১৫ অক্টোবর ২০১৮ || সোমবার || ০৫:৪৬ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি
সংবাদকর্মী আবশ্যক। আগ্রহীগণ সিভি, ছবি এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিসহ আবেদন করুন - onnodristynews@gmail.com/ news@onnodristy.com. মুঠোফোন : ০১৯১১২২০৪৪০/ ০১৭১০২২০৪৪০।

আ’লীগ নেতা স্কুলের সভাপতি লাপাত্তা ৪ মাস শিক্ষকদের বেতন বন্ধ

শাহনেওয়াজ সুমন, ঝিনাইদহ।।

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার হাটফাজিলপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আওয়ামীলীগ নেতা তোফাজ্জেল আহম্মেদ ৪ মাস ধরে লাপাত্তা। ফলে স্কুলের শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন বন্ধ রয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে শিক্ষকদের কাছে চাঁদা দাবি, শিক্ষকদের শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত করা, প্রতিষ্ঠান থেকে আর্থিক সুবিধা নেয়া এবং দুইটি চেকের পাতা জোর করে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়াসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও অপকর্মের অভিযোগ ওঠায় তার বিরুদ্ধে তদন্তে নামে উপজেলা প্রশাসন। স্কুল সভাপতির বিরুদ্ধে শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার উসমান গণি যথাযথস্থানে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এর একটি কপি দেওয়া হয় যশোর বোর্ডের চেয়ারম্যানকে। কিন্তু চার মাস অতিবাহিত হলেও যশোর শিক্ষাবোর্ড কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

আর এই সুযোগে সংখ্যালঘু প্রধান শিক্ষক উপানন্দ কুমার মন্ডলের সন্তানদের গুম করার হুমকি দিচ্ছে সভাপতি তোফাজ্জেল। এ বিষয়ে শৈলকুপা থানায় জিডিও করেছেন প্রধান শিক্ষক। শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের সভাপতি তোফাজ্জেল আহম্মেদ গত ২৩ এপ্রিল শিক্ষকদের লাঞ্চিত করেন। প্রতিবাদে ২৪ এপ্রিল বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে সভাপতির বিচারের দাবীতে তার বাড়ীর সামনে অবস্থান কর্মসুচি গ্রহন করে আন্দোলন করতে থাকে। সুবিচার পাওয়ার আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করে। এ ঘটনার পর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতিসহ উপজেলার সকল শিক্ষক ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে অভিযুক্ত সভাপতির শাস্তি দাবি করেন।

এদিকে প্রধান শিক্ষকসহ চার জন সহকারী শিক্ষককে লাঞ্চিত করার ঘটনায় সভাপতির বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষক উপানন্দ কুমার মন্ডল বাদী হয়ে শৈলকুপা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলা হওয়ার পর থেকেই সভাপতি লাপাত্তা রয়েছে। এ ঘটনা নিয়ে পরিস্থিতিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ উসমান গনি ২৫ এপ্রিল ২০১৮ খ্রিঃ তারিখে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা সমাজসেবা অফিসারের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটি সভাপতির বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাৎ, চাঁদাদাবি সহ বিভিন্ন অভিযোগ প্রমাণ পাই। বিদ্যালয়ে সুষ্ঠ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে শৈলপুার ইউএনও উসমান গণি যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর সভাপতির অপসারণের সুপারিশসহ প্রতিবেদন প্রেরণ করেন। কিন্তু প্রায় চার মাস অতিবাহিত হলেও সভাপতির বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি যশোর শিক্ষা বোর্ড। প্রধান শিক্ষক উপানন্দ কুমার মন্ডল জানান, তিনি বোর্ডের চেয়ারম্যান, বিদ্যালয় পরিদর্শকের নিকট একাধিকবার গিয়েছেন। কিন্তুকোন কাজ হয়নি। নতুন সভাপতি নিয়োগ না হওয়ায় শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন ভাতা বন্ধ রয়েছে। তারা এখন মানবেতর জীবন যাপন করছে।

 

Facebook Comments


© All rights reserved © 2017 Onnodristy.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com