নোটিশ :
সংবাদকর্মী নিচ্ছে অন্যদৃষ্টি। আগ্রহীগন সিভি পাঠান- 0nnodrisrtynews@gmail.com
২৮ অক্টোবর ২০২১, ০১:৪৪ অপরাহ্ন

দশ হাজার টাকার মুচলেকায় জামিন পেলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস

অন্যদৃষ্টি ডেস্ক
বুধবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২১, ৯:২২ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশের প্রথম এবং একমাত্র নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে সরকারের দায়ের করা একটি মামলায় দশ হাজার টাকার মুচলেকায় জামিনের আদেশ দিয়েছে ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালত।

গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান হিসেবে ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস সহ প্রতিষ্ঠানের  চার জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে গত ৯ সেপ্টেম্বর এই ফৌজদারি মামলাটি দায়ের করেন সরকারের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদফতরের শ্রম পরিদর্শক আরিফুজ্জামান।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদফতর ড. ইউনূসের গ্রামীণ টেলিকম পরিদর্শনে গেলে সেখানে শ্রম আইনের কিছু লঙ্ঘন নজরে আসে। এর মধ্যে রয়েছে ১০১ জন শ্রমিক-কর্মচারীকে স্থায়ী করার কথা থাকলেও তাদের স্থায়ী করা হয়নি; শ্রমিকদের অংশগ্রহণের তহবিল ও কল্যাণ তহবিল গঠন করা হয়নি; এছাড়া কোম্পানির লভ্যাংশের পাঁচ শতাংশ শ্রমিকদের দেওয়ার কথা থাকলেও তা তাদের দেওয়া হয়নি।

এ মামলায় গত ১২ সেপ্টেম্বর ডঃ ইউনুসকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করা হয়। আজ মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) নির্ধারিত তারিখে তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে ঢাকার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক দশ হাজার টাকার মুচলেকায় তার জামিনের আদেশ দেন। মামলার অপর অভিযুক্তরা হলেন- প্রতিষ্ঠানের এমডি মো. আশশরাফুল হাসান, পরিচালক নুরজাহান বেগম এবং মো. শাহজাহান।

ডঃ মুহাম্মদ ইউনুসের প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক দারিদ্র বিমোচনে সফলতা অর্জন করায় ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল পুরষ্কারে ভূষিত হন এই বাংলাদেশি অর্থনীতিবিদ। অবসর গ্রহণের সময়সীমা নিয়ে এক বিতর্কের পর ২০১১ সালে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে ড. মুহম্মদ ইউনুসকে অপসারণ করা হয়।

এর পর ২০১৭ সালের মার্চ  মাসে  ডঃ ইউনূসের বিরুদ্ধে দুইদিনে ১০টি মামলা রুজু হয়। গ্রামীণ টেলিকমের সাবেক ও বর্তমান ১০ জন কর্মী গ্রামীণ টেলিকম এবং এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ড. ইউনুস ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজনীন সুলতানা ও উপ-মহাব্যবস্থাপক খন্দকার আবু আবেদীনকেও আসামি করা হয়।

এর মধ্যে তিনটি মামলায় তৃতীয় শ্রম আদালত ২০১৯ সালের ৮ অক্টোবর তিন আসামিকে হাজিরের নির্দেশ দিলে নাজনীন সুলতানা ও আবু আবেদীন আদালতে হাজির হয়ে জামিন নেন। আর বিদেশে অপবস্থানরত ড. ইউনুস আদালতে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

এরপর ড. ইউনুস দেশে ফিরে ২০২০ সালের ৩ নভেম্বর সংশ্লিষ্ট শ্রম আদালতে আত্মসমর্পন করে পাঁচ মামলায় জামিন নেন। পরবর্তীতে মামলা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন তিনি। হাইকোর্ট মামলা বাতিল প্রশ্নে রুল জারি করেন ও মামলার কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। তবে  হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

এ ছাড়া গ্রামীণ টেলিকমের ৩৮ কর্মীকে চাকরিতে পুনর্বহাল বিষয়ে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন না করার অভিযোগে এ বছরের গোড়ার দিকে আদালত অবমাননার একটি আবেদনের শুনানি নিয়ে করোনাকালীন আদালত তাকে ভার্চ্যুয়ালি উপস্থিত হতে নির্দেশ দেয় ।

এ অনুসারে গত ১৬ মার্চ  প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও প্রতিষ্ঠানটির ভাইস চেয়ারম্যান (বর্তমান) আশরাফুল হাসান আদালতে ভার্চ্যুয়ালি উপস্থিত হন। আদালতের আদেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল জানিয়ে আদেশ প্রতিপালন না হলে সেটা অনিচ্ছাকৃত-এমন কথা উল্লেখ করে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং প্রতিষ্ঠানটির তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আশরাফুল হাসান।

Facebook Comments
Print Friendly, PDF & Email
সংবাদটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো সংবাদ