আর আর চৌধুরী, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি।।
মায়ের তুলনা ত মা’ই। মায়ের নেই কোন বিকল্প। আর তাই-ত (৭০) বছর বয়সী এক অসুস্থ্য বৃদ্ধা মা নিজের বয়স জনীত অসুস্থ্য শরীর নিয়েই তার অসুস্থ্য সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে পৌষের কনকনে ঠান্ডার মধ্যেই রাস্তায় নেমেছেন ভিক্ষাবৃত্তি করতে।
অসুস্থ্য শরীর নিয়ে এক হাতে ছেড়া একটি ব্যাগ ও অপরহাতে বাঁশের লাঠিতে ভড়দিয়েই এমনকি জুতা-বিহীন খালি পায়ে-ই ছেলের খাবার সংগ্রহর জন্য ছুটে বেড়াচ্ছেন শহররের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে। (৭০) বছর বয়সী ও বয়সের ভারে নুইয়ে পড়া অসুস্থ্য বৃদ্ধা মা ফিরোজা বেওয়া হলেন নওগাঁর সাপাহার উপজেলার কামাশপুর মোন্নাপাড়া গ্রামের মৃত কলিমুদ্দীনের স্ত্রী। (৭০) বছর বয়সী ফিরোজা বেওয়া চোঁখভড়া ছলছলে পানি নিয়ে তার করুন দুঃখের কাহিনী তুলে ধরে প্রতিবেদককে জানান, ২০/২২ বছর পূর্বেই তার স্বামী কলিমুদ্দীন মারা যায়। এরপর ৩ সন্তানকে নিয়ে শুরু হয় পথচলা। ভ্যাগ্যের কি পরিহাস, এরি মধ্যেই এক ছেলে মৃত্যু বরন করেন এবং আরেক ছেলে ও খুবই অসুস্থ্য হয়ে বা পুঙ্গুত্ব বরন করেন।
এছাড়া অপর এক ছেলে ভালো থাকলেও তার ক্ষুদ্র ইনকাম দিয়ে সে নিজের সংসার ই ঠিকমত চালাতে পারেন না। ফলে ভাই ত দূরের কথা নিজের মাকে খাওয়ানোর ইচ্ছা থাকলেও সেই ইচ্ছা ও পূরুন করতে ব্যার্থ হন ছেলে। এরি এক পর্যায়ে উপায়ান্তর না পেয়ে নিজের খাবার ও অসুস্থ্য ছেলের খাবার সংগ্রহের জন্য শেষ বয়সেই এক হাতে লাঠি ও অপর হাতে ছেড়া একটি ব্যাগনিয়ে রাস্থায় নামেন ভিক্ষার জন্য। এসময় প্রশ্নর জবাবে, বৃদ্ধা ফিরোজা বেওয়া জানান, এখনো সে বয়স্ক ভাতা সহ সরকারী কোন সুযোগ-সুবিধা পায়নি, এছাড়া নিজে ও ঠিকমত চলাফেরা না করতে পারার কারনে সারাদিন কোন রকমে যেটুকু হাত পেতে সংগ্রহ করেন সেই অর্থে কোন রকমে খেয়ে বা কোন বেলা না খেয়েই মা ও ছেলে দূর্বীসহ জীবন-যাপন করছেন। বয়সের ভারে নুইয়ে পড়া (৭০) বছর বয়সী বৃদ্ধা মা ফিরোজা বেওয়ার পাশে এস খাবারের ব্যবস্থা ও তার থাকার ব্যবস্থা করতে সমাজের কোন বিত্তমান বা দানশীল ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসবেন কি।
এব্যাপারে সাপাহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কল্যাণ চৌধুরী বলেন, বিষয়টি আগে জানা ছিলোনা, এব্যাপারে খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। আসুন না, বয়সের ভারে নুইয়ে পড়া (৭০) বছর বয়সী বৃদ্ধা মায়ের পাশে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেই। মানুষ ই মানুষের জন্য।
You must be logged in to post a comment.