ইবি শিক্ষিকার হত্যাকারী ফজলুর লিখিত স্টেটমেন্ট

ইবি প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ৪:০০ অপরাহ্ন

ইবি শিক্ষিকার হন্তারক সেই কর্মচারী জীবিত আছে। সে পুলিশের কাছে লিখিত স্টেটমেন্ট দিয়েছে। এ বিষয়ে জানতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলাম। যা জানা গেছে, এক মাসের বেতনের টাকা নিয়ে বিবাদের কথা সেখানে উল্লেখ করেছে অভিযুক্ত ফজলু। সে বেতন দাবি করেছে, আর ম্যাম নাকি দিতে রাজি হননি।

পাশাপাশি স্টেটমেন্টে ফজলু তার হতাশার কথা লিখেছে। সে আর বাঁচতে চায় না… ইত্যাদি।

তবে পুরো ঘটনার পেছনে ভিন্ন কোনো মোটিভ ছিল কিনা, ফজলুকে রুই-কাতলা কেউ ইন্ধন দিয়েছে কিনা; সেটা সে বলেনি। কিংবা আঘাত করার ছুরি কোথায় পেয়েছে, কে সরবরাহ করেছে, কীভাবে হিটিং মোমেন্ট ক্রিয়েট হলো তাও স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।

লিখিত স্টেটমেন্টের কপি আমরা এখনো হাতে পাইনি৷ ফলে বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না। হাতে পেলে হয়তো আরও তথ্য জানা যাবে।

তবে ওই শিক্ষিকার স্বামীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিভাগ সূত্রে নিয়ে জানা গেছে, সমাজকল্যাণ নতুন বিভাগ হওয়ায় শিক্ষকদের সবাই সমকক্ষ ছিলেন। ফলে নিজেদের মধ্যেও ইগোয়িস্টিক সমস্যা ছিল। একে-অপরকে পর্যাপ্ত সহায়তা করতেন না। বিভাগীয় সভাপতি কিংবা পরীক্ষা কমিটির সভাপতি এই সমস্যাগুলো বেশি ফেইস করতেন। এইসব কারণে ওই বিভাগে সেশনজটের অভিযোগও আছে।

আর এসব নিয়ে শিক্ষকদের পরস্পরবিরোধী অবস্থান আছে। আগের সভাপতির সময় সেশনজট প্রকট হয় এমন অভিযোগ আছে। বিভাগের দীর্ঘদিন থাকায় এগুলো সবই ভালো করে জানে কর্মচারী ফজলু।

সে হয়তো ভেবেছে, ম্যাডামের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলে হয়তো স্বাভাবিকভাবেই প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য শিক্ষকদের সমর্থন পাওয়া যাবে। ফলে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ‘শত্রুর শত্রু বন্ধু’ চিন্তার প্ররোচনায় এই অঘটন ঘটাতে পারে সে। বিভাগের শিক্ষকদের মধ্যে হারমনি থাকলে ফজলু এত সাহস নাও করতে পারতো।

আমার এক শিক্ষক বলতেন, বুদ্ধিজীবীদের দ্বন্দ্ব খুব খারাপ জিনিস, অনি। আর আহমদ ছফা বলতেন, বুদ্ধিজীবীদের খই খেতে ইচ্ছে করলে এরা ধানের গোলায়ও আগুন লাগাতে পারে।

এদিকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বুদ্ধিজীবীদের (শিক্ষক) মতপার্থক্য আর ইগোয়িস্টিক সমস্যা তো প্রকট। এর নির্মম বলি হয় শিক্ষার্থীরা। বছরের পর বছর জটে পড়তে হয় তাদের। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এটা খুব কমন ঘটনা। এতদিন শুধু শিক্ষার্থীরাই এর মূল্য দিয়েছে। কিন্তু শিক্ষকদেরও যে এর চড়া মূল্য দিতে হতে পারে; তা হয়তো কারও আইডিয়া ছিল না। এবার বোঝা গেল। সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতির হ.ত্যাকাণ্ড সেই বাজে উদাহরণ সামনে আনলো।

গতকালের ভিডিওতে বলেছিলাম, ক্যাম্পাসে শিক্ষক শিক্ষার্থী কর্মকর্তা কর্মচারীদের লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি কীভাবে এই ঘটনার দীর্ঘমেয়াদি ক্ষেত্রপ্রস্তুত করেছে।

আজ আবারও বলছি, এই ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি যদি ‘স্টেডিয়াম’ হয়; তাহলে সমাজকল্যাণ বিভাগে শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এই হত্যাকান্ডের ‘মাঠ’ বা ‘পিচ’।

ফলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্র-শিক্ষকদের লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি বন্ধ না হলে কুশিক্ষক নিয়োগ, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের পুর্নবাসন, অযোগ্য কর্মচারী নিয়োগ, অর্থের লেনদেন, হিংসার চাষাবাদ এসব কখনো বন্ধ হবে না। আর এসব যদি বন্ধ না হয়; তাহলে আরও বাজে কিছুর জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ