তুমি যখন অভিমানে আপন মনে। ডুব সাঁতারে ভাসতে থাকো, কী যে আঁকো একা একা। আমি তখন ভীষণ ফাঁকা, সুতো ছেঁড়া, কাটা ঘুড়ি,মাঝ আকাশে ওড়াউড়ি।
পৃথিবী সুন্দরের পূজারী। সুন্দরের জন্য মানুষ পাগল। জীবন পর্যন্ত দিয়ে দেয়। কেউ তার পুত্রকে বিয়ে দেবে। পাত্রী খোঁজা হচ্ছে। সবার কথা,পাত্রী কালো হলে চলবে না। সুন্দরী হতে হবে। তাই বলে কি কালো মেয়ের বিয়ে হয় না ? তবে কালো মনের মানুষেরও অভাব নেই।
নীতি হচ্ছে মানুষের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। নীতির জন্যই মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীবের মর্যাদায় আসীন। এই নীতিই মানুষকে পশুদের থেকে আলাদা করে। মানুষের জীবন পরিচালনায় নীতি হচ্ছে বেদবাক্য বা সংবিধান। দেশের সংবিধান অমান্য করলে যেমন নাগরিকত্ব থাকে না তেমনি মনুষ্যত্বের সংবিধান অমান্য করলেও মানুষের মনুষ্যত্ব থাকে না। একজন মানুষ নীতিবান হলেই নিঃসন্দেহে তিনি মানুষের মতো মানুষ হবেন।
নব্বই‘র দশকের শেষের দিকে ক্যাবল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটে আমাদের দেশে। হাঁটি হাঁটি পা পা করে এই নেটওয়ার্ক আজ শহর থেকে গ্রামেও বিচরণ করছে। একটা সময় ছিল, যখন শহুরে মায়েরা তাদের ছেলেমেয়েদের সন্ধ্যা হলে পড়াতে বসতেন। গ্রামের গৃহবধূরা সাঁঝের বেলায় সাংসারিক কাজ শেষ করে হাতের তৈরি রকমারী পণ্য বানাতে বসতেন। গল্প করে সময় পার করতেন; কিন্তু আজ তাদের বিনোদিত করতে ডিশ ক্যাবলের বিকল্প বোধহয় খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। কেননা এখনকার সময়ে আমাদের দেশে ডেইলি সোপ-খ্যাত সিরিয়ালগুলো জায়গা করে নিয়েছে দর্শকদের হৃদয়ে। এগুলোর পাশাপাশি পাশ্চাত্য বা পাশের দেশ ভারতের অনুষ্ঠানগুলোও স্থান দখল করে নিচ্ছে। হোক সেটা বাংলা বা হিন্দি। এর মূল আকর্ষণ থাকে অগভীর কাহিনী,বাহারি পোশাক,কড়া মেকআপ, উগ্রজীবনবোধ,অশালীন সংলাপ,অশালীন দৃশ্যায়ন ও অশালীন পোশাক। এছাড়া আজকাল আমাদের দেশে এমন ঘটনাও ঘটছে যে, তাদের প্রোগ্রাম বা ড্রেসের স্টাইল দিয়ে পোশাকের নামকরণ করা হয়। কাহিনীর মধ্যে নেই কোনো গভীরতা। একমাত্র বিষয় ‘প্রেম’ ও প্রতিহিংসা। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের শিশু-কিশোর তথা টিনএজার। মানসিক বিকৃতিপূর্ণ এসব সিরিয়াল বা ছবি দেখে স্বাভাবিক বিকাশই অস্বাভাবিক। তাই সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এই বিষয়গুলো ভাবা দরকার।
যত সুন্দর আছে অন্যসব তাদের কাছে অসুন্দর। একজন শিশু কালো অক্ষর দিয়েই তার শিক্ষা জীবন শুরু করে। অ আ শিখতে শিখতে বড় হয়। অনেক বড়। কেউ সুন্দর মনের অধিকারী হয়। তার কাছ থেকে সমাজ, সংসার কিছু পায়। আবার কেউ কালো মনের অধিকারী হয়। সমাজে কত ধরনের কালো মনের মানুষ আছে। যারা সমাজটাকে কলুষিত করে। অন্ধকার থেকে তারা আলোতে বেরিয়ে আসার চিন্তাও করে না। বরং সমাজকে অন্ধকারে ডুবিয়ে রাখতে নানা কৌশলে ব্যস্ত। করে অপচেষ্টা । তাদের কাছে যেন সবাই জিম্মি। পক্ষান্তরে সমাজে সুন্দর মনের মানুষও আছেন, যারা অন্ধকারকে দূরে ঠেলে আলোকে জাগিয়ে তুলতে চান। তারা কতটুকু সফল হতে পারছেন? কালো মনের মানুষগুলো যে কোন কালো কাজ করতে দ্বিধা করেন না। আর সুন্দরেরা অর্থাৎ সাদা মনের মানুষেরা নীরবে নিভৃতে সাদা কাজ করে যাচ্ছেন। যত বাধাই আসুক তারা পিছপা হন না। লাঞ্ছনা সহ্য করেও এগিয়ে যান তারা। লক্ষ্য পূরণ করতে তারা নিজের অর্থও ঢালেন নির্দ্বিধায়।
নীতি মানুষকে সুপথে পরিচালিত করে। আর নীতি বিসর্জন দিলেই মানুষ কু-পথে যায়। মানুষের মধ্যে আদিকাল থেকেই নীতিবান ও নীতিহীন দু’ রকম সত্ত্বা ছিলো। মূলত নীতি হলো মানুষের মনুষ্যত্ব রক্ষার সীমানা প্রাচীর। যারা নীতি মেনে সীমার ভেতরে অবস্থান করবেন তারাই সত্যিকারের মানুষ। আর যারা নীতি বিসর্জন দিয়ে মনুষ্যত্বের রক্ষা প্রাচীরের সীমা লঙ্ঘন করবেন তারা দেখতে মানুষ হলেও আসলে অমানুষ। মানুষ যখন নীতিতে অটল থাকে তখন সেই অটল নীতির বোধই হচ্ছে নৈতিকতা। তার সেই নৈতিকতার বোধই তার মনুষ্যত্ব অটল রাখে। এর মানে হলো নীতি হারিয়ে পশু হওয়ার হাত থেকে এরা বেঁচে যান। এদের জন্ম হয় মানুষ হিসেবে। আর মৃত্যুও হয় মানুষ হিসেবেই। এটাই তাদের মানব জীবনের সার্থকতা।
ভার্চুয়াল প্লাটফর্ম থেকে প্রতিনিয়ত জ্ঞান অন্বেষণকারী তথাকথিত আধুনিক বাঙ্গালী যখন বই পড়া আর লেখালেখি নিয়ে বিষদগার করেন আমি তখন অবাক হই না। কারন তাদের কাছে বই পড়াটা সেকেলে এবং লেখালেখি করাটা মূল্যহীন।
সারাদিন সস্তা সব জিনিস নিয়ে পড়ে থাকা আর বস্তুকেন্দ্রিক সুখে মেতে থাকা তাদের স্বভাব। তাদের মতে এখন নাকি বই পড়া মানে সময় নষ্ট করা! সবাই নাকি ফেইসবুক – ইউটিউব থেকেই যাবতীয় সব জ্ঞান পেয়ে যান!
তবে ভার্চুয়াল প্ল¬াটফর্ম থেকে কতটুকু জ্ঞান আহরণ করেছেন তার সদুত্তর পাওয়া যায় না।
তাদের প্রোফাইল ঘাটলে দেখা যায় তারা এন্টারটেইনমেন্টের বাইরেও সবসময় মেতে থাকে সমস্ত সস্তা কন্টেন্টে। এভাবইে তারা হতে চায় তাদের আইকন বিল গেটস, ইলন মাস্ক কিংবা মার্ক জুকারবার্গদের মত কেউ। তাদের নাকি দেশের আইকনদের পছন্দ নয়। তারা মডার্ণ,সবকিছুতে ওয়েষ্টার্ণ ফলো করে। তাই আইকনও হতে হবে ওয়েষ্টার্ণ ওয়ার্ল্ডের কেউ।
সব মানুষই জন্মের সময় মানুষ হয়ে জন্মায়। নীতি নিয়েই জন্মায়। নীতিবোধ মানুষের সহজাত প্রবণতা। নীতি না থাকলে কারো শ্রেষ্ঠ জীবের পরিচয়ে জন্ম হতো না। কারণ নীতির জন্যই জীবজগতে মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব। জন্মের পর কেউ নীতিকে আকড়ে ধরে থাকেন, কেউ নীতিকে বিসর্জন দেন। এজন্য কেউ নীতিবান কেউ নীতিহীন।
নীতি সংক্রান্ত আলোচনার পুরো প্যাকেজটির নাম হলো নৈতিকতা। নীতি নৈতিকতা হাজার হাজার বছরের পুরনো বিষয়, কিন্তু সর্বদাই প্রাসঙ্গিক। পৃথিবীর বহু কিছুই কালের বিবর্তনে পাল্টে গেছে। কিন্তু মানুষের নীতি নৈতিকতার প্রসঙ্গ চির সজিব হয়ে আছে আজও। মানব সভ্যতা যতদিন থাকবে মানুষের নীতি নৈতিকতার প্রসঙ্গ ততদিন থাকবে। কারণ নীতিই যে মানুষের একমাত্র পরিচয়, যে পরিচয় তাকে দিয়েছে শ্রেষ্ঠ জীবের সম্মান।
ওয়েষ্টার্ণ আইকনদের উদ্ভাবনকৃত প্রযুক্তি পণ্য ব্যবহার করে তাদের অনুকরণ করাটা কিংবা তাদের মত বিলাসবহুল জীবনের অধিকারী হতে চাওয়াটা দোষের কিছু নয়।
বিল গেটস, ইলন মাস্ক, মার্ক জুকারবার্গদের মত ইনোভেটিভ এবং জিনিয়াস হতে গেলে যে জ্ঞানার্জনের বিকল্প নেই। সেই জ্ঞানের মূল উৎস যে বই তা তো স্বীকার করতেই হবে। আমরা কি জানি, যাদের মত হওয়াটা আমাদের জীবনের স্বপ্ন, তারা প্রতিদিন ঠিক কত ঘন্টা করে বই পড়েন?
একটু নেট ঘেটেই না হয় দেখে নেবেন। বিভিন্ন সময় আইকনরা নিজেদের মুখেই বলেছেন যে বই পড়ার ক্ষেত্রে তারা কতটা ডেডিকেটেড এবং তাদের সাফল্যের পেছনে বইয়ের অবদান কতটুকু!
বই না পড়ে ওয়েষ্টার্ণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সারাদিন সস্তা বিনোদনে মেতে থেকে আবার ওয়েষ্টার্ণ আইকনদের মতই ইনোভেটিভ হতে চাইবো, কিভাবে সম্ভব হবে এমন অসম্ভব?
সম্ভব নয়। এজন্যই ওরা ফেইসবুক আর ইউটিউব বানায় আর আমরা হয়ে থাকি ইউজারার।
সমাজটাকে সুন্দর করতে, মনকে সাদা করতে মরণপণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন অনেকেই। এখানেই কালো আর সাদার পার্থক্য। আসলে আমাদের স্বশিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। এ শিক্ষার শুরু করতে হবে নিজ ঘর থেকে। কালোকে কালো, সাদাকে সাদা বলা শেখাতে হবে। তবেই বদলে যাবে সমাজ। বদলে যাবে মানুষ। কালো মানুষের কথা উঠলেই মনে পড়ে কাইল¬ানি দাদির কথা। তিনি খুবই কালো। একবারে বিদঘুটে। একদিন তার সঙ্গে কালো নিয়ে কথা হচ্ছিল। বললেন, আমি কালো হলে কি হবে? তোর দাদা তো আমার জন্য পাগল। আমাকে ভালবেসে বিয়ে করেছে। কে আমাকে কাইল¬ানি বললো বা অন্য কিছু বললো তাতে কিছু আসে যায় না।
বললাম, সমস্যা তো অন্যখানে। হাদিসে আছে, কালো মানুষ কখনও বেহেস্তে যাবে না। এ কথা শুনে দাদি তো মহাচিন্তায়। এক পর্যায়ে কেঁদে ফেললেন। জানতে চাইলেন, সত্যিই কালো মানুষ বেহেস্তে যাবে না? বললাম,দাদি এটা আমার কথা নয়, হাদিসের কথা। তুমি যদি কালো হয়ে থাক তাহলে কোনদিন বেহেস্তে যেতে পারবে না। দাদি বললেন, কালো হয়ে থাকবো কি? আমি তো সত্যিই কালো। ও আল্লাহ গো তুমি আমারে কেন কালো করে সৃষ্টি করলে? কি দোষ করেছিলাম আমি? বলেই চিৎকার করে কাঁদতে লাগলেন। দাদিকে থামিয়ে বললাম, এখানে ‘তবে’ আছে। ‘তবে’ কি? তাড়াতাড়ি বল। বললাম, রঙ কালো নয়, মন কালো। যাদের মন কালো তারা কখনও বেহেস্তে যেতে পারবে না। হাফ ছেড়ে বাঁচলেন দাদি। বললেন, রঙ কালো হলেও আমার মন সুন্দর। সত্যিই তো রঙ কালো দিয়ে কি হবে? তার গুন দেখতে হবে। তাই তো কবি বলেছেন, কোকিলা কালো বলে গান শোনে না কে/কেশ কালো তার নয়ন কালো/আমি সে কালোকে বাসি ভাল-
গীতিকবির এ কবিতা গান হয়ে শিল্পীর মধুর কণ্ঠ থেকে বেরিয়ে গেঁথেছে মানুষের হৃদয়ে।
চারদিকে মানুষের কাছে নীতি নৈতিকতার চাহিদা আর প্রয়োজনীয়তা যেন দিন দিন কমে আসছে। নীতি-নৈতিকতা শব্দগুলোই এখন প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। কিছু পন্ডিত ব্যক্তি আবার নীতি-নৈতিকতার মূল চেহারা মুছে একটা নতুন সংস্করণ দাঁড় করাতে চাইছেন। তারা টাকা প্রতিপত্তি আর তথাকথিত আভিজাত্যকে নীতি নৈতিকতার বিকল্প করতে চাইছেন। আগে মানুষের সম্মান বিবেচিত হতো নৈতিকতা দিয়ে। আর এখন মানুষের সম্মান বিবেচিত হয় টাকা আর প্রতিপত্তি দিয়ে। আমার ভয় হয়, অর্থ আর প্রতিপত্তির চোখ ঝলসানো আলোয় নীতি নৈতিকতার এই নতুন সংস্করণ আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কোথায় নিয়ে যায়- একথা ভেবে। এখনই মানবতা,মনুষ্যত্ব,সততা, নৈতিকতা, মূল্যবোধ- এই শব্দগুলো মানুষের কাছে অপ্রিয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ এগুলো নিয়ে ভাবলে যে কাড়ি কাড়ি টাকার পাহাড় বানানো যাবে না। কাজেই এই শব্দগুলো এখন মানুষের তথাকথিত স্বপ্ন পূরণের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেখানে বাচ্চাদের প্রথম পাঠ হওয়া উচিত নীতি-নৈতিকতার বিষয়,সেখানে শিশুদের শৈশব কৈশোরকে টাকা কামানোর বইয়ের বোঝায় পিষ্ট করে দেয়া হচ্ছে। বস্তা বস্তা বই পড়িয়ে প্রত্যেক শিশুকে বানানো হচ্ছে ভবিষ্যৎ টাকার মেশিন। অভিবাবকেরা এই টাকার মেশিন বানানোর সংগ্রামে এতোটাই ব্যতিব্যস্ত যে, শিশুদের নৈতিকতার শিক্ষা দেয়ার সময় কোথায় তাদের? অভিবাবকদের নীতিহীনতা আর সময়ের অভাবের সুযোগে আজ সমাজ থেকে নীতি নৈতিকতা উধাও হয়ে এক সর্বনাশা অবক্ষয় গোটা সমাজকে গ্রাস করে ফেলেছে।
কাজেই এখন আবার নীতি নৈতিকতা নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন। সাধারণ শিক্ষার ভুরি ভুরি পাঠশালা আছে, কিন্তু – নৈতিকতা শিক্ষার কোনো পাঠশালাই আজ আর নেই। আগে পরিবারই ছিল নৈতিকতার পাঠশালা। এখন প্রায় প্রতিটি পরিবারেই নীতিহীনতার ছড়াছড়ি। কাজেই এখনকার বাচ্চারা সেখান থেকে নীতিবান হওয়ার চাইতে নীতিহীনতার শিক্ষাই শুধু পাচ্ছে। তাই এখন প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় নৈতিকতার পাঠশালা খুলতে হবে। সেই পাঠশালা খোলার আগ পর্যন্ত অন্তবর্তী ব্যবস্থা হিসেবে নৈতিকতা নিয়ে লেখার এই সামান্য প্রয়াস।
ছেলে সেজে মেয়েদের কু-কাজে বাধ্য করা এবং এক স্কুল ছাত্রীকে হত্যার অভিযোগে রূপা খাতুন নামে এক টিকটকারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০) সকালে নাটোর শহরের উপরবাজার এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়
হত্যার শিকার সাদিয়া আক্তার মৌয়ের বাবা উত্তর বড়গাছা এলাকার আব্দুল কুদ্দুস জানান, নাটোর শহরের উপরবাজার এলাকার রুবেল হোসেনের মেয়ে রূপা খাতুন বন্ধুদের বাইক আর ক্যামেরা ধার নিয়ে টিকটক ভিডিও নির্মাণ করে নিজেকে রুপস ভাই বলে পরিচয় দিত। মেয়েটির কাজই ছিল নিজেকে সুদর্শন পুরুষ দাবি করে স্কুল-কলেজগামী ছাত্রীদের প্রেমের প্রস্তাব দেয়া। নিজেকে বাংলাদেশ জুটমিল কর্পোরেশন বিজেএমসি অফিসার হিসেবে পরিচয় দিত। তাতেও রাজি না হলে মেয়েটি নিজের দুই হাত কেটে এবং বিষ খেয়ে একাধিকবার প্রমাণ দিত সে খাঁটি প্রেমিক।
তিনি বলেন, ৫ মাস আগে তার ছেলে সনির সঙ্গে রূপার বোনের বিয়ে দেয়া হয়। সম্পর্কে বিয়াইন হওয়ার সুযোগে রূপা তার মেয়ে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী কিশোরী সাদিয়াকে তার সাথে কু-কাজে প্রলুব্ধ করে। এক সপ্তাহ আগে সাদিয়াকে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে সাদিয়ার পরিবার বিষয়টি নিয়ে রূপার নামে সদর থানায় জিডি করে। সাদিয়ার সন্ধান পেয়ে তাকে বাসায় নিয়ে আসা হয়। এরপর গত ১৬ আগস্ট শনিবার রাত তিনটায় বাসা থেকে পালিয়ে যায় সাদিয়া। ১৭ আগস্ট রূপার বাবা রূবেল সাদিয়ার মাকে ফোন করে জানান আপনার মেয়েকে পাওয়া গেছে। এক পর্যায়ে রূপা এসে জোর করে সাদিয়ার মুখে বিষাক্ত কিছু ঢুকিয়ে দেয়। নিজেও খায়। পরে অবস্থার অবনতি হলে সাদিয়াকে নিয়ে প্রথমে নাটোর আধুনিক হাসপাতালে নেয়া হয়। নাটোর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাদিয়াকে রামেক হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন বিকালেই মারা যায় সাদিয়া।
নাটোর সদর থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল মতিন প্রতিবেদককে জানান, এ ঘটনায় সাদিয়ার বাবা হত্যার অভিযোগ এনে সুফিয়া বেগম রূপাসহ চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় রূপাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রূপ নামে কিছু ভিডিও বানিয়ে টিকটকে আপলোড করে তরুণীদের মাঝে পেয়েছিল জনপ্রিয়তা এই রূপা। সেই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে মেয়েদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে তুলে রেখেছিলেন তাদের কিছু গোপন ছবি। রূপের গোপন খবর জেনে যাওয়ার পর তার সঙ্গ ত্যাগ করতে গিয়ে বিপদে পড়েছে বেশ কয়েকজন। টিকটকে এসব গোপন ছবি ছেড়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে রূপা তাদের বাধ্য করেছে তার সাথে অপকর্মে জড়াতে। এটি সংবাদ পত্রে প্রকাশিত নিত্য অনুসঙ্গের একটি।
তাই বলি-
যখন তোমার মান ভেঙেছে। আকাশ জুড়ে বান ডেকেছে,জোছনা প্লাবন। দুচোখ ভরা অথই শ্রাবণ।
আমি তখন শক্ত সুঁতোয় বাঁধছি ঘুড়ি। তোমার হাতে থাকলে নাটাই। মস্ত আকাশ দেবো পাড়ি।
লেখক
সাংবাদিক, কলামিস্ট, গবেষক, সমাজচিন্তক
You must be logged in to post a comment.