ব্রেকিং নিউজ
সংবাদকর্মী আবশ্যক। আগ্রহীগণ সিভি, ছবি এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিসহ আবেদন করুন - onnodristynews@gmail.com/ news@onnodristy.com. মুঠোফোন : ০১৯১১২২০৪৪০/ ০১৭১০২২০৪৪০।

কেয়ামতের যেসব আলামত বর্তমানে চলমান

জিল্লুর রহমান।।

১. যুদ্ধলব্ধ মালকে ব্যক্তিগত সম্পদ মনে করা হবে।
২. আমানতকে গনিমত সাব্যস্ত করা হবে। (অর্থাৎ হালাল মনে করে খেয়ে ফেলবে।)
৩. জাকাতকে জরিমানা মনে করা হবে। (অর্থাৎ আদায় করতে কুন্ঠিত হবে।)
৪. ইলমে দীন পার্থিব স্বার্থের জন্য অর্জন করা হবে।
৫. পুরুষ তার স্ত্রীর আনুগত্য করবে।
৬. মায়ের অবাধ্যতা করতে শুরু করবে।
৭. বন্ধুকে নিকটে রাখবে ও পিতাকে দূরে সরিয়ে দিবে।
৮. মসজিদসমূহে হট্টগোল শুরু হবে।
৯. পাপাচারী ব্যক্তি কওমের নেতা হয়ে যাবে।
১০. হীনতম ব্যক্তি জাতির প্রতিনিধিত্ব করবে।
১১. অত্যচারের ভয়ে দুষ্ট লোকদের সম্মান করা হবে।
১২. গায়িকা নারীদের গান-বাদ্য ব্যাপক হবে।
১৩. বাদ্যযন্ত্রের প্রসার ঘটবে।
১৪. মদ পান করা হবে।
১৫. উম্মতের পরবর্তী লোকেরা তাদের পূর্ববর্তীদের প্রতি অভিসম্পাত করবে।

যেমন সুনানে তিরমিজির বর্ণনায় এসেছে-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا اتُّخِذَ الفَيْءُ دُوَلاً، وَالأَمَانَةُ مَغْنَمًا، وَالزَّكَاةُ مَغْرَمًا، وَتُعُلِّمَ لِغَيْرِ الدِّينِ، وَأَطَاعَ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ، وَعَقَّ أُمَّهُ، وَأَدْنَى صَدِيقَهُ، وَأَقْصَى أَبَاهُ، وَظَهَرَتِ الأَصْوَاتُ فِي الْمَسَاجِدِ، وَسَادَ القَبِيلَةَ فَاسِقُهُمْ، وَكَانَ زَعِيمُ القَوْمِ أَرْذَلَهُمْ، وَأُكْرِمَ الرَّجُلُ مَخَافَةَ شَرِّهِ، وَظَهَرَتِ القَيْنَاتُ وَالمَعَازِفُ، وَشُرِبَتِ الخُمُورُ، وَلَعَنَ آخِرُ هَذِهِ الأُمَّةِ أَوَّلَهَا، فَلْيَرْتَقِبُوا عِنْدَ ذَلِكَ رِيحًا حَمْرَاءَ، وَزَلْزَلَةً وَخَسْفًا وَمَسْخًا وَقَذْفًا وَآيَاتٍ تَتَابَعُ كَنِظَامٍ بَالٍ قُطِعَ سِلْكُهُ فَتَتَابَعَ.
অর্থাৎ হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যখন যুদ্ধলদ্ধ সম্পদ নিজের সম্পদে পরিণত হবে, আমানতের মাল লুটের মালে পরিণত হবে, জাকাতকে জরিমানা মনে করা হবে, ধর্ম বিবর্জিত শিক্ষার প্রচলন হবে, পুরুষ নিজের স্ত্রীর অনুগত হয়ে যাবে, কিন্তু মায়ের অবাধ্য হবে, বন্ধু-বান্ধবকে কাছে টানবে, কিন্তু পিতাকে দূরে ঠেলে দিবে, মসজিদে কলরব ও হট্টগোল হবে, পাপাচারীরা গোত্রের নেতা হবে, নিকৃষ্ট লোক সমাজের কর্ণধার হবে, কোনো মানুষের অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য তাকে সম্মান দেখানো হবে, গায়িকা-নর্তকী ও বাদ্যযন্ত্রের বিস্তার ঘটবে, মদ পান করা হবে, এ উম্মতের শেষ সময়ের লোকেরা পূর্ববর্তী মনীষীদের অভিসম্পাত করবে, তখন তোমরা অগ্নিবায়ু, ভূমিধস, ভূমিকম্প, চেহারা বিকৃতি ও পাথর বর্ষণের শাস্তির অপেক্ষা করো, যা একটির পর একটি এমনভাবে প্রকাশ পাবে, যেমন একটি পুঁতির মালা কেটে দিলে তা একটির একটি পড়তে থাকে । (সুনানে তিরমিজি: ৪/৬৫, হা. নং ২২১১ প্র.দারুল গারবিল ইসলামি, বৈরুত)

সুনানে তিরমিজিতে আরও বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: فِي هَذِهِ الأُمَّةِ خَسْفٌ وَمَسْخٌ وَقَذْفٌ، فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ: يَا رَسُولَ اللهِ، وَمَتَى ذَاكَ؟ قَالَ: إِذَا ظَهَرَتِ القَيْنَاتُ وَالمَعَازِفُ وَشُرِبَتِ الخُمُورُ.
অর্থাৎ ইমরান বিন হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, এ উম্মতের মাঝে ভূমিধস, চেহারা বিকৃতি ও পাথর বর্ষণ হবে। তখন মুসলমানদের মধ্য হতে একজন বললো, হে আল্লাহর রাসুল, এটা কখন হবে? তিনি উত্তরে বললেন, যখন গায়িকা নারীদের গান-বাজনা ও বাদ্যযন্ত্রের প্রসার ঘটবে এবং মদপান করা হবে। (সুনানে তিরমিজি: ৪/৬৫, হা. নং ২২১২ প্র. দারুল গারবিল ইসলামি, বৈরুত)
এটা যে কেয়ামতের আলামতের অন্তর্ভুক্ত তা অন্য একটি বর্ণনা থেকে জানা যায়। সুনানে ইবনে মাজাহ এর বর্ণনায় এসেছে-

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ مَسْخٌ، وَخَسْفٌ، وَقَذْفٌ
অর্থাৎ আব্দুল্লাহ রা. সূত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি ইরশাদ করেছেন, কেয়ামতের পূর্বে ভূমিধস, চেহারা বিকৃতি ও পাথর বর্ষণ হবে। (সুনানে ইবনে মাজাহ: ২/১৩৪৯, হা. নং ৪০৫৯ প্র. দারু ইহইয়াইল কুতুবিল আরাবিয়্যা)

১৬. সময় খুব দ্রুতবেগে অতিবাহিত হবে। যেমন সহিহ ইবনে হিব্বানে বর্ণিত হয়েছে-

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَتَقَارَبَ الزَّمَانُ، فَتَكُونُ السَّنَةُ كَالشَّهْرِ، وَيَكُونُ الشَّهْرُ كَالْجُمُعَةِ، وَتَكُونُ الْجُمُعَةُ كَالْيَوْمِ، وَيَكُونُ الْيَوْمُ كَالسَّاعَةِ، وَتَكُونُ السَّاعَةُ كَاحْتِرَاقِ السَّعَفَةِ، أَوِ الْخُوصَةِ.
অর্থাৎ আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত কেয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না সময় নিকটতর বলে মনে হতে থাকবে; এমনকি বছর মাসের মতো, মাস সপ্তাহের মতো, সপ্তাহ দিনের মতো, দিন ঘন্টার মতো এবং ঘন্টা খেজুর গাছের শুকনো ডাল জ্বলার মতো দ্রুত অতিক্রম করবে। (সহিহ ইবনে হিব্বান: ১৫/২৫৭, হা. নং ৬৮৪২, প্র. মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত)

১৭. আমল কমতে থাকবে।
১৮. কৃপণতা বৃদ্ধি পাবে।
১৯. ফেতনা-ফাসাদ বেড়ে যাবে।
২০. অবৈধ হত্যা-খুন বৃদ্ধি পাবে।
যেমন সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: يَتَقَارَبُ الزَّمَانُ، وَيَنْقُصُ العَمَلُ، وَيُلْقَى الشُّحُّ، وَتَظْهَرُ الفِتَنُ، وَيَكْثُرُ الهَرْجُ. قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَيُّمَ هُوَ؟ قَالَ: القَتْلُ القَتْلُ.
অর্থাৎ আবু হুরাইরা রা. সূত্রে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, সময় নিকটতর হতে থাকবে, আমল কমে যেতে থাকবে, কৃপণতা ছড়িয়ে দেওয়া হবে, ফেতনার বিকাশ ঘটবে এবং হারজ ব্যাপকতর হবে। সাহাবায়ে কিরাম রা. জিজ্ঞেস করলেন, হারজ কী? নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হত্যা, হত্যা। (সহিহ বুখারি: ৯/৪৮, হা. নং ৭০৬১ প্র. দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)

২১. পৃথিবী থেকে ইলম উঠে যাবে, সমাজ অজ্ঞতায় ছেয়ে যাবে।
যেমন সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে-
قَالَ أَبُو مُوسَى: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ أَيَّامًا، يُرْفَعُ فِيهَا العِلْمُ، وَيَنْزِلُ فِيهَا الجَهْلُ، وَيَكْثُرُ فِيهَا الهَرْجُ. وَالهَرْجُ: القَتْلُ.
অর্থাৎ আবু মুসা আশআরি রা. বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেয়ামতের পূর্বে এমন সময় আসবে যখন ইলম উঠে যাবে, অজ্ঞতার সয়লাব হবে, হারাজ বৃদ্ধি পাবে। আর হারাজ হলো হত্যা। (সহিহ বুখারি: ৯/৪৮, হা. নং ৭০৬৪, প্র. দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)

২২. মেয়েরা মায়ের সাথে দাসীদের মতো আচরণ করবে।
২৩. রাখাল ও নিঃস্ব শ্রেণির লোকেরা সুবিশাল অট্টলিকা নির্মানে প্রতিযোগিতা করবে।
যেমন সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে-
حَدَّثَنِي أَبِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ قَالَ: بَيْنَمَا نَحْنُ عِنْدَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ يَوْمٍ…. قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنْ أَمَارَتِهَا، قَالَ: أَنْ تَلِدَ الْأَمَةُ رَبَّتَهَا، وَأَنْ تَرَى الْحُفَاةَ الْعُرَاةَ الْعَالَةَ رِعَاءَ الشَّاءِ يَتَطَاوَلُونَ فِي الْبُنْيَانِ
অর্থাৎ উমর বিন খাত্তাব রা. বর্ণনা করেন, আমরা একদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট বসা ছিলাম। …জিবরাঈল আ. বললেন, তাহলে আমাকে কেয়ামতের আলামত সম্পর্কে অবহিত করুন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, দাসী নিজের মালিকাকে প্রসব করবে। আর তুমি দেখতে পাবে, নগ্নপদ, নগ্নদেহ, নিঃস্ব মেষ রাখালেরা অট্টলিকা নির্মাণের ক্ষেত্রে পরস্পরে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবে। (সহিহ মুসলিম: ১/৩৬, হা. নং ৮, প্র. দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)

২৪. শুধু নিজের পরিচিত বিশেষ লোকদেরকেই সালাম দেওয়া হবে।
২৫. ব্যবসা-বানিজ্যের ব্যাপক প্রসার হবে।
২৬. স্ত্রী স্বীয় স্বামীকে ব্যবসায় সহযোগিতা করবে।
২৭. আত্মীয়তার সম্পর্ক শিথিল ও ছিন্ন হয়ে যাবে।
২৮. মিথ্যা সাক্ষ্য ব্যাপকতা লাভ করবে আর সত্যকে লুকানো হবে।
২৯. লেখালেখি ও প্রচার মাধ্যমের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে।
যেমন মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হয়েছে-
فَذَكَرَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَنَّ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ تَسْلِيمَ الْخَاصَّةِ، وَفُشُوَّ التِّجَارَةِ، حَتَّى تُعِينَ الْمَرْأَةُ زَوْجَهَا عَلَى التِّجَارَةِ، وَقَطْعَ الْأَرْحَامِ، وَشَهَادَةَ الزُّورِ، وَكِتْمَانَ شَهَادَةِ الْحَقِّ، وَظُهُورَ الْقَلَمِ.
অর্থাৎ আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা. নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, কেয়ামতের পূর্বে শুধু বিশেষ লোকদেরই সালাম দেয়া হবে, ব্যবসা ব্যাপক প্রসার লাভ করবে; এমনকি স্ত্রী স্বীয় স্বামীকে ব্যবসায়িক কাজে সহযোগিতা করবে, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন হবে, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া হবে, সত্যকে গোপন করা হবে এবং কলমের বিস্তার ঘটবে। (মুসনাদে আহমাদ: ৬/৪১৬, হা. নং ৩৮৭০, প্র. মুআসসাসাতুর রিসালা)
৩০. অশ্লীলতা ও বে-হায়ায়ি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে।
৩১. প্রতিবেশীর সাথে ভালো সম্পর্ক রাখা হবে না; বরং অসদাচরণ করা হবে।
৩২.খেয়ানতকারীকে আমানতদার আর আমানতদারকে খেয়ানতকারী বলা হবে।
যেমন মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হয়েছে-
عَبْدَ اللهِ بْنَ عَمْرٍو فَحَدَّثَنِي مِمَّا سَمِعَ مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ….. قَالَ: وَلَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَظْهَرَ الْفُحْشُ وَالتَّفَاحُشُ، وَقَطِيعَةُ الرَّحِمِ، وَسُوءُ الْمُجَاوَرَةِ، وَحَتَّى يُؤْتَمَنَ الْخَائِنُ وَيُخَوَّنَ الْأَمِينُ.
অর্থাৎ আব্দুল্লাহ বিন আমর রা. নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত কেয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না লজ্জাহীনতা ও অশ্লীলতা ব্যাপকতা লাভ করবে, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা হবে, প্রতিবেশীর সাথে খারাপ আচরণ করা হবে, খেয়ানতকারীকে আমানতদার মনে করা হবে আর আমানতদারকে খেয়ানতকারী মনে করা হবে। (মুসনাদে আহমাদ:১১/৬৪, হা. নং ৬৫১৪, প্র. মুআসসাসাতুর রিসালা)

৩৩. কালো খেজাব ব্যবহার করা।
যেমন সুনানে আবু দাউদে বর্ণিত হয়েছে-
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَكُونُ قَوْمٌ يَخْضِبُونَ فِي آخِرِ الزَّمَانِ بِالسَّوَادِ، كَحَوَاصِلِ الْحَمَامِ، لَا يَرِيحُونَ رَائِحَةَ الْجَنَّةِ.
অর্থাৎ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, শেষ জামানায় এমন কিছু লোক আসবে, যারা কবুতরের পাকস্থলীর ন্যায় কালো খেজাব ব্যবহার করবে। এরা জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না। (সুনানে আবু দাউদ: ৪/৮৭, হা. নং ৪২১২ প্র. আল মাকতাবাতুল আসরিয়্যা, বৈরুত)
৩৪. অযোগ্য লোকদের ক্ষমতায় বসানো।
যেমন সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا ضُيِّعَتِ الأَمَانَةُ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ. قَالَ: كَيْفَ إِضَاعَتُهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: إِذَا أُسْنِدَ الأَمْرُ إِلَى غَيْرِ أَهْلِهِ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ.
অর্থাৎ আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যখন আমানতের খেয়ানত করা হবে তখন কেয়ামতের অপেক্ষা করো। কেউ বললো, হে আল্লাহর রাসুল, কিভাবে আমানতের খেয়ানত করা হবে? তিনি বললেন, যখন অযোগ্য লোকদের ক্ষমতায় বসানো হবে তখন কেয়ামতের অপেক্ষা করো। (সহিহ বুখারি: ৮/১০৪, হা. নং ৬৪৯৬, প্র. দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)

৩৫. মিথ্যা বৃদ্ধি পাবে।
৩৬. ঘনঘন বাজার-ঘাট গড়ে উঠবে।

যেমন মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَظْهَرَ الْفِتَنُ، وَيَكْثُرَ الْكَذِبُ، وَتَتَقَارَبَ الْأَسْوَاقُ، وَيَتَقَارَبَ الزَّمَانُ، وَيَكْثُرَ الْهَرْجُ. قِيلَ: وَمَا الْهَرْجُ؟ قَالَ: الْقَتْلُ.
অর্থাৎ আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত কেয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না ফেতনা-ফাসাদ বিস্তার লাভ করবে, মিথ্যার প্রসার ঘটবে, বাজার-ঘাট ঘনঘন হবে, সময় নিকটবর্তী হতে থাকবে এবং হারাজ বৃদ্ধি পাবে। প্রশ্ন করা হলো, হারাজ কী? তিনি বললেন, হত্যা। (মুসনাদে আহমাদ: ১৬/৪২২, হা. নং ১০৭২৪ প্র. মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত)

৩৭. হতাহত এত বেশি হবে যে, হত্যাকারী ও নিহত কেউ-ই জানবে না যে, কেনো হত্যা করা হলো?
যেমন সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَا تَذْهَبُ الدُّنْيَا، حَتَّى يَأْتِيَ عَلَى النَّاسِ يَوْمٌ لَا يَدْرِي الْقَاتِلُ فِيمَ قَتَلَ، وَلَا الْمَقْتُولُ فِيمَ قُتِلَ ” فَقِيلَ: كَيْفَ يَكُونُ ذَلِكَ؟ قَالَ: الْهَرْجُ، الْقَاتِلُ وَالْمَقْتُولُ فِي النَّارِ.
অর্থাৎ আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ঐ সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ, ততক্ষণ পর্যন্ত কেয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না মানুষের সামনে এমন একটি সময় আসবে, যখন হত্যাকারী জানবে না যে, সে কেনো হত্যা করল আর নিহত ব্যক্তিও জানবে না যে, সে কেন নিহত হলো? জিজ্ঞেস করা হলো, এটা কীভাবে হবে? তিনি বললেন, তখন অধিক হতাহতের ঘটনা ঘটবে। হত্যাকারী ও নিহত উভয়ে জাহান্নামে যাবে। (সহিহ মুসলিম: ৪/২২৩১, হা. নং ২৯০৮ প্র. দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)

নোট: হত্যাকারী জাহান্নামে যাওয়ার বিষয়টি তো স্পষ্ট। কিন্তু নিহত ব্যক্তি জাহান্নামে যাওয়ার কারন হলো, সেও অন্য কাউকে হত্যা করার অভিপ্রায়ে ছিল।

৩৭. পার্থিব লোভে মানুষ রাতারাতি দীন-ধর্ম পরিবর্তন করে ফেলবে।
যেমন সুনানে তিরমিজিতে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: تَكُونُ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ فِتَنٌ كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ يُصْبِحُ الرَّجُلُ فِيهَا مُؤْمِنًا وَيُمْسِي كَافِرًا، وَيُمْسِي مُؤْمِنًا وَيُصْبِحُ كَافِرًا، يَبِيعُ أَقْوَامٌ دِينَهُمْ بِعَرَضٍ مِنَ الدُّنْيَا.
অর্থাৎ আনাস রা. সূত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কেয়ামতের পূর্বে অন্ধকার রাতের ন্যায় ফেতনা আসতে থাকবে। সে সময় মানুষ সকালে মুমিন থাকবে বিকেলে কাফের হয়ে যাবে এবং বিকেলে মুমিন থাকবে সকালে কাফের হয়ে যাবে। লোকেরা পার্থিব স্বার্থে স্বীয় দীন বিক্রি করে দিবে। (সুনানে তিরমিজি: ৪/৫৮, হা. নং ২১৯৭ প্র. দারুল গারবিল ইসলামি, বৈরুত)

৩৮. উপার্জনের ক্ষেত্রে হালাল-হারামের কোনো পরওয়া থাকবে না।
যেমন সুনানে নাসায়িতে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ مَا يُبَالِي الرَّجُلُ مِنْ أَيْنَ أَصَابَ الْمَالَ مِنْ حَلَالٍ أَوْ حَرَامٍ.
অর্থাৎ আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মানুষের সামনে এমন একটি সময় আসবে, যখন সে পরওয়া করবে না যে, হালাল পন্থায় সম্পদ উপার্জন করছে নাকি হারাম পন্থায়। (সুনানে নাসায়ি: ৭/২৪৩, হা. নং ৪৪৫৪, প্র. মাকতাবুল মাতবুআতিল ইসলামিয়্যা, হালব)

৩৯. জালেম শাসক ও প্রশাসন জনগণকে অন্যায়ভাবে শাস্তি দিবে, শারীরিক নির্যাতন করবে।
৪০.উলঙ্গ-অর্ধালঙ্গ নারীদের দেখা মিলবে।

যেমন সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: صِنْفَانِ مِنْ أَهْلِ النَّارِ لَمْ أَرَهُمَا، قَوْمٌ مَعَهُمْ سِيَاطٌ كَأَذْنَابِ الْبَقَرِ يَضْرِبُونَ بِهَا النَّاسَ، وَنِسَاءٌ كَاسِيَاتٌ عَارِيَاتٌ مُمِيلَاتٌ مَائِلَاتٌ، رُءُوسُهُنَّ كَأَسْنِمَةِ الْبُخْتِ الْمَائِلَةِ، لَا يَدْخُلْنَ الْجَنَّةَ، وَلَا يَجِدْنَ رِيحَهَا، وَإِنَّ رِيحَهَا لَيُوجَدُ مِنْ مَسِيرَةِ كَذَا وَكَذَا.
অর্থাৎ আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দুই প্রকারের জাহান্নামিকে আমি এখনও দেখিনি। এক শ্রেণি হলো, ঐসব লোক, যাদের সাথে সর্বদা গরুর লেজের ন্যায় চাবুক থাকবে, যদ্বারা তারা লোকদেরকে প্রহার করবে। আরেক শ্রেণি হলো, ঐসব নারী, যারা পোষাক পরিহিতা, কিন্তু উলঙ্গপ্রায়, যারা গর্বের সাথে নৃত্যের ভঙ্গিতে বাহু দুলিয়ে পথ চলে, বুখতি উটের কুঁজোর ন্যায় তাদের খোপা বাঁধা থাকবে। এরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, এমনকি জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না; যদিও এর সুঘ্রাণ অনেক অনেক দূর থেকে পাওয়া যায়। (সহিহ মুসলিম: ৩/১৬৮০, হা. নং ২১২৮, প্র. দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)

৪১.ইহুদি-খ্রিষ্টানদের পদেপদে অনুসরণ করা হবে।
যেমন ইমাম মারুজি রহ. রচিত ‘আসসুন্নাহ’ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে-
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَتَرْكَبُنَّ سَنَنَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ شِبْرًا بِشِبْرٍ وَذِرَاعًا بِذِرَاعٍ وَبَاعًا بِبَاعٍ حَتَّى لَوْ أَنَّ أَحَدَهُمْ دَخَلَ جُحْرَ ضَبٍّ لَدَخَلْتُمْ، وَحَتَّى لَوْ أَنَّ أَحَدَهُمْ جَامَعَ أُمَّهُ بِالطَّرِيقِ لَفَعَلْتُمْ.
অর্থাৎ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মত তথা ইহুদি-খ্রিষ্টানদের পদেপদে অনুসরণ করবে; এমনকি যদি তারা সাপের গর্তে প্রবেশ করে তাহলে তোমরাও সাপের গর্তে প্রবেশ করবে, এমনকি তাদের কেউ যদি নিজের মায়ের সাথে পথেঘাটে ব্যভিচার করে তাহলে তোমরাও তা করবে। (আসসুন্নাহ: পৃ. ১৮, হা. নং ৪৩, প্র. মুআসসাসাতুল কুতুবিস সাকাফিয়্যা, বৈরুত)

৪২. কোনো মাসের চাঁদ বড় দেখা যাবে।
৪৩. মসজিদ রাস্তাঘাটের মতো ব্যবহৃত হবে।
৪৪. আকস্মিক মৃত্যু বেড়ে যাবে।

যেমন তাবরানি মুজামে সগিরে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، رَفَعَهُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مِنِ اقْتِرَابِ السَّاعَةِ أَنْ يُرَى الْهِلَالُ قِبَلًا, فَيُقَالُ لِلَيْلَتَيْنِ, وَأَنْ تُتَّخَذَ الْمَسَاجِدَ طُرُقًا, وَأَنْ يَظْهَرَ مَوْتُ الْفُجَاءَة.
অর্থাৎ আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, কেয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার আলামত হলো, নতুন চাঁদ বড় দেখা যাবে, যদ্দরুন বলা হবে, এটা দুদিনের চাঁদ। মসজিদসমূহকে রাস্তায় রূপান্তরিত করা হবে। আকস্মিক মৃত্যু বেড়ে যাবে। (তাবরানি, মুজামে সগির:২/২৬০, হা. নং ১১৩২ প্র. আল মাকতাবুল ইসলামি, বৈরুত)

৪৫. বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পাবে, কিন্তু ফসল উৎপন্ন হবে না।
যেমন মুসনাদে আহমাদের বর্ণনায় এসেছে-
مُعَاذُ بْنُ حَرْمَلَةَ الْأَزْدِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسًا يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يُمْطَرَ النَّاسُ مَطَرًا عَامًّا، وَلَا تَنْبُتَ الْأَرْضُ شَيْئًا.
অর্থাৎ আনাস রা. বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ততদিন পর্যন্ত কেয়ামত হবে না, যতদিন না ব্যাপক বৃষ্টিপাত হবে, কিন্তু জমি কোনো ফসল উৎপন্ন করবে না। (মুসনাদে আহমাদ:১৯/৪১৭, হা. নং ১২৪২৯, প্র. মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত)

৪৬. ভূমিকম্প বৃদ্ধি পাবে।
যেমন সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يُقْبَضَ العِلْمُ، وَتَكْثُرَ الزَّلاَزِلُ، وَيَتَقَارَبَ الزَّمَانُ، وَتَظْهَرَ الفِتَنُ، وَيَكْثُرَ الهَرْجُ – وَهُوَ القَتْلُ القَتْلُ – حَتَّى يَكْثُرَ فِيكُمُ المَالُ فَيَفِيضَ.
অর্থাৎ আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ততদিন পর্যন্ত কেয়ামত হবে না, যতদিন না ইলম উঠিয়ে নেওয়া হবে, ভূমিকম্প বৃদ্ধি পাবে, সময় নিকটবর্তী হয়ে যাবে, ফেতনা-ফাসাদ প্রকাশ পাবে, হতাহত বৃদ্ধি পাবে এবং সম্পদের প্রাচু্র্য ঘটবে। (সহিহ বুখারি: ২/৩৩, হা. নং ১০৩৬, প্র. দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)

৪৭. মসজিদের সৌন্দর্য ও চাকচিক্য নিয়ে গর্ব করা হবে।
যেমন সুনানে আবু দাউদে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَتَبَاهَى النَّاسُ فِي الْمَسَاجِدِ.
অর্থাৎ আনাস রা. থেকে বণিত, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ততদিন পর্যন্ত কেয়ামত হবে না, যতদিন না লোকেরা মসজিদ নিয়ে গর্ব করবে। (সুনানে আবু দাউদ: ১/১২১, হা. নং ৪৪৯, প্র. আল মাকতাবাতুল আসরিয়্যা, বৈরুত)

৪৮. হত্যা এত ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবে যে, নিজের ভাই-ভাতিজী ও নিকটাত্মীয়দেরকেও হত্যা করা হবে।
যেমন সুনানে ইবনে মাজাহ-তে বর্ণিত হয়েছে-
حَدَّثَنَا أَبُو مُوسَى قَالَ: حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ لَهَرْجًا، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا الْهَرْجُ؟ قَالَ: الْقَتْلُ، فَقَالَ بَعْضُ الْمُسْلِمِينَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّا نَقْتُلُ الْآنَ فِي الْعَامِ الْوَاحِدِ مِنَ الْمُشْرِكِينَ كَذَا وَكَذَا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَيْسَ بِقَتْلِ الْمُشْرِكِينَ، وَلَكِنْ يَقْتُلُ بَعْضُكُمْ بَعْضًا، حَتَّى يَقْتُلَ الرَّجُلُ جَارَهُ، وَابْنَ عَمِّهِ وَذَا قَرَابَتِهِ.
অর্থাৎ আবু মুসা আশআরী রা. বর্ণনা করেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে বলেছেন, কেয়ামতের পূর্বে হারাজ ঘটবে। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, হারাজ কী? তিনি বললেন, হত্যা। তখন জনৈক মুসলমান প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসুল, আমরা তো এখন এক বছরেই এত এত মুশরিকদের হত্যা করে ফেলি। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তরে বললেন, মুশরিকদের হত্যা করা নয়, বরং তোমরা একে অপরকে হত্যা করবে; এমনকি মানুষ তার প্রতিবেশী, ভাতিজা ও নিকটাত্মীয়কে হত্যা করে ফেলবে। (সুনানে ইবনে মাজাহ: ২/১৩০৯, হা. নং ৩৯৫৯, প্র. দারু ইহইয়াইল কুতুবিল আরাবিয়্যা)

৪৯. মক্কার পাহাড় খুঁদে পানির নালা বের করা হবে এবং তার প্রাসাদগুলো পাহাড়ের চেয়ে উঁচু হয়ে যাবে।
যেমন মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবাতে বর্ণিত হয়েছে-
عَبْد اللَّهِ بْن عَمْرٍو فَقَالَ:… فَإِذَا رَأَيْتَ مَكَّةَ قَدْ بَعَجَتْ كَظَائِمَ وَرَأَيْتَ الْبِنَاءَ يَعْلُو رُءُوسَ الْجِبَالِ فَاعْلَمْ أَنَّ الْأَمْرَ قَدْ أَظَلَّكَ.
অর্থাৎ আব্দুল্লাহ বিন আমর রা. বলেন,… অতঃপর যখন মক্কায় পানির নালা ও ট্যানেল কাটতে দেখবে এবং অট্টলিকাগুলো পাহাড়ের চেয়ে উঁচু দেখতে পাবে তখন জেনে রাখো, কেয়ামত নিকটবর্তী হয়ে গেছে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা: ৭/৪৬১, হা. নং ৩৭২৩২, প্র. মাকতাবাতুর রুশদ, রিয়াদ)

৫০. সমাজে সুদ এত ব্যাপক হয়ে যাবে যে, কেউ চাইলেও এ থেকে পরিপূর্ণভাবে বেঁচে থাকতে পারবে না।
যেমন মুস্তাদরাকে হাকিমে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَيَأْتِيَنَّ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ، لَا يَبْقَى فِيهِ أَحَدٌ إِلَّا أَكَلَ الرِّبَا، فَإِنْ لَمْ يَأْكُلْهُ أَصَابَهُ مِنْ غُبَارِهِ.
অর্থাৎ আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, মানুষের সামনে এমন এক সময় আসবে যখন এমন কেউ থাকবে না, যে সুদ খাবে না। একান্ত যদি কেউ সুদ নাও খেতে চায় তাহলে কমপক্ষে তার কিছু ধুলাবালি হলেও খেতে বাধ্য হবে। (মুস্তাদরাকে হাকিম: ২/১৩, হা. নং ২১৬২, প্র. দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত)

৫১. পুরুষ এবং নারী উভয় শ্রেণির মাঝে সমকামিতা বেড়ে যাবে।
যেমন মুজামে কাবির তাবরানিতে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، هَلْ لِلسَّاعَةِ مِنْ عِلْمٍ تُعْرَفُ بِهِ السَّاعَةُ؟ فَقَالَ: نَعَمْ، يَا ابْنَ مَسْعُودٍ، إِنَّ لِلسَّاعَةِ أَعْلَامًا، وَإِنَّ لِلسَّاعَةِ أَشْرَاطًا….. يَا ابْنَ مَسْعُودٍ، إِنَّ مِنْ أَعْلَامِ السَّاعَةِ وَأَشْرَاطِهَا أَنْ يَكْتَفِيَ الرِّجَالُ بِالرِّجَالِ، وَالنِّسَاءُ بِالنِّسَاءِ.
অর্থাৎ আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, কেয়ামতের কি এমন কিছু আলামত রয়েছে, যদ্বারা কেয়ামতের বিষয়ে অবগত হওয়া যাবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, হে ইবনে মাসউদ। নিশ্চয় কেয়ামতের অনেকগুলো আলামত ও নিদর্শন আছে। …হে ইবনে মাসউদ, কেয়ামতের আলামত ও নিদর্শনসমূহের একটি হলো, পুরুষরা পুরুষদের দ্বারা তৃপ্ত হবে আর নারীরা নারীদের দ্বারা তৃপ্ত হবে। (মুজামে কাবির তাবরানি: ১০/২২৮, হা. নং ১০২৫৬, প্র. মাকতাবা ইবনে তাইমিয়া, কায়রো)

৫২. মানুষ নিজ স্ত্রীকে তালাক দিয়ে পরে তা অস্বীকার করবে এবং এভাবেই তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর সাথে অবৈধ সহবাসের দরুন সমাজে অসংখ্য জারজ সন্তানে ভরে যাবে।
যেমন মুজামে আওসাত তাবরানিতে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، هَلْ لِلسَّاعَةِ مِنْ عِلْمٍ تُعْرَفُ بِهِ السَّاعَةُ؟ فَقَالَ: نَعَمْ، يَا ابْنَ مَسْعُودٍ، إِنَّ لِلسَّاعَةِ أَعْلَامًا، وَإِنَّ لِلسَّاعَةِ أَشْرَاطًا….. يَا ابْنَ مَسْعُودٍ، إِنَّ مِنْ أَعْلَامِ السَّاعَةِ وَأَشْرَاطِهَا أَنْ يَكْثُرَ أَوْلَادُ الزِّنَا. قُلْتُ: يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَهُمْ مُسْلِمُونَ؟ قَالَ: نَعَمْ. قُلْتُ: أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَالْقُرْآنُ بَيْنَ ظَهْرَانَيْهِمْ؟ قَالَ: نَعَمْ. قُلْتُ: أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَأَنَّى ذَلِكَ؟ قَالَ: يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ يُطَلِّقُ الرَّجُلُ الْمَرْأَةَ، ثُمَّ يَجْحَدُهَا طَلَاقَهَا، فَيُقِيمُ عَلَى فَرْجِهَا، فَهُمَا زَانِيَانِ مَا أَقَامَا.
অর্থাৎ আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, কেয়ামতের কি এমন কিছু আলামত রয়েছে, যদ্বারা কেয়ামতের বিষয়ে অবগত হওয়া যাবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, হে ইবনে মাসউদ। নিশ্চয় কেয়ামতের অনেকগুলো আলামত ও নিদর্শন আছে। …হে ইবনে মাসউদ, কেয়ামতের আলামত ও নিদর্শনসমূহের একটি হলো, জারজ সন্তান বৃদ্ধি পাবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, হে ইবনে মাসউদ, তারা কি মুসলমান? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, হে ইবনে মাসউদ, তাদের সামনে কি কুরআন থাকবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, হে ইবনে মাসউদ, তাহলে এমনটা (জারজ সন্তানের বৃদ্ধি) কীভাবে হবে? তিনি বললেন, মানুষের সামনে এমন একটি সময় আসবে, যখন সে তার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তা অস্বীকার করবে। অতঃপর তার সাথে সহবাসে লিপ্ত হবে। এভাবে যতদিন তারা সংসার করবে তারা ব্যভিচারী হিসেবে থাকবে। (মুজামে আওসাত, তাবরানি: ৫/১২৭, হা. নং ৪৮৬১, প্র. দারুল হারামাইন, কায়রো)

 

লেখক

সহযোগি অধ্যাপক (ইংরেজি), পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

 

Facebook Comments


Leave a Reply

শিরোনাম
মোংলায় দারিদ্র পরিবারের মাঝে নৌবাহিনীর খাদ্য সামগ্রী বিতরণ পুরান ঢাকায় তিনশো হতদরিদ্র পরিবারে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করোনা : সুসংবাদ অসুখ গুলো ছাড়াচ্ছে উল্টো পথে রাষ্ট্র -> সমাজ -> পরিবারে তিন শতাধিক জাপানি বিশেষ বিমানে ঢাকা ছাড়ছেন করোনাভাইরাস : কঠোর অবস্থানে সেনাবাহিনী নওগাঁয়  ইসরাফিল আলম এমপির নিজ উদ্যোগে ৫শত পিচ পিপিই প্রদান নওগাঁ জেলা পুলিশের উদ্যেগে কর্মহীন ১২শ’ ৫০ জন মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ নওগাঁয় ফোন পেয়ে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে ছুটে যান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক উত্তম কুমার নিয়ামতপুরে পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে  চাল, ডাল, আলু, তেল, সাবান বিতরণ ঈশ্বরদীতে অসহায় ও কর্মহীনদের মাঝে ছাত্রদলের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ ১২শত পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন ভেদরগঞ্জ পৌরসভা খাদ্যসামগ্রী বিতরণে নিরলস কাজ করছেন জাজিরার বাবুল আকন ও তার সহযোগিরা শুভসন্ধ্যায় অজ্ঞাত এক শিশুর ভাসমান লাশ উদ্ধার হতাসার মধ্যে দিন কটছে মোংলার শ্রমজীবী মানুষের পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেটিতে কয়লা খালাশ শুরু আমতলীতে শারীরিক প্রতিবন্ধীকে হুইল চেয়ারের জন্য মেয়রের আনুদান করোনাভাইরাস : মনিরামপুরের ওসি কন্যা… যশোরে দরিদ্রদের মাঝে নিউ তনা টেলিকমের চাউল বিতরণ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা নিয়ে সংঘর্ষ। গৃহবধু ও শিশু সহ আহত- ৯ ‘আমাদের সাতক্ষীরা’র উদ্যোগে অসহায় পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতারণ বরগুনায় পচা মাংস বিক্রি করায় গণধোলাই, জরিমানা ঝিনাইদহে অসহায়, দরিদ্রদের খাদ্যসামগ্রী দিলেন   সংরক্ষিত মহিলা  সাংসদ  খালেদা খানম ১ এপ্রিল, এপ্রিল ফুল বা এপ্রিলের বোকা অসহায় ময়নার পাশে যুব সমাজ

© All rights reserved © 2017 onnodristy.com

Theme Download From ThemesBazar.Com