নোটিশ :
সংবাদকর্মী নিচ্ছে অন্যদৃষ্টি। আগ্রহীগন সিভি পাঠান- 0nnodrisrtynews@gmail.com
২০ জানুয়ারী ২০২২, ১২:০২ অপরাহ্ন

”স্বাভাবিক চিকিৎসায় সারবে ওমিক্রন”

অন্যদৃষ্টি ডেস্ক
শনিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২২, ৭:১৬ অপরাহ্ন

মহামারি করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দ্রুতগতিতে ছড়াচ্ছে। ভ্যারিয়েন্টটি ইতিমধ্যে বাংলাদেশেও শনাক্ত হয়েছে। সরকারি সূত্রমতে এখন পর্যন্ত দেশে ২৪ জনের শরীরে ওমিক্রনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ওমিক্রন ডেল্টা বা অন্য ধরনগুলোর মতো প্রকট নয়। তবে অন্যান্য ধরনের চেয়ে এটি দ্রুতগতিতে ছড়ায়। আইসোলেশনসহ করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে সাধারণ যে সতর্কতা ও চিকিৎসাপদ্ধতি সেটা ওমিক্রনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এর জন্য আলাদা কোনো চিকিৎসা নেই বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ওমিক্রনে আক্রান্তরা জানিয়েছেন, এই ধরনটিতে আক্রান্ত হওয়ার পর তাদের গলা শুকিয়ে যাওয়া, সর্দি লাগা, শরীরের জয়েন্টে ব্যথা বা মাথা ব্যথা হয়েছে। এছাড়া বুকের ওপরের অংশে ব্যথা, মাথা ব্যথা, জ্বর, ক্লান্ত লাগা, শরীরে ব্যথা, গলা শুকিয়ে যাওয়ার অনুভূতি হয়েছে কারো কারো।

ওমিক্রন সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সাইফুল্লাহ মুনশি বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ‘ওমিক্রনের লক্ষণগুলো খুবই হালকা ধরনের হয়। ডেলটা বা অন্য ধরনগুলোর মতো এতটা প্রকট নয়। অনেকের ফুসফুসের ওপরের দিকে ব্যথা হতে পারে। সাধারণত সিকোয়েন্সিং করে এটা শনাক্ত করা যায়।’

এই চিকিৎসক বলেন, করোনাভাইরাসের লক্ষণ দেখা গেলেই যেসব সতর্কতা নেওয়ার কথা বরাবর বলা হয়েছে, সবাইকে সেগুলো নিতে হবে। শুধু ওমিক্রনের জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার নেই।

শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক তৌফিক আহমেদ বলেন, ‘যদিও ডেলটা ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় ওমিক্রন অনেক বেশি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য-উপাত্তে জানা যাচ্ছে, ওমিক্রন একটু হালকা ধরনের, আক্রান্তদের গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া বা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার হার কম।’

২৫০ বেড টিবি হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘ডেল্টা বা অন্য ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় ওমিক্রন খুব দ্রুত ছড়ায়। কিন্তু এটি ততটা প্রাণঘাতী নয়। বিশ্বব্যাপী দেখা গেছে, এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলেও অন্যগুলোর তুলনায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া বা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার হার কম।’

ডা. আয়শা আক্তার বলেন, ‘ওমিক্রন নাকি ডেল্টায় আক্রান্ত হয়েছেন, সেটা নিয়ে চিন্তা করার চেয়ে বরং করোনাভাইরাসে যাতে আক্রান্ত না হন, সেই চেষ্টা করতে হবে। সেজন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। আর কোনোভাবে আক্রান্ত হয়ে গেলে আইসোলেশনসহ চিকিৎসার যেসব পদ্ধতি আছে, সেগুলোই অনুসরণ করতে হবে।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহামারি বিশেষজ্ঞ ড. আব্দি মাহামুদ বলেছেন, ‘ওমিক্রন যে অন্যান্য ভ্যারিয়েন্টের চেয়ে কম ক্ষতিকর, সেটি বলার মতো যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। সুতরাং মূল বার্তা হলো, আপনি যদি টিকা নিয়ে থাকেন, তাহলেই আপনি নিরাপদ।’

সন্দেহভাজন রোগীর ওমিক্রন হয়েছে কি না সেটা জানতে পুরো জেনেটিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন হয়। করোনাভাইরাসের পিসিআর মেশিনে মুখের যে লালা পরীক্ষা করা হয়, সে লালায় ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেলে পরে সেটা পাঠিয়ে দেওয়া হয় জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য। সেজন্য চার থেকে পাঁচ দিন সময় লেগে যায়। জেনেটিক তথ্যউপাত্ত বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন, আক্রান্ত ব্যক্তি ওমিক্রন নাকি অন্য কোনো ধরনে আক্রান্ত হয়েছেন।

বাংলাদেশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে করোনাভাইরাসের বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্টের জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের ব্যবস্থা থাকলেও ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের পরীক্ষা হচ্ছে শুধু সরকারের রোগতত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা আইইডিসিআরে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের ১২৮টি দেশে অমিক্রন ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতেও এই ধরনের সংক্রমণ বাড়ছে। দুই দিন আগে ওমিক্রনে শনাক্ত একজনের মৃত্যু হয়েছে দেশটিতে।

Facebook Comments
Print Friendly, PDF & Email
সংবাদটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো সংবাদ