২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ || শুক্রবার || ১২:৫৭ অপরাহ্ন

এমপিও নীতিমালা ১৮ প্রভাষকদের এক চরম হতাশার নাম

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ প্রবেশনারী পদ হচ্ছে প্রভাষক পদ। ফলে সংগত কারনেই এই পদের সুযোগ -সুবিধা হওয়ার কথা। কিন্তু দীর্ঘ কাল ধরেই এই পদের সুযোগ-সুবিধা কমে আসছে। মূলতঃ ৫:২ রেশিও প্রথার কারণে এই প্রভাষকদের জীবন-মানের ১২টা বেজেছিল। কিন্তু এমপিও নীতিমালা ২০১৮ বৈষম্যের পাহাড় রচনা করে এ পদের ১৮টা বাজিয়েছে।
এখনই যদি এর আশু সুরাহা না করা হয় তবে উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে চরম অস্থিরতা তৈরি হবে যা জাতিকে মেধা শুন্যতার দিকে ধাবিত করবে। কারণ ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়।

নীতিমালা ১৮র মধ্যে প্রভাষকদের যে ক্ষতি করা হয়েছে তা নিম্নরূপ ঃ

১.দশ বছর সন্তোষজনক চাকরির পর এ স্কেলে বেতন বাড়বে ১০০০টাকা।

মূলত এই স্কেলটিকে উচ্চতর স্কেল হিসেবে এর আগে ধরা হয়নি কারণ স্কেলটি মূলত সহকারী প্রধান শিক্ষকদের জন্য। ফলে আগে এটাকে টাইম স্কেল হিসেবে না ধরে ৭ম গ্রেড ২৯০০০ টাকাকে ২২০০০ টাকা পরর্বর্তী স্কেল ধরত।

২. এর আগে ১০ এর নীতিমালার আগে দু বছরে ৮ম গ্রেড দেওয়া হত এবং ৮ বছরে ৭ম দেওয়া হত। কিন্তু ১৮তে এসে সবই তুলে দেওয়া হয়েছে। ক্রমেই যেন প্রভাষকের পৃথিবী ছোট হয়ে আসছে।

৩. প্রভাষককে রেশিও প্রথার কালো আইনে আটকিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই শিক্ষাগত যোগ্যতার পরেও অনুপাতের কারনে ৭ এ দুজন যাবে ৩৫৫০০ টাকায়,আর বাকীরা থাকবেন ২২০০০ টাকায়। বেতন ব্যবধান ১৩,৫০০ টাকা। হায়রে আমার দেশ! পর জন্মই কি আমার আজন্ম পাপ?

৪. আইনে বলা হয়েছে সহযোগী অধ্যাপকের অভিজ্ঞতা ছাড়া কেউ উপাধ্যক্ষ হতে পারবেনা, আবার উপাধ্যক্ষ ছাড়া কেউ অধ্যক্ষ হতে পারবেনা। তার মানে কপাল দোষে যারা সহকারী অধ্যাপক হতে পারলনা তাদের কপালে আর কিছুই নাই। যদিও ১০ বছরে ১০০০ ও ১৬ বছরে ২৯০০০ টাকা স্কেলে যাওয়া যাবে।

কিন্তু আজ যে চাউল ৬০  টাকায় খেতে হয় ১০ বছর তা আল্লাহর রহমতে ১৫০টাকায় খেতে হতে পারে। অন্য হিসাব নাই বা করলাম।

৫. প্রভাষক স্কেলকে সহকারী শিক্ষকের স্কেলের চেয়ে বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নিচে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেমন-
সহকারী শিক্ষক প্রথম টাইম স্কেলে পাবে ১৬০০০ থেকে ২২০০০টাকা= ৬,০০০ টাকা বৃদ্ধি। আর প্রভাষকের বৃদ্ধি পাবে সে ক্ষেত্রে ১০০০ টাকা। সহকারীর দ্বিতীয়টা পেয়ে যখন ২৩০০০ এ যাবে,ততক্ষণে সহকারীর চেয়ে প্রভাষক টাকা কম পেল ৪,৩২,০০০ টাকা। আর পূর্বের দু বছরেরটা উঠিয়া দেওয়েতে ক্ষতি প্রায় লাখ টাকা!

একজন প্রভাষক সারাজীবনে কতই বা টাকা পায়? অথচ প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকা ঠকিয়ে দেওয়া হল। সহকারী অধ্যাপকের বঞ্চনার কথা হিসাব করলে ক্ষতির এই অংক ১৫ লাখে উঠবে। কেন এই বঞ্চনা? আমদের পিঠ অনেক আগেই দেয়ালে ঠেকে গিয়েছে। এখব ঠেকে যাওয়া এই পিঠে ওঁই পোকা বাসা বাধার উপক্রম। কারণ আমরা আমাদের অধিকার সম্বন্ধে সচেতন নই বিধায় বারবার শুধু এখানেই হামারের আঘাত আসে। প্রভাষক স্কেলের এই সমস্ত বৈষম্য দূর না করলে তা জাতির জন্য শুভকর হবেনা। তাই   জাতির মঙ্গলার্থেই প্রভাষক স্কেলের বর্তমান এই বৈষম্য দূর করে চলনসই একটি নীতিমালা প্রণয়নের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

-লেখক
মোঃ হাবিবুল্লাহ বাহার

প্রভাষক।

 

 

 

Facebook Comments


© All rights reserved © 2017 Onnodristy.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com