ইবিতে ব্যাচ-ডে অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে জুতা পায়ে উল্লাস, টি-শার্টে অশ্লীল লেখালেখি

ইবি প্রতিনিধি
শনিবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪, ৮:৫৫ অপরাহ্ন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ব্যাচ ডে উদযাপন করেছে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের (সংবর্ত-৩৬ ব্যাচ) শিক্ষার্থীরা। এক বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (৮ই ফেব্রুয়ারি) বিভিন্ন আয়োজনে তারা দিনটি উদযাপন করেছে।

এসময় শিক্ষার্থীদের একে অপরের গায়ে থাকা সাদা টি-শার্টে যৌন উত্তেজক, কুরুচিপূর্ণ ও অশ্লীল শব্দ এবং বাক্য লিখতে দেখা যায়। এছাড়া অনুষ্ঠানের মাঝেই ক্যাম্পাসে অবস্থিত বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিভাষ্কর্য ‘মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব ম্যুরাল’-এ জুতা পায়ে উঠেই উল্লাস, নাচানাচি, ফটোসেশন ও কালার ফেস্ট করেছে তারা। বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে ক্যাম্পাসজুড়ে। এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এবং শাখা ছাত্রলীগ।

সরেজমিনে দেখা যায়, ছেলে-মেয়েরা একে অপরের সাদা টি-শার্টে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ বাক্য লিখছেন। কেউ কেউ শিক্ষকদের নিয়েও বিভিন্ন অশ্লীল বাক্য লিখেছে নিজেদের টি-শার্টে। এদের মধ্যে কয়েকজনকে জুতা পায়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব ম্যুলারের উপর নাচানাচি ও রঙ-ছোড়াছুড়ি করতে দেখা যায়।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১০টার দিকে তাদের কর্মসূচির শুরু হয়। আনন্দ র‍্যালি, কেক কাটার মধ্যে দিয়ে ব্যাচ-ডে অনুষ্ঠানের কর্মসূচি শুরু করে তারা। এতে ব্যাচের বিভিন্ন বিভাগের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। পরে ফ্লাশমবের জন্য প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয় তারা। বেলা ১১টার দিকে ম্যুরালের সামনে ফ্লাশমব সম্পন্ন করেন শিক্ষার্থীরা। ফ্লাসমব শেষে বেলা ১২টার দিকে কালার ফেস্ট শুরু হয়। এর এক পর্যায়ে গ্রুপ ছবি তোলার জন্য সকলে মুত্যঞ্জয়ী মুজিব ম্যুরালের সামনে সমবেত হয়।

পরে তাদের মধ্যে ২০-২৫ জন জুতা পায়ে ম্যুরালের বেদীতে উঠে যান এবং উল্লাস করতে থাকেন। ম্যুরালের বেদীতে অবস্থানকালেও তাদেরকে রঙ ছোড়াছুড়ি ও নাচানাচি করতে দেখা যায়। এভাবে প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিকভাবে জুতা পায়ে ম্যুরালের বেদীতে ঘুরে ঘুরে ছবি তুলেন।

ব্যাচ-ডে অনুষ্ঠানের সমন্বয়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের ছাত্র মারুফ হাসান বলেন, যেটা হয়েছে তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। এমনটা হওয়ার কথা ছিলো না। আমরা নতুন হওয়ায় অনেক কিছু বুঝে উঠতে পারিনি। টি-শার্টে অশ্লীল বাক্যের বিষয়ে তিনি বলেন, কে বা কারা করেছে এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা।

সচেতন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছেন, শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে আনন্দ-উল্লাস করতে পারে, তবে একে অপরের টি-শার্টে কুরুচিপুর্ণ ও অশ্লীল কথাবার্তা লেখা অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া একজন শিক্ষার্থীর কাছে এমন আচরণ প্রত্যাশা করা যায় না।

শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল সকলের কাছে শ্রদ্ধা, আবেগ এবং ভালোবাসার জায়গা। সেখানে জুতা পায়ে উঠে উল্লাস করা এবং রঙ ছোড়াছুড়ি করা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং জঘন্য একটি কাজ। বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করা হবে। আমরা এর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসেন আজাদ বলেন, আচরণবিধির বিষয়ে দিকনির্দেশনা সাপেক্ষে তাদেরকে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তারা আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে। আমরা বিষয়গুলো দেখেছি এবং আগামী শনিবার প্রক্টর অফিসে তাদেরকে ডেকেছি। সার্বিক বিষয়গুলো আমরা খতিয়ে দেখব।

এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, এটার আয়োজক কারা বা কেন করেছে তা আমি জানি না। তবে যদি এমন কুরুচিপূর্ণ বাক্য কেউ ব্যবহার করে তাহলে অবশ্যই সেটি একটি নিন্দনীয় কাজ। আমি বিষয়টা খোজ খবর নিয়ে দেখব।

Facebook Comments
Print Friendly, PDF & Email
সংবাদটি শেয়ার করুন


আরো সংবাদ
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com