নোটিশ :
সংবাদকর্মী নিচ্ছে অন্যদৃষ্টি। আগ্রহীগন সিভি পাঠান- 0nnodrisrtynews@gmail.com
১২ মে ২০২১, ০১:৩৯ অপরাহ্ন

রায়পুরে সয়াবিনের বাম্পার ফলন

মোহাম্মদ আলী, লক্ষ্মীপুরঃ
বুধবার, ৭ এপ্রিল, ২০২১, ৭:৫৩ পূর্বাহ্ন

“আঁচলে মেঘনার মায়া, ডাকাতিয়ার বুকে- রহমত খালী বয়ে চলে মৃদু এঁকেবেঁকে নারিকেল, সুপারী আর ধানে ভরপুর/ আমাদের আভাসভুমি প্রিয় লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর। কে কখন ছড়াটি লিখেছিলেন জানা যায়নি তবে, নারকেল, সুপারী, আর ধানের সঙ্গে যোগ হয়েছে সয়াবিন। মেঘনা উপকূলবর্তী লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার মেঘনা নদীতে জেগে উঠা চরইন্দুরীয়া, চরজালিয়া, চরঘাসিয়া, চরকাছিয়া, টুনির চর, ও কানিবগার চরের কয়েক হাজার একর জমির সয়াবিনের চাষ হয়।  বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে এবারও সয়াবিনের প্রচুর পরিমানে ফলন হয়েছে। এখানকার সাতটি বড় চরে এখন যতদূর চোখ যায় সয়াবিনের সবুজ চারা যেন হাতছানি দিয়ে ডাকে। এতে দারুণ উচ্ছ্বসিত স্থানীয় কৃষকেরা। ধান ও নারকেল-সুপারির পাশাপাশি চতুর্থ প্রধান অর্থকরী ফসল হিসেবে রায়পুরে সয়াবিনের চাষাবাদ দিন দিন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, যা গত ২০ বছর আগে শুরু হয়।

বর্তমানে রায়পুর উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও সাতটি চরে সয়াবিনের চাষ হয়। স্থানীয় কৃষকেরা মেঘনা নদীতে জেগে ওঠা চরইন্দুরিয়া, চরজালিয়া, চরঘাসিয়া, চরকাছিয়া, টুনুরচরও কানিবগার চরের হাজার হাজার একর জমিতে সয়াবিন চাষ করছেন। এসব চরের মাটি দোআঁশ জাতীয় হওয়ায় একবার লাঙ্গল চালালেই তা সয়াবিন চাষের উপযোগী হয়ে ওঠে। লাভও ভালো হয়। সে জন্য কৃষকেরা দিন দিন সয়াবিন চাষে ঝুঁকছেন।

কৃষক ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসই হলো সয়াবিন আবাদের সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। সয়াবিন খেতে খুব একটা সারও দিতে হয় না। আবার নিড়ানি দিয়ে আগাছাও পরিষ্কার করতে হয় না। গাছ বড় হলে এক-দুবার কীটনাশক দিলেই চলে, এই যা খরচ। সব মিলিয়ে চারা গজানোর ১২০ দিনের মধ্যে ফসল ঘরে আসে।

কৃষি বিভাগ এবার রায়পুরে মোট সাড়ে ৮ /৪৪৯ হেক্টর জমিতে সয়াবিন চাষের ল্যমাত্রা নির্ধারণ করে। তবে আবাদ হয় আরও ৩০ হেক্টর বেশি জমিতে। প্রতিবছর রায়পুর উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচটি ইউনিয়নে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার সয়াবিন কেনাবেচা হয়। এ জন্য এটিকে কৃষকেরা ‘সোনার ফসল’ বলে থাকেন। কৃষকেরা চলতি মাসের শেষের দিকে  ফসল ঘরে তুলতে শুরু করবেন।

সয়াবিনকে কেন্দ্র করে উপজেলার হায়দরগঞ্জ বাজারের চেহারা গত ২০ বছরে বদলে গেছে। ছোট এই বাজারটিতে ইতিমধ্যে সয়াবিনের চারটি চাতাল ও ৪০-৫০টি পাইকারি দোকান গড়ে উঠেছে। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী  মোল্লারহাঁটের মিয়ার বাজার, খাসেরহাট ও মোল্লারহাটের আখন বাজার, হাজীমারা ও আছে এমন ৩০টি পাইকারি দোকান। স্থানীয় কৃষি বিভাগ ও ব্যবসায়ীরা জানান, দেশে উৎপাদিত মোট সয়াবিনের ৯০ শতাংশই বিপণন হয় এই বাজারে। হায়দরগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী সাইজ উদ্দিন মোল্লা,হাবিব মিন্টু  জানান, দেশের খ্যাতনামা সয়াবিন তেল ও পোলট্রি খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশই এখান থেকে সয়াবিন সংগ্রহ করে থাকে। হায়দারগঞ্জেও একটি কারখানা গড়ে উঠেছে। সয়াবিনের তৈরী খাবার সয়াবিনে দানা অনেকে রান্না করে খায়, সয়াবিন থেকে তৈরী দুধ দিয়ে চা ছাড়াও মুখরোচক খাবার বানান যায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তফা হাসান ইমাম বলেন, আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ভালো ফলন হয়েছে,এই উপজেলায় ব্যাপক সয়াবিন উৎপাদিত হয়। আমাদের কাছে সয়াবিন দিন বদলের ফসল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

Facebook Comments
Print Friendly, PDF & Email
সংবাদটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো সংবাদ