প্রফেসর ড. জিল্লুর রহমানের অপূরণীয় শূন্যতা সহজে পূরণ হবার নয়

প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলাম
বুধবার, ৪ জুন, ২০২৫, ১:০০ অপরাহ্ন

প্রফেসর ড. মো. জিল্লুর রহমান শুধু একজন শিক্ষক ছিলেন না—তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী সংগঠক, প্রজ্ঞাবান প্রশাসক, মননশীল সাহিত্যিক, নিবেদিতপ্রাণ গবেষক, সুদক্ষ কলামিস্ট এবং ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাসী এক মহৎ মানুষ। তাঁর জীবন ছিল আলোর মতো—সততা, ধৈর্য, জ্ঞান ও মূল্যবোধে পূর্ণ। সন্তানদের দৃষ্টিতে তিনি ছিলেন শ্রেষ্ঠ পিতা, আর শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি ছিলেন নির্ভরতার প্রতীক, আদর্শবান অভিভাবকসদৃশ প্রিয় শিক্ষক।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এবং ব্যক্তিগতভাবে আমি, ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলাম, তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার, সহকর্মী, শিক্ষার্থী এবং অগণিত শুভানুধ্যায়ীর প্রতি গভীর সমবেদনা ও আন্তরিক সহমর্মিতা প্রকাশ করছি।

প্রফেসর ড. মো. জিল্লুর রহমান আমাদের শিক্ষার্থীদের শুধু শিক্ষাই দেননি, তিনি শিখিয়েছেন কীভাবে মানুষ হতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বালুকণার সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর চিন্তা, তাঁর শ্রম, তাঁর স্বপ্ন। শিক্ষকতা থেকে প্রশাসন, সাহিত্য থেকে সমাজচিন্তা—প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি রেখে গেছেন তাঁর গৌরবময় পদচিহ্ন। তাঁর হাসিমাখা মুখ, মমতাভরা দৃষ্টি, জ্ঞানগর্ভ বক্তৃতা এবং মানবিক আচরণ আমাদের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

প্রফেসর ড. জিল্লুর রহমানের অপূরণীয় শূন্যতা সহজে পূরণ হবার নয়। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার তথা শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী গভীরভাবে শোকাহত, বিমূঢ় ও ব্যথিত। আমরা সকলে মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি—

“হে আল্লাহ, আপনি তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন, তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ স্থানে সমাসীন করুন এবং তাঁর পরিবারকে এই শোক সইবার শক্তি দান করুন।”

আমাদের প্রিয় প্রফেসর ড. জিল্লুর রহমান এর বিদায়ে যে হৃদয়ভাঙা বেদনার সূচনা হলো, তা শিক্ষাজীবন, সহকর্মিতা ও মানবিকতার এক বিরল অধ্যায়ের অবসান ঘটাল। তিনি ছিলেন আমাদের শিক্ষক, অভিভাবক, পথপ্রদর্শক ও প্রেরণার উৎস। তাঁর স্মৃতি আমাদের কর্মে, চিন্তায় ও ভবিষ্যৎ পথচলায় অনন্ত অনুপ্রেরণার বাতিঘর হয়ে রইবে।’

লেখক: ভাইস-চ্যান্সেলর

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি)।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ