ব্রেকিং নিউজ
সংবাদকর্মী আবশ্যক। আগ্রহীগণ সিভি, ছবি এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিসহ আবেদন করুন - onnodristynews@gmail.com/ news@onnodristy.com. মুঠোফোন : ০১৯১১২২০৪৪০/ ০১৭১০২২০৪৪০।

“আজ পার্বত্য চট্রগ্রাম শান্তি চুক্তির ২২ বছর পুর্তি “

তাজ মাহমুদ, (লংগদু) রাঙ্গামাটি ।।

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এক অপার সম্ভাবনাময় অঞ্চল। প্রায় ১৫৬ বছর আগে, ১৮৬০ সালে, ব্রিটিশ-ভারতের সরকার তৎকালীন চট্টগ্রাম জেলার পূর্ব অংশের পার্বত্য অঞ্চলকে আলাদা একটি প্রশাসনিক ইউনিট তথা একটি নতুন জেলার সৃষ্টি করে এবং নাম দেওয়া হয় ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম’।

স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে দেশ যখন দ্রুত পুনর্গঠনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন দুর্ভাগ্যজনকভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র জাতিসত্তাগুলোর একটি ক্ষুদ্র অংশ বিচ্ছিন্নতাবাদী চেতনায় রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। উত্থান হয় ‘শান্তিবাহিনী’ নামক এক সশস্ত্র সন্ত্রাসী দলের। ১৯৭৬ সাল থেকে শুরু সেই রক্তাক্ত পথ থেকে শান্তির পথে পার্বত্য চট্টগ্রামকে উত্তরণে বাংলাদেশের সব সরকারই সাধ্যমত চেষ্টা করেছে। অবশেষে ২ ডিসেম্বর ১৯৯৭ সালে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে রক্তাক্ত অধ্যায়ের সফল অবসান ঘটিয়ে সূচিত হয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বাস্তবায়ন।

শান্তি চুক্তি ও বাস্তবায়নঃ ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে তৎকালীন চিফ হুইপ আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর সঙ্গে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করেন পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি শীর্ষ নেতৃবৃন্দের পক্ষে সন্তু লারমা। এখানে উল্লেখ্য, কোন প্রকার তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই এবং কোন বিদেশি শক্তিকে যুক্ত না করেই এ শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন হয়েছিল যা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। এই চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে অবসান ঘটে তৎকালীন সশস্ত্র গ্রুপ শান্তি বাহিনীর দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের সংগ্রামের। শান্তি চুক্তির শর্তানুযায়ী বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে ভারত থেকে প্রত্যাগত ১২,২২৩ টি পরিবারের মোট ৬৪,৬১২ জন শরণার্থীকে পুনর্বাসন করেছে। চুক্তির ৭২ টি ধারার মধ্যে ৪৮ টি সম্পুরণরূপে এবং বাকী ধারাগুলির ১৫ টি ধারা আংশিক বাস্তবায়ন সহ কিছু ধারার বাস্তবায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের বিভিন্ন বিভাগ/ বিষয়ের মোটামুটি সব বিভাগ/ বিষয় তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এসব বিভাগে লোকবল নিয়োগে চুক্তির শর্তানুযায়ী ক্ষুদ্র জাতিসত্তার সদস্যদের প্রাধান্য দেওয়ায় স্থানীয়ভাবে তাদের বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, পার্বত্য চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত একটি ব্রিগেড এবং প্রায় অনধিক আড়াইশ অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প গুটিয়ে ফেলা হয়েছে। ভূমি ব্যবস্থাপনাঃ শান্তি চুক্তির সবচেয়ে জটিল বিষয়টি হচ্ছে ভূমি ব্যবস্থাপনা। এর জটিলতার প্রধান কারণ পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি জরিপ না হয়া।

একাধিকবার পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি জরিপের উদ্যোগ নিলেও পাহাড়ি সংগঠনগুলোর বিরোধিতা, অপহরণ ও সন্ত্রাসী তৎপরতার কারণে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে ভূমি কমিশন গঠন করা হয়েছে এবং সেই কমিশন কাজ করছে। বিষয়টির ব্যাপকতা এবং জটিলতার কারণেই বাস্তবায়নে একটু বেশি সময় লাগছে সমাধান করতে।

শান্তি চুক্তির পর পাহাড়ে উন্নয়ন প্রবলভাবে গতি পেয়েছে। সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ করে ইতিমধ্যে পাহাড়ের সব উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পর্যন্ত পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলে স্বাধীনতার আগে ১৯৭০ সালে মাত্র ৪৮ কিমি রাস্তা ছিল। কিন্তু স্বাধীনতা- পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ সরকার পার্বত্য অঞ্চলে নির্মাণ করেছে প্রায় ১৫৩৫ কিমি রাস্তা, অসংখ্য ব্রিজ ও কাল্ভার্ট। এ ছাড়াও বিভিন্ন সরকারী, আধাসরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প, কলকারখানাসহ সম্পন্ন হয়েছে অনেক উন্নয়ন কার্যক্রম।

পার্বত্য চট্টগ্রামে আজ মেডিকেল কলেজ, প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সহ প্রভুত উন্নতি সাধিত হয়েছে এবং হচ্ছে।
শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী পাহাড়ি সংগঠন জেএসএসের একটি অংশ ছাড়াও ইউ পি ডি এফ নামক একটি দল পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাসসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে সরকারী ও বেসরকারী উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অসহযোগিতা অব্যাহত সহ বাধার সৃষ্টি করে আসছে।

পার্বত্য শান্তিচুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে জনসংহতি সমিতি বিভিন্ন সময়ে হতাশা প্রকাশ করলেও সরকারের দাবি চুক্তির বেশিরভাগ ধারাই বাস্তবায়িত হয়েছে। এ নিয়ে গত ২২ বছর ধরে চুক্তি স্বাক্ষরকারী দুই পক্ষের মধ্যে চলছে টানাপোড়েন।

চুক্তির ধারা কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে এবং কতটুকু বাস্তবায়ন হয়নি বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের নেতৃবৃন্দের মধ্যে টানাপোড়েন চললেও পাহাড়িবাঙালি সাধারণ জনগণ সন্তুষ্ট আছে। কারণ জনগণ শান্তি চুক্তি পূর্ববর্তী সেই রক্তাক্ত সংঘাতময় দিনগুলিতে ফিরে যেতে চায় না। তাই পার্বত্য জনজীবনে, জাতিধর্মবর্ণ, নির্বিশেষে সকল মানুষের কাছে ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির গুরুত্ব অনেক বেশি

Facebook Comments


Leave a Reply

শিরোনাম
মনিরামপুরে হরিহর নদীর পাড় তৈরির মাটি বিক্রির অভিযোগ ঝিকরগাছায় ডিজিটাল পোস্ট ই-সেন্টারের উদ্যোক্তাদের সাথে ডিপিএমজির সভা অনুষ্ঠিত প্রিয়াঙ্কা-ফারহানের অন্তরঙ্গ শ্যুটিং মুহূর্ত ভাইরাল দৃশ্যমান হল ২৭০০ মিটার পদ্মা সেতু কুষ্ঠরোগীদের দেখে দূর-দূর করবেন না: প্রধানমন্ত্রী বেনাপোল সাংবাদিক আটকের পর নিজেকে বাঁচাতে এবার কামালের থানায় জিডি ঝিনাইদহ জেলার শ্রেষ্ঠ সহকারি শিক্ষক টুটুল আগামীকাল বরগুনায় ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জোছনা উৎসব! খুলনা মহানগর আ’লীগের সভাপতি কে অভিনন্দন যানিয়েছেন মোংলা উপজেলা ও পৌর নেতাকর্মীরা জ্যঁ কুয়ে একজন বিমান হাইজ্যাকার! সকল প্রকার ফি ছাড়াই জবিতে পড়াশোনা করার সুযোগ পাচ্ছেন স্বর্নজয়ী মারজানা বেনাপোলে ১কেজি গাঁজাসহ দুই নারী মাদক বহনকারী আটক গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন স্থগিত যশোরের ১১টি মামলার এজাহার ভুক্ত আসামী ও মাদকের ডিলার ইব্রাহিম হোসেন আটক ঝিকরগাছার বাঁকড়া বাজারে লাগামহীন ভাবে বাড়ছে জিনিস পত্রের দাম  রুপদিয়ায় ছাত্রলীগের দুই নেতার মাটি কেনাবেচার কোন্দলে যুবক খুন মহেশপুর উপজেলা আজমপুর ইউনিয়নের আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে সচেতনতামূলক সভা গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাতা সফল জননী নারী হিসাবে ভূষিত ‘এবার পুরনো রুহি হয়ে ফিরে আসব’ ৫০ টাকার নতুন নোট আসছে পাটজাত পণ্যের প্রসারে তুরস্ককে বিনিয়োগের আহ্বান স্পিকারের রাঙ্গুনিয়ায় বন্য হাতির আক্রমণে একজন বৃদ্ধের মৃত্যু মহেশপুরে বিজয় দিবস উৎযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত  ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্তির দাবিতে ইবির প্রধান ফটকে তালা ইবি থিয়েটারের নতুন সভাপতি অনি- সম্পাদক এনামুল

© All rights reserved © 2017 onnodristy.com

Theme Download From ThemesBazar.Com