নোটিশ :
সংবাদকর্মী নিচ্ছে অন্যদৃষ্টি। আগ্রহীগন সিভি পাঠান- 0nnodrisrtynews@gmail.com
১২ মে ২০২১, ০২:১১ অপরাহ্ন

অজানার উদ্দেশ্যে ট্রেনে তুলে দেওয়া সেই শিশুক !

আর আর চৌধুরী, নওগাঁঃ
শুক্রবার, ৫ মার্চ, ২০২১, ৮:৪৬ পূর্বাহ্ন

নওগাঁর রাণীনগরের মা-বাবা হারানো ১০ বছরের শিশু রফিকুল ইসলামের দেখভাল করার দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন গোনা ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান আবুল হাসনাত খাঁন হাসান।

তিনি বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহীর কার্যালয়ে শিশু রফিকুলকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুনের কাছে হস্তান্তর করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ দুলু, কালিগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।

শিশু রফিকুল ইসলাম নওগাঁর রানীনগর উপজেলার গোনা ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের মৃত বাদেশ মন্ডলের ছোট ছেলে। সে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী। রফিকুলের বড় ভাই একজন প্রতিবন্ধী মানুষ। সে নিজের সংসার চালাতেই হিমশিম খায়। বাউন্ডুলে স্বভাবের ছেলে শিশু রফিকুলকে বিভিন্ন দোকানে কাজ করার জন্য রাখলে সে থাকে না। রফিকুল মাঝে মধ্যেই হারিয়ে যায়। একসময় রফিকুলকে তার ভাই ও ভাবী অজানার উদ্দ্যেশে ট্রেনে তুলে দেয়। এরপর সম্প্রতি রাজবাড়ি জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর রেলওয়ে স্টেশনে শিশু রফিকুলকে পাওয়া যায়। সেখানকার স্থানীয় সোনার বাংলা সমাজ কল্যাণ ও ক্রীড়া সংসদের আহ্বায়ক এসএম হেলাল খন্দকার শিশুটিকে বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে নিয়ে যান, সে সময় ভাই ও ভাবী কর্তৃক শিশুকে অজানার উদ্দেশ্যে পাঠানোর ঘটনাটি বিভিন্ন মিডিয়াতে প্রকাশের কারনে ব্যাপক আলোচিত হয় শিশুটি। পরে বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবগত করেন।

গোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হাসনাত খাঁন হাসান বলেন, অসহায় শিশু রফিকুলকে রাণীনগরে নিয়ে আসলে শিশু রফিকুলের দেখভাল করার দায়িত্ব আমি গ্রহণ করি। তাকে আমার বাসায় রাখি। এর কিছুদিন পরে একদিন বাসা থেকে কাউকে কোন কিছু না বলেই এমনকি তার নিজের পড়নের কোন কাপড় না নিয়েই শিশু

রফিকুল আবার হারিয়ে যায়। অনেক খোজাখুজির পর রফিকুলকে না পেয়ে আমি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করে থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করি। অনেক সন্ধানের পর রফিকুলকে গত মঙ্গলবার

টাঙ্গাইলের শখিপুর থেকে উদ্ধার করি। শিশুটি চরম বাউন্ডুলে স্বভাবের। আমার পক্ষে আর শিশুটির দেখভাল করা সম্ভব নয়। তাই বড় ধরনের কোন দুর্ঘটনা ঘটার আগেই রফিকুলকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর করেছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন জানান, শিশু রফিকুলের বড় ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে কোন শিশু সদনে রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Facebook Comments
Print Friendly, PDF & Email
সংবাদটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো সংবাদ