নোটিশ :
সংবাদকর্মী নিচ্ছে অন্যদৃষ্টি। আগ্রহীগন সিভি পাঠান- 0nnodrisrtynews@gmail.com
১০ মে ২০২১, ০২:৪৪ অপরাহ্ন

নওগাঁয় পৈতিক সুত্রে প্রাপ্ত জমি নিয়ে বৃদ্ধা হয়রানীর শিকার, ন্যায় বিচার দাবি

আর আর চৌধুরী, নওগাঁ
মঙ্গলবার, ৪ মে, ২০২১, ৪:৪৯ অপরাহ্ন
নওগাঁয় পৈতিক সুত্রে প্রাপ্ত জমি নিয়ে বৃদ্ধা হয়রানীর শিকার, ন্যায় বিচার দাবি

নওগাঁর মহাদেবপুরে আয়েশা বেওয়া নামের এক বৃদ্ধার পৈতিক সুত্রে প্রাপ্ত জমি নিজ দখলে নেওয়ার ঘটনায় প্রতিপক্ষ মহল কর্তৃক স্থানিয় মিডিয়া কর্মীদের কাছে ভুল তথ্য সরবরাহ করে (বাঁশের বেড়াদিয়ে ৮ টি পরিবারকে অবরোদ্ধ করে রাখা হয়েছে) এমন সংবাদ বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশ করে নেওয়ার পর ঘটনাটি নিয়ে স্থানিয় সচেতন মহল ও গ্রামের লোকজনের মাঝে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এমনকি মিডিয়াতে ৮ টি পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখার সংবাদ প্রকাশের পর স্থানিয় থানা পুলিশও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

সংবাদ প্রকাশ ও প্রশাসনের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর থেকেই ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় লোকজনের মাঝে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি  হলে, আজ মঙ্গলবার (৪মে) ঘটনাটির সত্যতা যাচাইয়ে সরজমিনে ৩ জন মিডিয়াকর্মী ঘটনাস্থল নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার চেরাগপুর ইউনিয়নের পদ্দপুকুর গ্রামে প্রবেশ করে পাকা সড়কের উপর দাড়িয়ে থাকা কযেকজন নারীকে ( এগ্রামে বাশের বেড়াদিয়ে ৮ টি পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে সেই স্থানে যাব বলে জিজ্ঞাসা করিলে) এসময় ঐ নারীরা বলেন, আমাদের গ্রামে কেউ অবরোদ্ধ নেই বলে তারা সাংবাদিকদের উল্টো প্রশ্ন করেন, এমন মিথ্যা তথ্য কে আপনাদেরকে দিয়েছে, এরি এক পর্যায়ে ঐ নারীরা বলেন, ইট বিছানো রাস্তাদিয়ে সামনে যান, তাহলেই দেখতে পাবেন মূল ঘটনা।

নারীদের দেখানো রাস্তাদিয়ে মাত্র ২/৩ শ’ ফিট সামনে গ্রামের ভেতর গিয়েই চোঁখে পড়লো বাশের বেড়াদিয়ে ঘেড়া একটি খলিয়ান। ঘটনাস্থলে মোটর বাইক রেখেই সরজমিনে দেখা যায়, বাঁশের বেড়াদিয়ে ঘেড়া খলিয়ানের পূর্ব ও পার্শ্বে আনুমানিক প্রায় ৭ ফিট মানুষ চলাচলের রাস্তা ও পশ্চিম পার্শ্বেও একটি বাড়ি থেকে লোকজন বের হওয়ার জন্য প্রায় ৭ ফিট রাস্তা রেখে শুধু খলিয়ানটি বাঁশের বেড়াদিয়ে ঘিড়ে রাখা হয়েছে। সরজমিন কালে বেড়ার পূর্বদিকে রাখা রাস্তাদিয়ে ভেতরের দিকে এগিয়ে গিয়ে মোট ৪ টি পরিবার (বাড়ির) দেখামিলে এসময় একটি বাড়ির সামনে ৫/৬ জন নারীকে দেখতে পেয়ে তারা অবরুদ্ধ কিনা..? এমন প্রশ্ন করা হলে সাংবাদিকদের জানান, এ খলিয়ানের মাঝখান ( মধ্যে) দিয়েই দীর্ঘ ৩০/৩৫ বছর ধরে চলাফেরা করে এসেছি এবং মধ্যেদিয়ে আমরা চলাচলের রাস্তানিব এমন দাবি করেন। এসময় আপনাদের চলাচলের জন্য প্রায় ৭ ফিট রাস্তা ছেড়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমরা কেন সাইডদিয়ে চলাচল করিব, আমরা মধ্যে দিয়ে চলাচল করি, মধ্যে দিয়েই রাস্তা চাই। এমনই মহূর্তে ঐ জমির মালিকানা দাবিদার জৈনক আব্দুর রাজ্জাক নামের এক ব্যাক্তি খলিয়ানের পূর্ব পার্শ্বে৷ রাখা রাস্তাদিয়ে সংবাদকর্মীদের কাছে এসে বলেন, এজমি আমার বাবা আমার নাবালক ছেলের নামে রেজিঃ দিয়েছেন এবং আমি ইতিমধ্যেই জমিটি বিক্রির জন্য জমিটির পার্শ্ববর্তী বাড়ির মালিক জৈনক দুলালের কাছে থেকে বায়নার টাকাও নিয়েছি কিন্তু ছেলে নাবালক হওয়ার কারনে জমি রেজিস্ট্রি করে দিতে পারিনি দুলালকে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, এ খলিয়ানে আমার খড়ের পালা ও গরু রাখার জায়গাঁ ছিলো। সব ভেঙ্গে আয়েশা বেওয়া জমিটি পৈতিক সুত্রে মালিকানা দাবি করে তার লোকজন লাগিয়ে বাঁশের বেড়াদিয়ে ঘিড়ে নিয়েছেন খলিয়ানটি।

এসময় ৮ টি পরিবার বাশের বেড়ায় অবরোদ্ধ আছে কিনা জানতে চাইলে, তিনি সঠিক উত্তর না দিয়ে বলেন, খলিয়ানের মাঝখানে রাস্তাছিলো মানুষ চলাচলের কিন্তু সেটি বেড়াদিয়ে বন্ধ করে সাইডে রাস্তাদিয়েছে একারনেই অবরুদ্ধ বলতে পারেন।

এব্যাপারে জমির মালিকানা দাবিদার বৃদ্ধা আয়েশা বেওয়া ও  তার বড় বোন মৃত আমেনার ছেলে হাবিবুর রহমান জানান, জমির মূল মালিক ছিলেন মৃত তছির উদ্দীন। তছির উদ্দিন তার একমাত্র বড় ছেলে ও ৩ মেয়েকে  ছোট রেখে মৃত্যু বরন করেন।

এসময় বৃদ্ধা আয়েশা বেওয়া বলেন, আমার ভাই যদি কারো কাছে জমি বিক্রি করে থাকেন সেটি আমার ভাইয়ের অংশ বিক্রি করতে কিন্তু আমাদের ( বোনদের) জমি ত ভাই বিক্রি করেননি, এজন্যই পৈতিক সুত্রে আমরা জমির মালিকানা পেয়েছি এবং আমাদের জমি খলিয়ানটি আমরা বাশদিয়ে ঘিড়েনিলেও মানুষ যেন চলাফেরা করতে পারেন সে জন্যই খলিয়ানের ৩ সাইডে রাস্তা রেখেছি বাবা তারপর মানুষ কেন আমাদের সাথে সত্রুতা করে মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করার মাধ্যমে আমাদের হয়রানী করছে জানিয়ে তিনি ন্যায় বিচার দাবি করে প্রশাসনের আশুদৃষ্টি কামনা করেন।

বৃদ্ধার ছেলে মোঃ ইসরাফিল আলম বলেন, ওই জমিটি পৈতিক সুত্রে আমার মায়ের অংশ হিসেবে পেয়েছি, বলেই জমিটি বাঁশ দিয়ে ঘিরে নিয়েছি। তবে পেছনের বাড়ির লোকজন চলাচলের জন্য ৩ সাইডে পর্যাপ্ত রাস্তা রাখা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে মহাদেবপুর থানার ওসি আজম উদ্দিন মাহমুদ বলেন, আপনাদের ( সাংবাদিকদের) মাধ্যমে ঘটনাটি জানার সাথে সাথে ৩ মে সোমবার ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিলো জানিয়ে তিনি বলেন, যেহতু ঐ জমি নিয়ে বিজ্ঞ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে, এজন্য আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য বলা হয়েছে উভয় পক্ষকে।

Facebook Comments
Print Friendly, PDF & Email
সংবাদটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো সংবাদ