেখ হাসিনা। তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে বেলুন ওড়ালেন সারা দেশ থেকে আসা জেলা কমিটিগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দায়িত্বে ছিলেন সংস্কৃতি উপকমিটির আহ্বায়ক আতাউর রহমান, সদস্যসচিব অসীম কুমার উকিল।
এর পরপরই শুরু হয় উদ্বোধনী সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সেখানেই ফুটে উঠল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পথচলার দীর্ঘ ইতিহাস। আর আওয়ামী লীগের ইতিহাস মানেই বাংলাদেশের ইতিহাস। সে ইতিহাসে স্থান পেল একজন শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মলগ্ন। একজন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালির জন্মের অপেক্ষা ছিল হাজার বছরের। কণ্ঠে যখন সেই ঘোষণা, মঞ্চে তখন গানÑ ওই মহামানব আসে… আর একটু পরই খোকা ঘুমালো পাড়া জুড়ালো বর্গী এলো দেশে… কিন্তু সেই খোকা যে ঘুমিয়ে থাকার নয়। অচিরেই তাঁর কণ্ঠে যে ঘোষিত হয়েছিল- মানব না বন্ধনে, মানব না শৃঙ্খলে তা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হলো নাচের পরিবেশনায়।
শব্দ, ছন্দ, গান, কবিতা আর ডিজিটাল দৃশ্যায়নে ততক্ষণে মুগ্ধ সবাই। মঞ্চে ততক্ষণে বাজছে গান, জয় বাংলা, জয় বাংলা বইলারে মাঝি বাদাম দাও তুলিয়া… আল্লার নাম লইয়া নৌকার কাছি দাও খুলিয়া… মাঝি বঙ্গবন্ধু যে জয় বাংলা স্লোগানে নাওয়ের বাদাম তুলেছিলেন সেই কথাই স্মরণ করিয়ে দেওয়া হলো গানে ও নাচে। এরপর আসে মুক্তিযুদ্ধের ডাক। কণ্ঠে বাজে ঊষার দুয়ারে হানি আঘাত, আমরা আনিব রাঙা প্রভাত আমরা টুটাব তিমির রাত… সেই চেতনায় বাঙালিকে জাগিয়ে তুলতে মুজিবের সেই আহ্বান- সাড়ে সাত কোটি মুক্তির সেনা জাগো…।
এর পরের ইতিহাস দেশ গঠনের। জাতির জনকের হাতে গড়ে উঠতে শুরু করে দেশ। মঞ্চে উচ্চারিত হয় মাত্র চারটি বছরে দেশ গড়তে তাঁর অবদানগুলোর কথা, স্বপ্নের সোনার বাংলার জন্য তাঁর শত চেষ্টা আর উদ্যোগের কথা। যার মধ্য দিয়েই শুরু হয় নবজাগরণ। অর্জিত হতে শুরু করে সত্যিকারের বিজয়। মঞ্চে ঝংকৃত হয় গান- বিজয় নিশান উড়ছে ওই। বাংলার বিজয় নিশানকে বঙ্গবন্ধুই শুরু করেন বিশ্বদরবারে নিয়ে যাওয়ার প্রয়াস।
You must be logged in to post a comment.