ব্রেকিং নিউজ
সংবাদকর্মী আবশ্যক। আগ্রহীগণ সিভি, ছবি এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিসহ আবেদন করুন - onnodristynews@gmail.com/ news@onnodristy.com. মুঠোফোন : ০১৯১১২২০৪৪০/ ০১৭১০২২০৪৪০।

নান্দনিক ঝিনাইদহ,দর্শনীয় স্থানগুলো দর্শকশূন্য কেন! (৩য় খন্ড)

মোঃ সবুর মিয়া।।

ঐতিহ্যবাহী হাজার বছরের ইতিহাসের অলংকৃত এক নাম ঝিনাইদহ। অতি পরিতাপের বিষয় ঝিনাইদহের ইতিহাস,ঐতিহ্য ও ঐতিহ্যবাহী স্থান সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষের ধারণা কিবা পড়াশোনা খুবই কম। ঝিনাইদহে অসংখ্য ঐতিহাসিক স্থান আছে এবং স্বীকৃতিও আছে কিন্তু আমরা কেন সেই ঐতিহাসিক স্বীকৃতির প্রচার বিমুখ। ধারাবাহিক আলোচনাই আজ:

## বীরদের মধ্যে আমাদের শ্রেষ্ঠ সন্তান (হামিদুর রহমান):

যিনি ছিলেন বীরদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ সরাসরি অস্ত্র হাতে শত্রুর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। দেশের মাটিকে শত্রুমুক্ত করার ছিলো একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। তিনি হলেন আমাদের হামিদুর রহমান ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলায় খরদা খালিশপুর গ্রামে ১৯৫৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা আক্কাচ আলী ছিলেন একজন দরিদ্র কৃষক মা কাইস অন্বেষা একজন গৃহিণী হামিদুর রহমান হাজার ১৯৭১ সালে স্বল্প সময়ের জন্য আনসার বাহিনীতে যোগদান করেন।

১৯৭১ সালে  ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন সেনাবাহিনীতে সৈনিক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৭১ মার্চের শেষ দিকে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় চা বাগানে, বিস্তৃর্ণ সীমান্তে চৌকিতে হানাদার বাহিনীর উপর আক্রমণ চালায়, সেখানে পাকসেনাদের চরমভাবে পরাজিত করে। কিন্তু দুঃখজনক সেখানেই আমাদের বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। স্বাধীনতা যুদ্ধে সম্যক অংশগ্রহণ এর স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাকে সম্মান স্বরূপ বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত করে। তার মৃতদেহ ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কমলপুর জেলাধীন আমবাসা গ্রামে সমাহিত করা হয়েছিল,সম্প্রতি সময়ে তার দেহবাশেষ দীর্ঘ ৩৬ বছর পর বাংলাদেশে ১১ই ডিসেম্বর ২০০৭ সালে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

যে বীরশ্রেষ্ঠের নাম আসলে ঝিনাইদহ জেলার নাম আসে। তিনি আমাদের অহংকারের প্রতীক, ২০০৮ সালের হামিদুর রহমানের নিজ গ্রাম খরদাখালিশপুর নাম পরিবর্তন করে হামিদ নগর করা হয়েছে। সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর ও গ্রন্থাগার,এছাড়াও বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নামে করা হয়েছে ঝিনাইদহ জেলা শহরের স্টেডিয়ামটির নাম। ঝিনাইদহ সরকারি কেসি কলেজ ছাত্র হোস্টেল টির নাম করা হয়েছে হামিদুর রহমান ছাত্রাবাস। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ হামিদুর রহমানের স্মরণে একটি ডাকটিকিট প্রকাশ করেছে। এছাড়াও হামিদুর রহমানের তার পিতৃ ভিটায় সরকারি উদ্যোগে একটি পাকা বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে রবে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নাম।

## পাইলট ক্যাপ্টেন মোস্তফা আনোয়ার (কবি গোলাম মোস্তফার জ্যেষ্ঠ পুত্র):

উপমহাদেশের প্রথম পাইলট ও প্রথম বাঙ্গালী মুসলিম পাইলট ক্যাপ্টেন মোস্তফা আনোয়ার, কবি গোলাম মোস্তফার জ্যেষ্ঠ পুত্র। ১৯১৭ সালের ২৪শে জুলাই ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা থানার কমলাপুর গ্রামের মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।তার পৈত্রিক নিবাস ঝিনাইদহের মনোহরপুর গ্রামে। হেয়ার স্কুলে অধ্যয়নকালে তিনি বোম্বাই-এ মার্চ্যান্ নেভি শিপ “ডাফরিন” জাহাজে যোগ দেন।

১৯৩৭ সালে ডাফরিন হতে ‘এক্সট্রা ফার্স্ট’ ক্লাস সার্টিফিকেট এবং উৎকৃষ্ট সিনিয়র ক্যাডেট ক্যাপ্টেন হওয়ার জন্য ‘সয়ার’ পুরস্কার লাভ করেন। এরপর তিনি বৃটিশ-ভারত ষ্টিম নেভিগেশন কোম্পানীতে ক্যাডেট পদে ২ বছর চাকরী করেন।১৯৪১ সালে তিনি ভারতীয় বিমান বাহিনীর ভলান্টিয়ার রিজার্ভে যোগ দেন। কোর্সের শ্রেষ্ঠ পাইলট সম্মান লাভ করে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন। তিনি এয়ার ফোর্স ট্রেনিং স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। ১৯৪৫ সালের ২৪শে এপ্রিল কলকাতার সুস্মিতা রায়কে (পরবর্তীতে সুস্মিতা ইসলাম) বিবাহ করেন। সুস্মিতা ইসলাম একজন সুলেখিকা। তার পুত্র ক্যাপ্টেন প্রদীপ আনোয়ার ও কন্যা মনীষা আনোয়ার বাবলী। ১৯৪৬ সালে তিনি এয়ারলাইন্সে যোগ দেন। ১৯৫০ সালে এয়ার ইণ্ডিয়াতে সরকার অনুমোদিত চেক পাইলট নিযুক্ত হন। তিনি ১৯৫৩ হতে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত কলকাতায় পাইলট ইনচার্জ ছিলেন। ১৯৫৩ সালের ফেব্রুয়ারী হতে ১৯৫৮ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত তিনি কলকাতার নৈশ এয়ারমেলের ভারপ্রাপ্ত পাইলট ছিলেন। পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু, চীনা প্রধানমন্ত্রী চৌ এন লাইকে যখন দিল্লীতে আসার আমন্ত্রণ জানান তখন ক্যাপ্টেন আনোয়ার কুনমিং-এ যেয়ে তাকে নিয়ে আসেন এবং ফেরত দিয়ে আসেন। ১৯৫৯ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে ক্যাপ্টেন মোস্তফা আনোয়ার পাকিস্তানের নাগরিকত্ব অর্জন করে পাকিস্তানে আসেন ও সিনিয়ার কমাণ্ডাররূপে পিআইএ-তে যোগ দেন। ১৯৫৯ সালে পিআইএ তাদের আমেরিকান ইন্সট্রাক্টর ক্যাপ্টেন রবার্ট বার্ণ হেলর এর পরিবর্তে আনোয়ারকে ‘ভিসকাউন্ট’ এর চেক পাইলট করতে চেয়েছিলেন। যেহেতু পিআইএ ইণ্ডিয়ান এয়ার লাইন্সের পরের মডেলের ‘ভিসকাউন্ট কিনেছিল, আনোয়ারকে সেই নতুন মডেলের বিমানের ট্রেনিং নেওয়ার জন্য ১৭ই ফেব্রুয়ারী করাচীতে নিয়ে যেয়ে ১৯শে ফেব্রুয়ারী ইমারজেন্সী পাসপোর্ট করে তাঁকে পাকিস্তান ‘ভাইকাউন্টস’ এর কনভারশন কোর্সে শিক্ষালাভের জন্য বৃটেনে পাঠানো হয়। তিনি তৎকালীন সময়ে মাসে ২,৫০০ টাকা বেতন পেতেন।

আনোয়ার মাত্র ৪১ বছর বয়সে কর্মের মাঝখানে প্রাণ হারান। তাঁর মৃত্যুর খবর শুধু পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানেই নয়, ভারত, ইউরোপের স্পেন, ইংল্যাণ্ডের ‘দি গার্ডিয়ান’ ও নিউ ইয়র্কের “New York Times”-এ ছাপা হয়েছিল। এসময় সমস্ত পাকিস্তানময় তাঁর মৃত্যুর শোক জাতীয় শোক হিসেবে পরিণত হয়েছিল। তার কারণ ক্যাপ্টেন আনোয়ার যখন মারা যান তখন তাঁর লগবুকে ১৪৫০০ ঘন্টা ফ্লাইং আওয়ারস্ রেকর্ড করা ছিল। সিভিল ও এয়ার ফোর্স মিলিয়ে সমগ্র পাকিস্তানী পাইলটদের মধ্যে কোনো

পাইলটই এত অধিক সময় বিমান চালনা করেন নাই। ১৫ই আগষ্ট ১৯৫৯ সালে ‘পাকিস্তান টাইমস’-এ ক্যাপ্টেন আনোয়ারের জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছিল ক্যাপ্টেন আনোয়ারের লাশ ১৭ই আগস্ট, ১৯৫৯ সালে ঢাকায় আনা হয়।

মোস্তফা আনোয়ারের বালক পুত্র প্রদীপ আনোয়ার তাঁর শোকসন্তপ্ত পিতামহ কবি গোলাম মোস্তফাকে যখন সান্ত্বনা দেন যে, “দাদা, তুমি অমন করো না” তখন সমবেত সকলের চোখই অশ্রুসজল হয়ে ওঠে। ঐদিন অপরাহ্নে শান্তিনগরস্থ মোস্তফা মঞ্জিলে জানাযা শেষে আজিমপুর গোরস্তানে দাফন করা হয়। ক্যাপ্টেন মোস্তফা আনোয়ার এর ইংরেজী ও বাংলা উভয় ভাষাতেই লিখিত পুস্তক রয়েছে। এর মধ্যে তাঁর “সিভিল সার্ভিস এভিয়েশন অব ইণ্ডিয়া” নামক গ্রন্থখানি বিশেষ উল্লেখযোগ্য।

## বাঘা যতীন (যতীন্দ্রনাথ) :

১৮৮০ সালে ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুন্ডু উপজেলার রিষখালী গ্রামে জম্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ঊমেশ চন্দ্র মুখোপাধ্যায় ও মাতা শরৎ শশী দেবী। তাঁর পিতা ছিলেন একজন শিক্ষক। তিনি কোন অস্ত্রের সাহায্য ছাড়াই খালি হাতে বাঘ হত্যা করার কারেন, তাঁকে বাঘা যতীন নামে অভিহিত করা হয়। তিনি কৃষ্ণনগর এ.ডি.হাইস্কুল থেকে ১৮৯৮ সালে কৃতিত্বের সাথে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। বাঘা যতীন (যতীন্দ্রনাথ) কলকাতা সেন্ট্রাল কলেজে এফ.এ শ্রেণীতে ভর্তি হন। ১৯০৩ সালে তিনি বাংলা সরকারের চীফ সেক্রেটারী মিঃ হুইলার এর ষ্টেনোগ্রাফার হিসেবে চাকুরীতে যোগদান করেন। প্রথম জীবনে চুয়াডাঙ্গা হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন।

তিনি বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন। তিনি বিপ্লবী আন্দোলনে সংশ্লিষ্টতার দায়ে গ্রেফতার হন এবং এক বছরের জন্য সাজা পান। তিনি গোপনে বাংলার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে বিপ্লবী সংগঠন এবং ঝিনাইদহের নলডাঙ্গা-বলরামপুরে বিপ্লবীদের ঘাটি গড়ে তোলেন। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমেই বাংলা থেকে উত্তর প্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত ভূখন্ডের ইতঃস্তত বিচ্ছিন্ন সংগঠনগুলো একই কর্মকান্ডের অধীনে আসে এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধ কালে জার্মান সরকারের কয়েক জাহাজ অস্ত্র উপমহাদেশের বিপ্লবীদের জন্য সংগৃহীত হয়। কিন্তু পথিমধ্যে জাহাজের অস্ত্র ইংরেজদের হাতে ধরা পড়ে গেলে ইংরেজ সৈন্যরা তাঁকে খুঁজতে থাকে। অবশেষে বৃটিশ বাহিনী বুড়ী বালাম নদীর তীরে তাঁদের উপর চড়াও হয়। দীর্ঘ সময় গুলি বিনিময়ের পর তাঁর সঙ্গী চিত্তপ্রিয় রায় চৌধুরী শহীদ হন । অন্য সবাই বুলেটে জর্জরিত হয়। পরের দিন ১০ সেপ্টেম্বর ১৯১৫ ভোর বেলা গুরুতর আহত যতীন্দ্রনাথ (বাঘা যতীন) (যতীন্দ্রনাথ) চির নিদ্রায় ঢলে পড়েন। বৃটিশ সরকার তাঁর মৃতদেহটিও গুম করে দেয়।

তাঁর স্মৃতিতে মাদ্রাজে এবং তাঁর জম্মভূমি ঝিনাইদহে রয়েছে বাঘা যতীন সড়ক, বাঘা যতীন ক্লাব প্রভৃতি। আমাদের অহংকারের প্রতীক (বাঘা যতীন) (যতীন্দ্রনাথ)।

চলবে…

 

Facebook Comments
Print Friendly, PDF & Email


Leave a Reply

শিরোনাম
রাজশাহী নগরীসহ পবা, মোহনপুর, বাঘা, চারঘাট ও তানোর রেড জোনে যশোরের চৌগাছায় গর্ভবতী মায়েদের চিকিৎসায় সেনাবাহিনী সাতক্ষীরার কলারোয়ায় রাস্তার বেহালদশা জনদূর্ভোগ চরমে করোনায় মৃত ব্যক্তির লাশ হাসপাতালে ফেলে পালিয়েছে স্বজনরা জনবান্ধব ডিসি আব্দুল হামিদের জন্য বয়স্কভাতার কার্ড পেলেন গোদাগাড়ীর বৃদ্ধা সাজেমা আমলাতন্ত্রের রোষানলে বেসরকারি শিক্ষক… মহেশপুরে স্বামী-স্ত্রী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ইস্ ঝিনাইদহে সরকারি আমদানী নিষিদ্ধ ঔষধ জব্দ আটক এক সরিষাবাড়ীতে বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে ; ত্রান বিতরন অব্যাহত করোনা পরীক্ষার ফি বাতিল না হলে শিগগিরই কর্মসূচি: মান্না সরিষাবাড়ীতে বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে, ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত, ২ হাজার হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা; অসুস্থ খল অভিনেতা সাঙ্কু পাঞ্জাকে আসিফ আকবরের বিরুদ্ধে গায়িকা মুন্নির মামলা পাটের আধুনিকায়নে চাকরি পাবেন শ্রমিকরা ঝিনাইদহে আসামীদের হুমকীতে মামলার বাদী গ্রাম ছাড়া কুষ্টিয়ায় ইয়াবাসহ ২ জন আটক চাঁদা না দেওয়ায় খাল খননের কাজ বন্ধের প্রতিবাদে কৃষকদের মানববন্ধন চার বছরেও নির্মাণ হয়নি জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রীজের এ্যাপোচ, সড়ক অদৃশ্য! ঝিনাইদহে শত্রুতা করে এক কৃষকের ৩ শতাধিক ধরন্ত পেপে গাছ কর্তন বাগেরহাটে ভাই-ভাই -বাহীনি আতংঙ্ক নির্ঘুমরাত কাটে কুমারী সহ মধ্য বয়সী নারীদের মোংলায় বনবিভাগের অভিযানে হরিনের মাংস উদ্ধার দুর্যোগ মোকাবেলায় খুলনা ও সাতক্ষীরা উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের পাশে রয়েছে সেনাবাহিনী সাতক্ষীরায় কৃষকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার সাতক্ষীরার কালিগন্জে কালভার্ট ভেঙে চলাচলে চরম দূর্ভোগ

© All rights reserved © 2017 onnodristy.com

Theme Download From ThemesBazar.Com