লক্ষ্মীপুর মেঘনার জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে উপকূলের বিস্তীর্ণ জনপদ।
বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) মেঘনার পানি বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সদর উপজেলার উপকূলবর্তী চররমনি, চরমেঘা, চর শামছুদ্দিন, রায়পুরের চর আবাবিল, চরলক্ষ্মী, চরবংশী, কমলনগরের চরফলকন, সাহেবেরহাট, চর মার্টিন, চরকালকিনি, চরলরেন্স, নবীগঞ্জ, মাতাব্বার হাট ও রামগতির আলেকজান্ডারসহ প্রায় ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং পূর্ণিমার প্রভাবে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। তারা জানান, গত কয়েকদিন ধরে মেঘনার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যা এখনো বেশ কিছু দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
এতে সপ্তম দিনের মতো তলিয়ে গেছে উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা। জোয়ারের পানিতে বাঁধের বাইরের অন্তত ২৫টি নিচু এলাকা ডুবে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কমপক্ষে ৩৫ হাজার মানুষ। অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে নদী সংযুক্ত খাল, পুকুর, বসতঘর, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয়-প্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাট হাঁটু পরিমাণ পানিতে ডুবে আছে। কোথাও কোথাও কোমড় পরিমাণ পানিও হয়েছে। এতে মেঘনা উপকূলীয় মানুষগুলো চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।
মেঘনার সাহেবের হাট এলাকার বাসিন্দা জয়নাল আবেদিন বলেন, জোয়ারের পানিতে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন মানুষ। বাঁধের বাইরের এসব মানুষ গত এক সপ্তাহ ধরে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।
চর ফলকনের বাসিন্দা জামাল বলেন, রাতের জোয়ারে পানিতে ঢালচর বেশিরভাগ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে পুকুর ও মাছের ঘের। এতে আমানের বীচতলা পানি বন্দি হয়ে পড়ায়, নষ্ট হয়ে যাওয়া সম্ভাবনা রয়েছে।
কালকিনি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ছায়েফ উল্ল্যাহ বলেন, গত শুক্রবার থেকে প্রতিদিন পানিতে কালকিনি ও মার্টিন ইউনিয়েনে দ্রুত পানি ঢুকে পড়ে নিচু এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। যার বড় কারণ হলো মেঘনায় টেকসই বেড়িবাঁধ না থাকা।
এতে পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন দুই ইউনিয়নের পাঁচ হাজার মানুষ।
You must be logged in to post a comment.