ব্রেকিং নিউজ
সংবাদকর্মী আবশ্যক। আগ্রহীগণ সিভি, ছবি এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিসহ আবেদন করুন - onnodristynews@gmail.com/ news@onnodristy.com. মুঠোফোন : ০১৯১১২২০৪৪০/ ০১৭১০২২০৪৪০।

সবাই জানে, আগে বিজি প্রেস থেকে প্রশ্ন ফাঁস হত -শিক্ষামন্ত্রী

অন্যদৃষ্টি অনলাইন।।

পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলে ৮০ থেকে ১০০ পাওয়া সব শিক্ষার্থীকে এক গ্রেডে বিবেচনা করা ঠিক হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন সামনে এনেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

শুক্রবার এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, সব বিষয়ে যারা আশির বেশি নম্বর পাচ্ছে ভবিষ্যতে তাদের আলাদাভাবে মূল্যায়ন করার কথা ভাবতে হবে।

‘এগুলো নিয়ে আমাদের আরও ভাবতে হবে আমরা এত গ্যাপ রাখব কি না? একাশি থেকে একশ পর্যন্ত বড় রকমের পার্থক্য। যে পেল নিরানব্বই সে একাশির সমান হয়ে যাচ্ছে, এগুলো ভবিষ্যতে আস্তে আস্তে মূল্যায়ন করতে হবে।’

এসএসসি ও এইচএসসিতে পাঁচ পয়েন্টের বর্তমান গ্রেড পদ্ধতিতে কোনো বিষয়ে ৮০ থেকে ১০০ নম্বর পেলে একজন শিক্ষার্থীর গ্রেড পয়েন্ট হয় ৫, আর ওই বিষয়ে তার লেটার গ্রেড হয় ‘এ প্লাস’। আর চূড়ান্ত ফলাফল হিসাব করার সময় সব বিষয়ের মোট গ্রেড পয়েন্টের গড় করে। সেখানে যে শিক্ষার্থীর জিপিএ ৫ হয়, তার লেটার গ্রেড হয় ‘এ প্লাস’।

এই হিসাব করার সময় চতুর্থ বিষয়ের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী গ্রেড পয়েন্টে দুই এর বেশি যা পাচ্ছে, সেটা যোগ করা হয়। ফলে কোনো শিক্ষার্থী কোনো আবশ্যিক বিষয়ে আশির কম পেলেও চতুর্থ বিষয়ে সুবিধা নিয়ে তার জিপিএ ৫ হতে পারে। সেক্ষেত্রে ওই শিক্ষার্থীও ‘এ প্লাস’ পাচ্ছে।

আর এ কারণে ‘গোল্ডেন জিপিএ’ বলে একটি শব্দবন্ধ অভিভাবকদের মধ্যে চালু হয়েছে, যা দিয়ে তারা বোঝাতে চান, তাদের সন্তান সব মিলিয়ে ‘এ প্লাস’ তো পেয়েছেই, কোনো বিষয়েই সে আশির নিচে নম্বর পায়নি।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে সংগঠনটির সদস্যদের এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া সন্তানদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ বলেন, এই ‘গোল্ডেন জিপিএ’ বিষয়টি নিয়মসিদ্ধ নয়। অর্থাৎ সরকারি নিয়মে ওই রকম কোনো ব্যাপার নেই।

‘একটা কথা চালু হয়ে গেছে সব পেপারে আশির বেশি পেলে ‘গোল্ডেন জিপিএ’ বলা হচ্ছে। এটা বলুক, আমরা বাধা দেই না। তবে এটা আনুষ্ঠানিক নাম না।’ আগে পরীক্ষার্থীদের সব বিষয়ের পাওয়া নম্বর যোগ করে মোট নম্বরের ভিত্তিতে প্রথম বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ ও তৃতীয় বিভাগ নির্ধারিত হত। ২০০১ সাল থেকে এসএসসি এবং ২০০৩ সাল থেকে এইচএসসিতে ওই পদ্ধতির বদলে ফলাফল মূল্যায়ন করা হচ্ছে গ্রেডিং পদ্ধতিতে জিপিএ- এর ভিত্তিতে।

আগের পদ্ধতিতে প্রত্যেক বোর্ডের প্রতি গ্রুপ থেকে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া ২০ জন শিক্ষার্থীর আলাদা মেধা তালিকা (বোর্ড স্ট্যান্ড) হত। আর ৭৫০ নম্বর বা তার বেশি পেলে বলা হত ‘স্টার মার্কস’।

সেই প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ বলেন, ‘আগে সারা দেশে একজন মাত্র হিরো (বোর্ড সেরা), সারা দেশে তাকে নিয়ে মাতামাতি করত। এখন হাজার হাজার ছেলেমেয়ে ফার্স্ট (জিপিএ-৫ পাচ্ছে) হচ্ছে, সমস্ত পরিবারে উৎসব, তারা সবাই তো শ্রেষ্ঠ। সবার পক্ষে এটা অ্যাচিভ করা সম্ভব, আগে সম্ভব ছিল না।’

গত কয়েক বছরে পাবলিক পরীক্ষার সময় প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ।

তিনি বলেন, ‘গত এসএসসি পরীক্ষার সময় এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়, মনে হয় যেন সব প্রশ্নই ফাঁস হয়ে গেছে, আমাদের কোনো কথাই কেউ বিশ্বাস করে না।’ তিনি বলেন,  ‘তদন্ত করে দেখা যায়, কোনো প্রশ্নই পূর্ণাঙ্গ ফাঁস হয়নি, শুধু চারটি পত্রের ৩০ নম্বরের এমসিকিউ অংশ ফাঁস হয়, তাও পরীক্ষার্থীরা হলের ভেতরে যাওয়ার পর। …এটাকে প্রতিহত করতে পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের হলে ঢোকানো হয়।’

নাহিদ বলেন, ‘আগে বিজি প্রেস থেকে প্রশ্ন ফাঁস হত, এটা গোপন কিছু না সবাই জানে। আমরা অনেক কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছি।’

পরীক্ষার্থী বাড়ার সাথে পাল্লা দিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্র বাড়লেও নতুন পরীক্ষাকেন্দ্র অনুমোদনের বিভিন্ন মহলের চাপের কথা স্বীকার করেন শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমি যখন মেট্টিক (এসএসসি) পরীক্ষা দেই তখন শুধু জেলা শহরে একটি সেন্টার ছিল, কোনো জেলার দ্বিতীয় সেন্টার ছিল না। এখন প্রত্যেক বাড়ি বাড়ি মনে হয় সেন্টার দিতে হবে এমন একটা চাপ আমাদের উপর। তখন ছিল ১৭টি সেন্টার, এখান সাড়ে চার হাজার সেন্টার। ফলে প্রত্যেকটা জায়গায় শিক্ষকদের পাঠাতে হয়।’

‘দেড় মাস ধরে প্রশ্ন পাহারা দিতে হচ্ছে। সব মানুষই একেবারে সৎ তা বলা যায় না। ফলে প্রশ্ন যখন বিলি করি তখন যদি দেখা যায় মোবাইল ফোন… ফোনের দরকারই নেই, হাতের আংটি বা কলমের মত ডিভাইজ দিয়ে মুর্হূতের মধ্যে এসব (প্রশ্ন) নিয়ে যাওয়া যায়। পরে আমরা পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে প্রশ্নের প্যাকেট খোলার সিদ্ধান্ত নিই।’

পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্র ঠিকমত মূল্যায়ন হচ্ছিল না মন্তব্য করে নাহিদ বলেন, আগে শিক্ষকরা খাতা ‘ওজন করে’ নম্বর দিতেন। গবেষণা করে এখান উত্তরপত্র মূল্যায়ন পদ্ধতি পরিবর্তন করা হয়েছে।

‘আমি অবশ্যই স্বীকার করি, আমাদের ভুল-ক্রটি আছে। কিন্তু শিক্ষার মান বাড়ছে না এটা মোটেই ঠিক না।’

অনুষ্ঠানে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া ১৭ জন এবং এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া ছয়জনের হাতে সনদ, সম্মাননা ক্রেস্ট এবং দুই হাজার টাকা করে বৃত্তি তুলে দেওয়া হয়।

এই সম্মাননা তাদের আরও এগিয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করবে, উৎসাহ যোগাবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে এসবিএসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম ফারুক, ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শুক্কুর আলী শুভ বক্তব্য দেন।

 

Facebook Comments


শিরোনাম
অতিরিক্ত ৪% কর্তনের অপচেষ্টা বন্ধ চাই! বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবন নিয়ে লেখা বইয়ের মোড়ক উম্মোচন কোটচাঁদপুরে সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমের বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ ঝিনাইদহে ৪তলা স্কুল ভবন নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন  রাবিতে দুই দিনব্যাপী সংগীত বিষয়ক কর্মশালা শুরু কালীগঞ্জের প্রতিবন্ধী মিথিলা পেল হুইল চেয়ার  ঝিনাইদহ জেলা যুবদলে প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির মৃত্যুতে  জেলা বি এন পি শোক প্রকাশ ! লক্ষ্মীপুরে সয়াবিনের বাম্পার ফলন লক্ষ্মীপুরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে পথশিশুদের বস্ত্র দিল ‘অক্সিজেন’ রাত নামলেই কর্মকর্তাদের কাছে ছাত্রীদের পাঠাতেন এই শিক্ষিকা! লক্ষ্মীপুরে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক খোদেজা খাতুন মনোহরদীতে চার শতাংশ কর্তনের প্রতিবাদে ফোরামের অবস্থান কর্মসুচী চট্টগ্রামে দৈনিক আমাদের নতুন সময়ের সপ্তম বর্ষপূর্তি, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা নওগাঁয় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের শপথ গ্রহন অনুষ্ঠিত নুসরাত জাহান রাফির হত্যকারীদের শাস্তির দাবীতে নওগাঁয় মানব বন্ধন পালিত অতিরিক্ত ৪% চাঁদা কর্তনের প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবিতে সিলেটে মানববন্ধন , বিক্ষোভ মিছিল এবং স্মারকলিপি প্রদান অতিরিক্ত ৪ শতাংশ কর্তনের প্রতিবাদে শিক্ষক ফোরাম’র বিবৃতি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার শতাধিক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পেল  মাল্টিমিডিয়া প্রোজেক্টর ও সাউন্ড সিস্টেম  শার্শায় অবৈধ বালি উত্তলনের অভিযোগে জরিমানা ও কারাদন্ড  ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধনের প্রিলি পরীক্ষা কাল স্বাধীনতা দিবস কাবাডিতে ঝিনাইদহ সদর থানা চ্যাম্পিয়ন লক্ষ্মীপুরে সড়ক দূর্ঘটনা রোধে বিতর্ক প্রতিযোগিতা ঝিনাইদহ জেলা মৎস্যজীবীদল, মুস্তাফিজ আহবায়ক, সুমন সদস্য সচিব কুবির মেধাবী শিক্ষার্থী নকিবের বাবার বাঁচতে চায় রুয়েটে বার্ষিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
© All rights reserved © 2017 Onnodristy.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com