লাল জুলাইয়ে আমার হৃদপিণ্ড পড়ে আছে রাজপথে
আমিরুল মোমেনীন মানিক
বহু পথ প্রান্তর ছাড়িয়ে
বহু ঘাত জুলমাত পেরিয়ে
অবশেষে বিপ্লব এলো
বহু চোখ হাত পা হারিয়ে
বহু রাত শাহাদাৎ পেরিয়ে
সবশেষে রোদ্দুর এলো
কিন্তু আমার উঠোনে এখনো ধড়িবাজ চিল
বেদনার অন্ত্যমিলে আমি বেদনাবিধূর নীল
৭১ থেকে ২৪, তেপান্ন বছর ঘিরে ধরেছে আমায়
আমার সামনে দাঁড়িয়ে আবু সাঈদ
কী ভীষণ দ্রোহের স্ফুলিঙ্গে দুরন্ত সাহস
আমার চোখের সামনে মুগ্ধের দু:সাহসী চোখ
কারবালা প্রান্তের চিরতৃষ্ণা মিটিয়ে দেবার দৃপ্ত উচ্চারণ
পানি লাগবে ভাই পানি লাগবে
আমার অলিন্দে ফারহান নামের জুলাইয়ের লাল
কী দারুণ সুঘ্রাণে ভেঙে দিচ্ছে ঘোরের দেয়াল
রক্তগোলাপের মতো ফুটে আছে
আসিফ সাব্বির আকরাম তানভীর শান্ত জাফর
আহনাফ সবুজ আলী শাহজাহান
সহস্র প্রশ্নে আমি শরাহত আর্তমানব
ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বাসায় ফেরেনি রাব্বি
দুই বোনের মাতমে যাচ্ছে প্রবহমান বৈরি বাতাস
এদিকে, জিহাদের মাকে সান্তনা দেবার কোনো ভাষা বাংলা একাডেমি অভিধানে নেই
‘‘বাবা জিহাদ, মৃত্যুর সময় তুমি কেমন করছিলা! আমাকে মা মা করে ডাকছিলা! বাবাগো আমিতো বাড়িতে ছিলাম। তোমার ডাকে সাড়া দিতে পারি নাই।’’
একমাত্র বুকের মানিক ইয়াছিনকে নিয়া বাঁচতে চেয়েছিলেন মা মনজিলা বেগম…
কোথা থেকে গুলি এসে বাবার বুকটা ঝাঁঝরা করো দিলো। আমি কাকে নিয়ে বাচব।
আমি ভুলেই গিয়েছিলাম যাত্রাবাড়ির দিনমজুর রিংকুর আলাপ
আরে, তার রক্তও তো লাল…
ছোট ভাই পিংকু গলাকাটা মোরগের মতো চিৎকার করছে…
“মেইন রোডে ঝামেলা বইলা আমার ভাই গলি দিয়া যাইতেছিল। এর মধ্যেই হুট কইরা একটা গুলি আইসা ওর পেটে হান্দে’’
ঝিম ধরে আছে আমার মাথা মস্তিষ্ক…
আমি ভুলে যাচ্ছি জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতির পরাগ
আমার মন থেকে মুছে যাচ্ছে সব শহীদের নাম
আমার চোখের সামনে কেবল লাল আর লাল যেনো রক্তসাগর
আমার চারপাশে মজলুমের চিৎকার আর হায়েনার গোঙানি
হঠাৎ হুঁশ ফিরলো আমার…
তাকিয়ে দেখি, আমি পড়ে আছি রাস্তার মাঝ বরাবর
রোদ এবং বৃষ্টি আমাকে সিক্ত করছে
বুকের গহীন থেকে বের হচ্ছে বিপ্লবের সুঘ্রাণ
লাল জুলাইয়ে আমার হৃদপিণ্ড পড়ে আছে রাজপথে ।
You must be logged in to post a comment.