ব্রেকিং নিউজ
সংবাদকর্মী আবশ্যক। আগ্রহীগণ সিভি, ছবি এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিসহ আবেদন করুন - onnodristynews@gmail.com/ news@onnodristy.com. মুঠোফোন : ০১৯১১২২০৪৪০/ ০১৭১০২২০৪৪০।

রূপকথা নয়, রূপকথা

পারভীন আক্তার।।

 

ইংল্যান্ড।
এক একটি এলাকায় আছে একটি মাত্র স্কুল। এলাকার শিশুদের নিজ এলাকার স্কুলেই পড়তে হয়,বাধ্যতামূলকভাবেই।স্কুল পছন্দ করবার কোনো সুযোগ নেই। মজার বিষয় হোলো,ওখানে আমাদের মতো ভালো স্কুল,নামকরা স্কুল বলে কিছু নেই।দেশ জুড়ে একই মানের স্কুল,একই রুটিন,একই বই,একই যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক।

এখানে স্কুল-কলেজে কোনো ranking system নেই।

প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির সময় পরীক্ষা? ওরা কল্পনাও করতে পারে না। ৬ বছর মেয়াদী প্রাথমিক শিক্ষাকালে শিক্ষার্থীরা প্রথম পরীক্ষা দেয় স্কুল ছেড়ে যাবার আগে। ৬ষ্ঠ বছরে এসে একটা প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা নেওয়া হয়,তাতে পাশ,ফেল বা গ্রেডিং কিছুই নেই। মাধ্যমিকে প্রবেশকালে একটি মাত্র পরীক্ষা।তাও পরীক্ষা পদ্ধতির সাথে পরিচিত হবার জন্য। এবং এটি বাধ্যতামূলকও নয়।পরীক্ষাটিতে অংশগ্রহণ না করেও মাধ্যমিক স্কুলে ভর্তি হতে পারে ওরা সরাসরি। ইংল্যান্ডের শিশুদের কোনো স্কুল ব্যাগ নেই।লাগে না।পুরো প্রাথমিকই শেষ করা যায় স্কুল ব্যাগ ছাড়াই।

কোনো নির্দিষ্ট পাঠ্যবই-ই নেই যে বাসায় নিয়ে পড়তে হবে।বাসায় বই-খাতাতো দূরের কথা একটা রংপেন্সিলও থাকে না। ছুটির সময় অবশ্য আনা যায় স্কুল লাইব্রেরির কমিক বা গল্পের বইগুলো এবং অবশ্যই নিজের পছন্দমতো।পড়াশুনা যা স্কুলেই। বাসায় কোনো লেখাপড়া নেই,নেই কোনো হোমওয়ার্ক। কারণ,আমাদের মতো বিভিন্ন অযুহাতে স্কুল ছুটি দিয়ে দেয় না ওরা। সারা বছর একই সময়ে সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৩:৩০ পর্যন্ত সক্রিয় কার্যক্রম চলে।

সপ্তাহে একদিন হোমওয়ার্ক দেয়া হয় ছুটির দিনে,তাও বিভিন্ন কুইজ বা ছবি আঁকা জাতীয় কিছু। হোমওয়ার্কের জন্যও সকলের জন্য থাকে নানারকম মেডেল,উদ্দীপনা বৃদ্ধির জন্য।

স্কুল খোলা সপ্তাহে ৫দিন।আর প্রতি ছয় সপ্তাহ পর এক সপ্তাহ ছুটি ওদের। টিফিন নেবার সুযোগ নেই ওদের। স্কুলেই এক একদিন এক এক খাবার। সপ্তাহে একদিন রান্নাও শেখানো হয় ওদের। প্রত্যেককে কিছু না কিছু রান্না করতে হয়। কারণ, বড় হলে নিজের খাবার নিজেই রান্না করতে হয় ওদের।  শুধু রান্না নয় কোন খাবারে কি পুষ্টিগুণ তাও শিখতে হয় ওদের।ক্লাস টু’তে পড়া একটি শিশুও খেয়াল রাখে কোন খাবারে কতটুকু ফ্যাট আর কতটুকু ক্যালরী।

শীত-গ্রীষ্ম বলে আলাদা সময় নেই ওদের।স্কুলে ২ঘন্টাই মাঠে খেলতে হয় ওদের।বিভিন্ন রকম খেলাধুলা।
মাধ্যমিকে কোচ যদি মনে করেন,কোনো শিশু বিশেষ কোনো খেলায় পারদর্শী, তাকে ভর্তি করা হয় স্থানীয় ক্লাবে।
প্রতিটি স্কুলে আছে ব্যায়ামাগার। সপ্তাহে একদিন সেখানে পাঠানো হয়।সাথে থাকে সুইমিং ড্রেস।সবার নিজের লকার আছে স্কুলে।

প্রতি কক্ষে ২৫ জন শিক্ষার্থী থাকে। একটি শ্রেণিতে শিক্ষক ১ জন।বৃটেনে একেবারে বিশ্ববিদ্যালয়ের আগ পর্যন্ত একমুখী শিক্ষা। অর্থাৎ সবাইকে সবকিছুই শিখতে হয়। বিজ্ঞান শিক্ষায় প্রাইমারী থেকেই ল্যাব, ব্যাবসা শিক্ষায় ছোট ছোট প্রজেক্ট,সমাজ বোঝাতে প্রায়ই মাঠ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয় শিক্ষার্থীদের।

শ্রেণিতে কোনো মেধাক্রম নেই,নেই খেলার মাঠে। সব দলীয় কাজ।’সবাই সমান’- মনোভাব নিয়ে বেড়ে ওঠে ওরা। স্কুলেই ওদের জন্মদিন উৎসব পালিত হয়,বছর জুড়ে বিশেষ বিশেষ অনুষ্ঠানে আছে বিশেষ বিশেষ পোশাক। তার মধ্যে পছন্দের কার্টুনের চরিত্রের পোশাকে স্কুলে যাওয়া দারুণ ব্যাপার!
এতোসব উৎসব আয়োজনের মধ্যেই গল্পচ্ছলে শিক্ষকরা শিখিয়ে ফেলেন বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস, মিশরীয় সভ্যতার ইতিহাস।

এখানকার প্রাথমিক শিক্ষকদের মাস্টার্স পাশ হতে হয়। চাকুরী লাভের পর শিশুদের মনস্তত্ত্ব বুঝতে নিতে হয় দীর্ঘ প্রশিক্ষণ।

শিশুদের বাবা-মা’ই মারতে পারেন না। শিক্ষকতো দুরের কথা। যতই বিরক্ত করুক না কেন ন্যুনতম বিরক্তিও প্রকাশ করতে পারেন না শিক্ষক।

ওখানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা পেশা অনেক সম্মানের। ১০ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন প্রাথমিক শিক্ষকের সম্মানী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের সমান। আমাদের দেশে শিশুর আচার,ব্যাবহার পারিবারিক শিক্ষা হলেও ওখানে তা প্রাতিষ্ঠানিক।যাতে করে সকল শিশু অভিন্ন মূল্যবোধ ও আচরণ নিয়ে বেড়ে ওঠে।

স্কুলে অনুপস্থিতিতে অভিভাবকদের জবাবদিহিতার পাশাপাশি গুণতে হয় মোটা অংকের টাকা।
অসুস্থ হলেও শিক্ষার্থীকে স্কুলে যেতে হয়।স্কুলের নির্ধারিত চিকিৎসক তার চিকিৎসা সেবা দেয়।তিনি পরামর্শ দিলেই কেবল শিক্ষার্থী বাসায় বিশ্রামে থাকতে পারে।

আমাদের দেশে বিশ্ববিদ্যালয় শেষে যেমন সমাবর্তন হয়,ইংল্যান্ডে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় শেষেও করা হয় সমাবর্তন অনুষ্ঠান।  বছর শেষে শেষ ক্লাসে শিক্ষকের জন্য উপহার নিয়ে যাওয়া হয়,একই সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় পরবর্তী বছরের নতুন শিক্ষকের সাথে।

নতুন নতুন এরকম নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে চলছে ইংল্যান্ডের স্কুলগুলো। আমরাও…..!

 

লেখক :

সহকারি শিক্ষক, নজরুল নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খুলনা।

তথ্য সূত্র :

শাত শামীম, শিক্ষানবিশ,মাস্টার্স। ইংল্যান্ড।

(সংক্ষেপিত)

Facebook Comments


শিরোনাম
মাগুরায় প্রতিপক্ষের হামলায় ১ আওয়ামীলীগ কর্মী নিহত খামারপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাক্তন  শিক্ষার্থীদের ঈদ পূর্নমিলনী ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান এতিম-মিসকিনদের পেটে লাথি মারা হলো : রুহুল কবির রিজভী কুষ্টিয়ার কুমারখালিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত-১ ঘাতকচক্র বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেও তাঁর স্বপ্ন ও আদর্শের মৃত্যু ঘটাতে পারেনি : প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ প্রয়োজন কেন? জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডের পূর্বের ঘটনাসমূহ (১৪ তম পর্ব) নেহা আমানদীপ ক্যামেরাবন্দি ‘ঢাকাইয়া গাল্লি বয়’ রানা বিশ্বজুড়ে ভাইরাল রাঙ্গুনিয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের উদ্দ্যোগে জাতীয় শোক দিবস উদযাপন উপলক্ষে শোক র‍্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ঝিনাইদহে ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার  সিরাজগঞ্জে র‌্যাব-১২ এর অভিযানে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ০১ জন মহিলা আটক চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার সাথে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ে হিজরি নববর্ষ উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ চামড়ার বাজারে ধস নেমেছে গ্রাম কালেকশনের ১০   টাকা ক্ষুধার যন্ত্রণায় খরচ করায় বেধরক মারপিট করলেন শিক্ষক ভারতে পাচার করা  ৭ নারী ও শিশুকে বেনাপোলে হস্তান্তর ঝিনাইদহে এক কিশোরী গনধর্ষনের শিকার মহেশপুরে গুণীজন সম্মাননা ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হলো। মোংলায় ঘের ভিত্তিক চার দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন ফুলপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ৪০ টিভি পর্দায় সিয়াম-তিশার ‘ফাগুন হাওয়ায়’ নারীর হাত থেকে কোনো রকমে নিজেকে বাঁচালেন সালমান! রাঙ্গুনিয়ায় রাস্তা যানজট নিরসনে ব্যস্ত পোমরা ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নাসিরনগরের চাতলপাড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আবারো ষড়যন্ত্র চলছে। যশোরের নাভারণে চলছে জমজমাট জুয়ার আসর; প্রশাসনের চোখ ফাকি দিয়ে  
© All rights reserved © 2017 Onnodristy.Com
Theme Download From ThemesBazar.Com