নোটিশ :
সংবাদকর্মী নিচ্ছে অন্যদৃষ্টি। আগ্রহীগন সিভি পাঠান- 0nnodrisrtynews@gmail.com
২৮ অক্টোবর ২০২১, ০২:৫৯ অপরাহ্ন

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকাল বন্ধ ঘোষণা, শিক্ষক ফারহানা বরখাস্ত

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
শুক্রবার, ১ অক্টোবর, ২০২১, ১২:০৫ অপরাহ্ন

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার হলে ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ ওঠা সেই শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের ১৬তম বিশেষ সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেজিস্ট্রার সোহরাব আলী।

এদিকে শিক্ষক ফারহানার বিরুদ্ধে আরও কিছু অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান লায়লা ফেরদৌস বলেন, ‘চুল কেটে দেওয়া ছাড়াও (ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে) শিক্ষার্থীদের বিষয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও খারাপ আচরণের একাধিক অভিযোগ আমরা পেয়েছি। তাঁর বিরুদ্ধে শুধু একটি বিভাগের অভিযোগ নয়, সব বিভাগেই অভিযোগ রয়েছে। জুতার শব্দ হলেও তিনি শিক্ষার্থীদের শাসন করেন। সব অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই এগুলো জানা যাবে।’

ওই বিভাগের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর সজীব সরকারের ভাষ্য, গত রোববার শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন তাঁকে দিয়ে কাঁচি আনিয়ে একে একে ১৩ থেকে ১৪ ছাত্রের চুল টেনে ধরে কেটে দিয়েছেন। বিভাগের অফিস সহায়ক আবদুল মালেক বলেন, ‘আমিও ঘটনার সময় পরীক্ষার হলে অবস্থান করছিলাম। সেখানে আমি শিক্ষক ফারহানাকে ছাত্রদের চুল টেনে ধরে কাঁচি দিয়ে কাটতে দেখেছি।’ওই দিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে দুই শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষক ফারহানার উগ্র আচরণের কারণে তাঁরা এবং পরীক্ষার হলে উপস্থিত অন্য শিক্ষকেরা কিছু বলার সাহস পাননি।

চুল কেটে দেওয়া শিক্ষার্থীদের একজন তানভীর হোসেন। তিনি বলেন, ‘করোনায় দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার পর পরীক্ষা শুরু হলেও শিক্ষক ফারহানা পরীক্ষার তিন-চার দিন আগে নিয়মবহির্ভূতভাবে রুটিন দিয়েছেন। সেখানে প্রতিদিন পরীক্ষা রাখা হয়েছে। এটি অমানবিক। রুটিন পরিবর্তনের দাবিতে আমরা প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা স্মারকলিপি দেওয়ার চেষ্টা করি। পরে তিনি আমাদের নাম সংগ্রহ করেন।’ তানভীর আরও বলেন, গত শনিবার পরীক্ষার হলে গিয়ে পুরো চার ঘণ্টা তাঁদের মানসিকভাবে নির্যাতন করেন ওই শিক্ষক। ব্যাপারটি নিয়ে পরদিন তাঁরা কথা বলতে চাইলে তিনি তাঁদের চুল কেটে দেন।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ফারহানা ইয়াসমিন চুল কাটার বিষয় অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার একটু রাগ রয়েছে। পরীক্ষার জন্য, পড়ালেখার জন্য আমি শিক্ষার্থীদের একটু একটু বকাঝকা করি। কিছু ছাত্র আমার কাছে এসে পরীক্ষা পিছিয়ে দিতে বলেছিল। আমি এতে রাজি হইনি। হয়তো সেই রাগে এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে।’

এদিকে শিক্ষক ফারহানাকে বরখাস্ত এবং ওই ঘটনার বিচারের দাবিতে বুধবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে অনশন শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা। অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন চার শিক্ষার্থী। দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া গতকাল দুপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একাংশ মিছিল নিয়ে প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এ সময় দুটি সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়।

Facebook Comments
Print Friendly, PDF & Email
সংবাদটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো সংবাদ