নোটিশ :
সংবাদকর্মী নিচ্ছে অন্যদৃষ্টি। আগ্রহীগন সিভি পাঠান- 0nnodrisrtynews@gmail.com
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:০৮ পূর্বাহ্ন

তাসনিম আরা’র সাফল্যে আনন্দিত গ্রামবাসী

নওগাঁ প্রতিনিধি
মঙ্গলবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৮:১১ পূর্বাহ্ন

গ্রামের মেয়ে তাসনিম আরা’র সাফল্যে আনন্দিত গ্রামবাসী। ৪২তম বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে নওগাঁর ধামুরহাট উপজেলার গ্রামের কৃষকের মেয়ে সুপারিশ প্রাপ্ত হওয়ায় গ্রামের কৃষক পরিবারের মাঝে আনন্দের বন্যা বইছে।

গ্রামের মেয়ের সাফল্যে এলাকাবাসী গর্ববোধ করছে। নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফলের জন্য ঐ বাড়িতে ভিড় করছে। এদিকে এলাকার সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা প্রদানই তাসনিম আরা’র প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন।

জানা গেছে, গত (৯ সেপ্টেম্বর-২০২১) বৃহস্পতিবার বিকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ৪২তম বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের ৪ হাজার শিক্ষার্থীর চুড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের কৃষক পরিবারের মেয়ে তাসনিম আরা’র নাম উত্তীর্ণের তালিকায় আসে। মহূর্তের মধ্যেই এ খবর ছড়িয়ে পরলে গ্রামের মানুষদের মাঝে আনন্দের বন্যা বইতে শুরু করে।

তাসনিমের বাবার নাম মোঃ আতোয়ার হোসেন এবং মায়ের নাম মাসুদা বেগম। তার বাবার পেশা কৃষি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিজ আবাদী জমিতে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে ফসল ফলিয়েই সংসার চালান। তাদের পরিবারের দুই সন্তান। মেয়ে বড় এমবিবিএস পাশ করেছে, আর ছেলে আল মুহি দিনাজপুর হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়ণ বিষয়ে অনার্স পাশ করেছে। বর্তমানে সে বিসিএসের জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছে। ছোট সংসারে কৃষিই একমাত্র রোজগারের উৎস। বাবা মায়ের অসীম ধৈর্য্য, সাহস ও পরিশ্রমের জন্যই আজ দুই সন্তানই উচ্চ শিক্ষাই শিক্ষিত। মেয়ে তাসনিম আরা ছোট থেকে অত্যন্ত মেধাবী ছিলো।

তাসনিম আরা’র প্রথম থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত ক্লাশে ১নং রোল ছিলো। স্থানীয় ভেড়ম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০৭ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়ে রাজশাহী নিউ গর্ভঃ ডিগ্রী কলেজে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হয়। ২০০৯ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। সরকারি মেডিকেল কলেজে ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে উত্তীর্ণ হয়। পরবর্তীতে রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে ২০১৬ ইং সালে এমবিবিএস পাশ করেন। অনেক মেধাবী তাসনিম রংপুর মেডিকেলে অধ্যয়ণরত অবস্থায় ১৮০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মেডিসিন ও সার্জারী বিভাগের বেস্ট ইন্টার্ণ এ্যাওয়ার্ড লাভ করেন।

এমবিবিএস পাশ করার পর ২০১৭ সালে তাসনিম আরা’র বিয়ে হয় পার্শের গ্রামের ব্যবসায়ী ইসতিয়াক হাসান রামিমের সঙ্গে। তাদের ঘরে দেড় বছর বয়সী আফিফা ইবনাত নামে এক মেয়ে সন্তান রয়েছে।

এ ব্যাপারে গ্রামের মেয়ে তাসনিম আরা জানান, ছোট বেলা থেকে মানুষের সেবা করা ছিলো তার মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে সে ডাক্তার হওয়ায় স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। এলাকায় অসহায় মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে সে কঠোর পরিশ্রম করে এ পর্যায়ে এসেছেন।

Facebook Comments
Print Friendly, PDF & Email
সংবাদটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো সংবাদ