১৫ অগাস্ট ২০১৮ || বুধবার || ০১:১৩ অপরাহ্ন

ঝিনাইদহের এক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের ঘর বানিজ্য! 

শাহনেওয়াজ সুমন, ঝিনাইদহ।।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পদ্মাকর ইউনিয়নে আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের ঘর বানিয়ে দেওয়ার নাম করে হতদরিদ্র মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অবগত হয়েছেন। অভিযোগ পাওয়া গেছে, ১১ নং পদ্মাকর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বিকাশ বিশ্বাস তার সামাজিক দলের লোকজনের সহায়তায় হতদরিদ্রদের কাছ থেকে ঘর বানিয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত সরকারী ভাবে তাদের ঘর বানিয়ে দিতে পারেন নি। সদর উপজেলার তিওরদা গ্রামের কুলসুম বেগম জানান, তিনি খুব গরীব মানুষ। তার ছেলে আব্দুস সবুর বাড়ি এসে বলে মা সবাই সরকারী ঘর পাওয়ার জন্য ১৫ হাজার করে টাকা দিচ্ছে। তুমিও দাও। কুলসুমের ভাষ্যমতে তিনি সাবেক চেয়ারম্যান বিকাশ বিশ্বাসের কাছে ১৫ হাজার টাকা দেন। কিন্তু এখনো ঘর তৈরী হয়নি। একই গ্রামের হাসিয়া বেগম জানান তিনি তার ছেলে আব্দুল হান্নানের সাথে গিয়ে বিকাশ বিশ্বাসের কাছে টাকা দিয়ে এসেছেন। একই ভাবে ছবেদ আলী, আব্দুল মান্নানের স্ত্রী আসমানী খাতুন, ফজলুল হকের স্ত্রী হাসিনা, হাসিয়া খাতুন, আব্দুস সাত্তার ও পদ্মাকর গ্রামের ফজলুর স্ত্রীসহ ৭ জন ঘর পাওয়ার আশায় টাকা দিয়েছেন। তিওরদা গ্রামের আব্দুল মান্নান জানান, তিনি স্থানীয় ট্যাংরা মেম্বরের মাধ্যমে টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই টাকা ফেরৎ নিয়েছেন। হতদরিদ্র মানুষগুলো এনজিও থেকে সুদে টাকা উঠিয়ে দিয়েছেন বলেও জানান। লৌহজংগা গ্রামের বলাইকুন্ডুর ছেলে প্রদুৎত কুমার জানান, তিনি মিলন মন্ডলের মাধ্যমে টাকা দিয়েছেন। খোজ নিয়ে জানা গেছে, লক্ষিপুর গ্রামের ২৩ জন, উত্তরসমসপুর গ্রামের ১০ জন, পদ্মাকর গ্রাম থেকে ১৬ জন ও লৌহজং গ্রাম থেকে ৪ জনের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে। তিওরদা গ্রামের সামাজিক দলের মাতুব্বার নজরুল ইসলাম খবরের সত্যতা নিশ্চত করে জানান, তার গ্রাম থেকে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাদের ঘর হয়নি। ১১ নং পদ্মাকর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নিজামুল গণি লিটু জানান, আমি যে ১২টি তালিকা দিয়েছিলাম, কেবল তাদেরই ঘর হয়েছে। এই বাইরে কারো হয়নি। তিনি জানান, আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর বানিয়ে দেওয়ার নাম করে বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তো সবাই জানে। ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কনক কান্তি দাস জানান, তিনি একদিন হাটগোপালপুর বাজারে যাত্রা বিরতী করেন। সেদিন শত শত মানুষ তাকে ঘিরে ধরেন। এ সময় তারা তার কাছে ঘর বানিয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা নেওয়া কথা স্বীকার করেন। বিষয়টি আমি জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ ও সাংবাদিকদের জানিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্তকর্তা শাম্মি ইসলাম জানান, এ ভাবে কেও টাকা নিলে আসলে আমাদের করার কিছুই নেই। তাছাড়া তিনি তো চেয়ারম্যান না। তিনি বলেন ফুরসন্দি ইউনিয়নে এ রকম আমি অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নিয়েছি। তিনি আরো জানান, এ বিষয়ে ৫ সদস্যের একটি যাচাই বাছাই কমিটি আছে। তাদের সুপারিশে যাদের জমি আছে ঘর নাই সে সব হতদরিদ্র পরিবারের ইউএনও তালিকা প্রনয়ণ করে ঢাকায় পাঠান। এখানে একটি পয়সা নেওয়ারও সুযোগ নেই। পদ্মাকর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বিকাশ বিশ্বাস টাকা গ্রহনের কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন আমি কারো কাছ থেকে টাকা নেয় নি। তবে তিনি এও বলেন, মাত্র ১৫ হাজার টাকায় যদি কেও দুই লাখ টাকার ঘর পায় তবে অসুবিধা কোথায় ?
Facebook Comments


© All rights reserved © 2017 Onnodristy.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com