টিউলিপ সিদ্দিকের প্রত্যর্পণ চাইবে নতুন সরকার

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ৭:৩৮ অপরাহ্ন

বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকার দুর্নীতির অভিযোগে ব্রিটিশ রাজনৈতিক দল লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের প্রত্যর্পণের জন্য যুক্তরাজ্যকে আহ্বান জানাবে বলে জানিয়েছেন তারেক রহমানের এক জ্যেষ্ঠ সহকারী।

টিউলিপ সিদ্দিকের অনুপস্থিতিতে তার বিচার অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের একটি আদালত তাকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। তবে যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, তারা এই রায়কে স্বীকৃতি দেয় না।

রাজধানী ঢাকায় একটি জমি ক্রয়–সংক্রান্ত চুক্তির অভিযোগে তার খালা, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে টিউলিপ সিদ্দিক দোষী সাব্যস্ত হন।

তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিস্তারিত কখনও তাকে জানানো হয়নি। তিনি এটিকে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ বলে অভিহিত করেন।

তবে তারেক রহমান সরকারের সম্ভাব্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, এ সপ্তাহে নির্বাচিত নতুন বিএনপি সরকার টিউলিপ সিদ্দিক বা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা থেকে সরে আসবে না।

মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনাকে আলাদাভাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালে তার সরকার পতনের পর তিনি ভারতে পালিয়ে যান।

হুমায়ুন কবির দ্য ইন্ডিপেনডেন্টকে বলেন, ‘তারা দুজনই এখন দণ্ডিত অপরাধী। তাই বিচারিক প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে তাদের বিরুদ্ধে এগিয়ে চলছে।’

যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই। ফলে টিউলিপ সিদ্দিককে সাজা ভোগের জন্য বাংলাদেশে আনা প্রায় অসম্ভব। তাত্ত্বিকভাবে এমন চুক্তি ছাড়াও প্রত্যর্পণ হতে পারে। তবে আইনগতভাবে সম্ভব হলেও টিউলিপ সিদ্দিককে দোষী সাব্যস্ত করার প্রক্রিয়ার কঠোর সমালোচনা করে লেবার পার্টি বলেছে, তারা ‘এই রায়কে স্বীকৃতি দিতে পারে না।’

গত বছরের শেষে তার সাজার সঙ্গে আরও একটি দুর্নীতি মামলার রায় যোগ হয়। চলতি মাসের শুরুতে লেবার পার্টি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘এই মামলায় টিউলিপ সিদ্দিক ন্যায্য আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ পাননি এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিস্তারিত কখনও তাকে জানানো হয়নি। তার আইনজীবী দলের মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও এমনটি হয়েছে। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলে তার অবশ্যই আইনি বক্তব্য উপস্থাপনের অধিকার থাকা উচিত। যেহেতু এ ক্ষেত্রে তা হয়নি, আমরা এই রায়কে স্বীকৃতি দিতে পারি না।’

তবে হুমায়ুন কবির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হলে এ মামলাটি ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের সম্পর্কের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

তারেক রহমান ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচনে তার দল ভূমিধস জয় পেয়েছে।

নতুন সরকার টিউলিপ সিদ্দিক ও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা হস্তক্ষেপ করব না। বিচারিক প্রক্রিয়াকেই তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করতে দেব।’

কিয়ার স্টারমারের লেবার সরকারের জন্য টিউলিপ সিদ্দিকের ঘটনাকে ‘বিব্রতকর’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপরাধীদের বিষয়ে যুক্তরাজ্য সরকারের অবস্থান ‘স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন’।

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, যুক্তরাজ্যের মাটিতে অবস্থান করে অর্থপাচারের মাধ্যমে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে—এমন আওয়ামী লীগের সব অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে। আমরা ব্রিটিশ সরকারের কাছে একটি তালিকাও দেব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তাদের ফেরত চাই। প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে আমরা চাই যুক্তরাজ্য এসব অপরাধীকে খুঁজে বের করুক। অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলায় আমরা যদি যুক্তরাজ্যের শক্তিশালী অংশীদার হতে পারি, তাহলে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে পালিয়ে যাওয়া অপরাধীদের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য ভিন্ন আচরণ করবে কেন?’

হুমায়ুন কবির বলেন, যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১৭০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি সম্পদ জব্দ করেছে, যা একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

তবে তিনি বলেন, ‘এখনও আরও অনেক কিছু করা প্রয়োজন।’

মন্তব্যের জন্য দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট টিউলিপ সিদ্দিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এর আগে তিনি বিচার প্রক্রিয়াকে ‘শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ ও প্রহসনমূলক’ বলে আখ্যা দেন।

তিনি বলেন, ‘আদালতের এই প্রহসনমূলক ফলাফল যেমন অনুমানযোগ্য, তেমনি অযৌক্তিক। আমি আশা করি তথাকথিত এই “রায়” যথাযথ অবজ্ঞার সঙ্গে বিবেচিত হবে। আমার মনোযোগ সবসময় আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষের ওপরই ছিল। বাংলাদেশের নোংরা রাজনীতির কারণে আমি বিভ্রান্ত হব না।’

সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ