নোটিশ :
সংবাদকর্মী নিচ্ছে অন্যদৃষ্টি। আগ্রহীগন সিভি পাঠান- 0nnodrisrtynews@gmail.com
১৭ মে ২০২২, ১১:২৯ পূর্বাহ্ন

বৈরি আবহাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতি রবিশস্য ঝিনাইদহের কৃষকরা চান সরকারী সহায়তা

এম এ কবীর, ঝিনাইদহ
বুধবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২২, ৪:১৫ অপরাহ্ন

ঝিনাইদহে রবি মৌসুমের শুরুতে বৈরি আবহাওয়ার কারণে আশংকাজনক হারে কমেছে রবিশস্যের আবাদ। নষ্ট হয়েছে শতকরা ৮০ ভাগ ক্ষেতের ফসল। এতে চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষিরা।

ফলে ছোলা, খেসারি, মশুর, গম, সরিষা,মটরসহ অন্যান্য রবিশস্যের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় গম ৪৩৫৪ হেক্টরের মধ্যে ৪০০৭ হেক্টর, সরিষা ৯১৭১ হেক্টরের মধ্যে ৭৮৩৮ হেক্টর, মশুর ৭৫৭৩ হেক্টরের মধ্যে ৬৭৫৫ হেক্টর, খেসারি ৫৮৯ হেক্টরের মধ্যে ৪৯৫ হেক্টর, মটর ৪৩৩ হেক্টরের মধ্যে ৩৮৮ হেক্টর, মরিচ ৫৮৮ হেক্টরের মধ্যে ৪৫৫ হেক্টর, আলু ১৩৭৩ হেক্টরের মধ্যে ৯৮৬ হেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও ক্ষতির তালিকায় অন্যান্য ফসলও রয়েছে। রবি শস্য আবাদ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জেলার ৪৯ হাজার ৪৪৭ জন কৃষাণ-কৃষাণী। গত ২০২১ সালের ৫ ডিসেম্বরের ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে পানি জমে থাকায় এসব ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে জানায় কৃষি বিভাগ।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে ১৬ অক্টোবর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত সময়কালকে রবি মৌসুম বলা হয়। এই সময়ের মধ্যে নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু হয় রবিশস্যের আবাদ। যথারিতী কৃষকরা ভালো ফলনের আশায় কেউ জমি চাষ করে গম বপণ করেন, কেউবা মশুর,সরিষা কিংবা আমন ধানের ক্ষেতে ছিটিয়ে ছিলেন খেসারির বীজ। কিন্তু বৈরি আবহাওয়াই তা নষ্ট হলে আবার তারা ক্ষেতে বীজ বপন করলেও অধিকাংশ ফসলই নষ্ট হয়ে যায়।

কোনো কোনো এলাকায় কিছু পরিমাণ মশুর থাকলেও পাতা হলুদ হয়ে মরে যাচ্ছে গাছ। তবে খুব একটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি সরিষা ক্ষেত।

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার যুগনী গ্রামের কৃষাণী রিনা বেগম জানান, অন্যের জমি লিজ নিয়ে ফসল চাষ করে নিজের সংসার চালান । রবি মৌসুমে ভালো ফলনের আশায় এক বিঘা জমিতে ধানের মধ্যে খেসারির বীজ ছিটান। কিন্তু অসময়ের বৃষ্টিতে পানি জমে তা নষ্ট হয়ে যায়। পানি সরে গেলে পরে ধান কেটে আবারও খেসারি বীজ ছিটালেও মাটি ভেজা থাকায় তা আর চারা গজায়নি। ফলে এই মৌসুমে কী করে লিজের টাকা দেবেন আর কি করে নিজের সংসার চালাবেন এ নিয়ে চিন্তায় আছেন তিনি।

একই গ্রামের কৃষক তরিকুল জোয়ারদার বলেন, ৬ বিঘা জমিতে দুই বার করে খেসারি আর কলাই বীজ ছিটিয়ে ছিলাম। এতে আমার খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু ফসল নষ্ট হয়ে আমার সম্পূর্ণ টাকা লোকসান হয়ে যায়। এ অবস্থায় সরকার থেকে সহযোগিতা না পেলে খুবই দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে দিন পার করতে হবে।

ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আজগর আলী জানান, মৌসুমের শুরুতে কৃষকরা বৈরি আবহাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি সরে গেলে পরবর্তীতে অনেকেই আবার নতুন করে আবাদ করলেও সময় পার হয়ে যাওয়ায় সেখানেও তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে আর্থিক কিংবা অন্যভাবে প্রণোদনা এলে তা কৃষকদের মধ্যে বন্টন করা হবে।

তিনি আরো জানান, যেহেতু এখন বোরো ধানের আবাদ হচ্ছে। তাই কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এই আবাদ বৃদ্ধির প্রতি উৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে রবিশস্যের উৎপাদন কম হওয়াই আগামীতে দাম বৃদ্ধির শঙ্কাও করেন তিনি।

Facebook Comments
Print Friendly, PDF & Email
সংবাদটি শেয়ার করুন


আরো সংবাদ