পাওনা মাত্র ৩৬৫ টাকা চাওয়ায় মিরপুরের পিতা-পুত্রকে মারধর, পিতা নিহত

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২:১৯ অপরাহ্ন
নিহত মানিক সর্দার

রাশেদুজ্জামান রিমন।।

বিছালী বিক্রির পাওনা মাত্র ৩৬৫ টাকা চাওয়ার অপরাধে মিরপুরের পিতা-পুত্রকে ভেড়ামারার ফারাকপুর রেলগেটে পিটিয়ে রক্তাত্ত আহত করা হয়।

ঘটনার ১৪ দিনের মাথায় আজ ১৩ ডিসেম্বর শুক্রবার ভোরে আহত পিতা মানিক সর্দার (৫০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

অভিযোগ পেয়ে মিরপুর থানা পুলিশ মানিক সর্দারের লাশ উদ্ধার করে পোষ্ট মর্টেমের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। পজিশন অব অকারেন্স যেহেতু ভেড়ামারা থানা এলাকায় মামলাটিও হবে ভেড়ামারা থানাতেই।

তবে আহত অবস্থায় পিতা-পুত্র ভেড়ামারা ষোলদাগ হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভেড়ামারা থানায় মামলা করতে গেলে থানা সে সময় মামলা না নিয়ে ফিরিয়ে দেয়।

একই সাথে ষোলদাগ হাসপাতালও পিতা-পুত্রকে এসল্ট সার্টিফিকেট দিয়ে রিলিজ করে দেয়।

জানা গেছে সে মিরপুর উপজেলার বহলবাড়ীয়া ইউনিয়নের খাদিমপুর এলাকার মৃত আফসার সরদারে ছেলে। পিতাকে মারধরের সময় আহত হন মানিক সরদারে ছেলে মাসুম সরদার (২০)।

মাসুম সরদার জানান, আমি এবং আমার বাবা মানিক সরদার বিছালীর ব্যবসা করি। আমাদের স্যালোইঞ্জিন চালিত আলমসাধু গাড়ী করে বিছালী নিয়ে গিয়ে গ্রামে গ্রামে বিক্রি করি। মাস খানেক আগে ভেড়ামারা উপজেলার ফারাকপুর এলাকার রিজেক মৃধা নামের এক দোকানীর কাছে বিছালী বিক্রি করি। এসময় তিনি বিছালীর দাম ৩৬৫ টাকা বাঁকী রাখেন। বলেন পরে এসে নিয়ে যেতে। আমি এবং আমার বাবা গত ২৯ নভেম্বর ওই এলাকায় আবার বিছালী বিক্রি করতে যায়। এসময় আমি পাওনা টাকা চাইতে গেলে আমাকে গালিগালাজ করে। আমার বাবা তখন বলেন, “ভাই টাকা দেওয়া কথা ছিলো টাকা টা দেন। আমরা গরিব মানুষ।”

এ কথা শুনে রিজেক মৃধা ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, কোন টাকা তোরা পাবি না। তাই বলে হাড়–ড়ি দিয়ে আমার বাবাকে আঘাত করে। আমি ঠেকাতে গেলে আমাকেও মারধর করে। পরে তার কয়েকজন লোক এসে আমাকে এবং আমার বাবাকে মারধর করে। এর পরে স্থানীয়রা আমাদের দুজনকে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরের দিন হাসপাতার কর্তৃপক্ষ আমাদের ছাড়পত্র দিয়ে মুক্ত করে দেন।

এর পর থেকে বাড়ীতে এসে চিকিৎসা গ্রহণ করি। এ ঘটনায় আমরা ভেড়ামারায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করি। এ ব্যপারে জানতে চাইলে মাসুমের বড় ভাই সুজন জানান, আমরা ভেড়ামারা থানায় অভিযোগ দেয়। কিন্তু ভেড়ামারা থানায় খোঁজ নিতে গেলে জৈনক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “তোরা নিজেরায় তো মেরেছিস। আর অভিযোগ পত্র হারিয়ে গেছে।” মিরপুর থানার ওসি আবুল কালাম জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়না তদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। বিষটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ