ব্রেকিং নিউজ
সংবাদকর্মী আবশ্যক। আগ্রহীগণ সিভি, ছবি এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিসহ আবেদন করুন - onnodristynews@gmail.com/ news@onnodristy.com. মুঠোফোন : ০১৯১১২২০৪৪০/ ০১৭১০২২০৪৪০।

নান্দনিক ঝিনাইদহ,দর্শনীয় স্থানগুলো দর্শকশূন্য কেন!

মোঃ সবুর মিয়া।।

ঐতিহ্যবাহী হাজার বছরের ইতিহাসের অলংকৃত এক নাম ঝিনাইদহ। অতি পরিতাপের বিষয় ঝিনাইদহের ইতিহাস, ঐতিহ্য, ঐতিহ্যবাহী স্থান সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষের ধারণা খুবই কম। ঝিনাইদহে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য ঐতিহাসিক স্থান আছে। ধারাবাহিক আলোচনায়-

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি):

সাধুহাটি কৃষি ফার্ম বা ডাকবাংলা কৃষি ফার্ম নামে পরিচিত বাংলাদেশে মোট ২৮ টি বীজ উৎপাদন খামার আছে তার মধ্যে সাধুহাটি কৃষি ফার্ম উল্লেখযোগ্য, এখানকার ফার্মের মাটিতে তুলনা মুলক উন্নত মানের বীজ উৎপন্ন হয়। ঝিনাইদহ চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কের, ঝিনাইদহ থেকে ১৫ কিলোমিটার এবং চুয়াডাঙ্গা শহর হতে ২০ কিলোমিটার অর্থাৎ ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা মধ্যবর্তী স্থানে সাধুহাটি কৃষি খামারটির অবস্থান, এখান থেকে উৎপাদিত বীজ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে যায়। বর্তমান সময়ে কৃষি খামারটির খুব একটা ভালো পর্যায় নেই,এর প্রধান কারণ এখানে দায়িত্বশীল প্রধান কর্মকর্তাদের লাগামহীন দুর্নীতি। তদন্ত করে এমনও দেখা গেছে, যিনি প্রধান কর্মকর্তা তিনি সরকারি ফার্মে ব্যক্তিগত গরুর খামার করে ব্যবসা করেন।সেইসাথে বীজ উৎপাদনের জন্য আধুনিক সরঞ্জামের অপর্যাপ্ততা। নেই কোন গবেষণা ও গবেষণার ন্যূনতম পরিবেশ।পানির নষ্কাশন ব্যবস্থা খুবই নাজুক, বর্ষা মৌসুমে খামারটির একাংশ পানির নিচে তলিয়ে যায়,এলাকাবাসী জোর দাবি জানায় ডাকবাংলার ঐতিহ্যবাহী কৃষি খামার টিকে রক্ষা করা হোক এবং বিজ্ঞান ভিত্তিক আধুনিক উপায়ে বীজ উৎপাদনের পরিধি আরো বাড়ানো হোক।

নোয়ালতা :

ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুন্ডু থানার ৪নং দৌলতপুর ইউনিয়নের সোনাতনপুর গ্রামে আবিষ্কৃত হয়েছে নোয়ালতা নামক এক ধরনের উদ্ভিদ, লতানো ধরনের উদ্ভিদ হলেও দেখতে অনেকটা মোটা গাছের গুড়ির মতো। নবগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত গাছটি নিয়ে গবেষণা করেন, ঢাকা বাংলা কলেজের উদ্ভিদ ও প্রাণী বিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক জনাব আখতারুজ্জামান চৌধুরী, তার গবেষণায় তিনি উল্লেখ করেন গাছটির বয়স আনুমানিক ৩০০ বছর হবে। গাছটি বিরল প্রজাতির, পৃথিবীর খুব কম দেশে নোয়ালতা দেখতে পাওয়া যায়।এই গাছটিতে অনেক ওষুধি গুণ বিদ্যমান ২০১৩ সালে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের সহায়তায় তিনি গাছটির নাম করন করেন নোয়ালতা।

গবেষক জনাব আখতারুজ্জামান চৌধুরী আরও বলেছিলেন গাছটি শুধুমাত্র এই অঞ্চলের নয় সমগ্র বাংলাদেশের সম্পদ এটা কে রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের সকলের।

গলাকাটা মসজিদ :

প্রায় ১৫০ ফুট উঁচু এই মসজিদটি ১৬শ শতকে নির্মিত মসজিদটি গলাকাটা মসজিদ নামে পরিচিত।  ঝিনাইদহ জেলার বারোবাজার হতে তাহেরপুর রাস্তাটির পাশে অবস্থিত। মসজিদের সিঁড়িগুলো ইটের তৈরি ছিল,বর্তমানে মসজিদটিকে সামান্য আলাদা দেখায়। মসজিদটিতে বিভিন্ন রঙ ব্যবহার করা হলেও লাল এবং সাদা রঙের প্রাধান্য চোখে পড়ে। গলাকাটা মসজিদের নামাজ পড়ার স্থানটি বেশ বড়।

গলাকাটা দীঘি :

এখানে গলাকাটা দীঘি নামে একটি সু-বিশাল দীঘি রয়েছে। গলাকাটা মসজিদ এর পাশেই গলাকাটা দীঘি অবস্থিত।খান জাহান আলী কর্তৃক দীঘিটি নির্মিত সমসাময়িক দীঘি বলে জনশ্রুতি আছে। বিকালবেলা পাখিদের কিচিরমিচিরে শব্দে এক শান্তিময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই দীঘিতে অনেকেই আসেন প্রশান্তি অনুভবের আশায়। দীঘিতে ভ্রমনের জন্য এখানে বিভিন্ন আকারের নৌকা রয়েছে। এখানে প্রকৃতিকে দেখে মুগ্ধ হয় মানুষ।

জোড়বাংলা মসজিদ:

সম্ভবত ৮০০ হিজরীতে শাহ সুলতান মাহমুদ ইবনে নুসাই মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন। জোড়বাংলা মসজিদের উত্তরের পুকুরটি অন্ধপুকুর নামে পরিচিত। সুলতান মাহমুদ শাহের শাসনামলে মুসল্লীদের ওজু ও পানীয় জলের প্রয়োজনে সম্ভবত এ পুকুর খনন করা হয়েছিল। মসজিদের উত্তর-পূর্বের প্রবেশ দ্বার থেকে অন্ধপুকুরের তলদেশ পর্যন্ত ইট বাঁধান সিঁড়ির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। ঝিনাইদহ বারোবাজারএ মসজিদটি অবস্থিত। ১৯৯২-৯৩ সালে প্রত্নতত্ব বিভাগ কর্তৃক খননের ফলে আবিস্কৃত হয়েছে এক গম্বুজ বিশিষ্ট এ মসজিদটি। এর পাশে কয়েকটি কবর আছে।

মসজিদে প্রবেশের পথটি উত্তর-পূর্ব কোণে অবস্থিত। এ প্রবেশ পথ থেকে দীঘি পর্যন্ত ইটের তৈরী বিশাল সিঁড়ি নেমে গেছে। বর্গাকৃতি এক গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটি পুনঃ নির্মিত হয়েছে। এখানে নিয়মিত নামাজ আদায় হয়। পশ্চিম দেয়ালে অর্ধবৃত্তাকারে পোড়ামাটির নক্সা ও অলংকরণে ৩টি মেহেরাব আছে। চুন বালির প্লাস্টারের কাজও লক্ষ্য করা যায় । মেহেরাবের দুই পাশেই ছোট পিলার আছে। স্থাপত্য শিল্পের সৌন্দর্য ও কারুকার্যময় এ দৃষ্টিনন্দন মসজিদটি মুসলিম সভ্যতা ও উৎকর্ষের নিদর্শন।

পীর বলুদেওয়ান এর মাজার:

পীর বলুদেওয়ান এর মাজার কালিগঞ্জ থানার রাখালগাছি ইউনিয়নের হাসনহাটি গ্রাম ও ধোপাদি গ্রামের মানুষের মিলন মেলা।বলুদেওয়ানের মেলাটি এ অঞ্চলোর লোকমুখে সর্বাধিক আলোচিত, পীর বলুদেওয়ানের মৃত্যু বার্ষিকীকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয়। তিনি অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। লোক মুখে শোনা যায় তিনি যা বলতেন তাই হতো । বাস্তবিকপক্ষে তাঁর জীবন কাহিনীর তেমন কোন নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায় না । জন্ম থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত তার জীবন রহস্যে আবৃত। লোক মুখে শোনা যায় তিনি যাত্রাপুর গ্রামের এক কৃষক পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। অনুমান করা হয়- তিনি ৩ হতে ৪ শত বছর আগে জস্মেছিলেন। জন্মবার অল্প কাল পরোই তাঁর পিতা মারা যান । আবার অনেকের মতে তাঁর পিতা অনেক দিন বেঁচে ছিলেন।

পীর বলুদেওয়ানের মাজার ধোপাদি গ্রামে এখনও প্রতিবছর মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

গাজী, কালু ও চম্পাবতী’র মাজার :

গাজী, কালু ও চম্পাবতী’র পরিচয় নিয়ে রয়েছে নানান প্রচলিত গল্প। বৈরাট নগরের রাজা ছিলেন দরবেশ শাহ সিকান্দর। তারই সন্তান “বরখান”গাজী। আর কালু ছিলেন রাজা দরবেশ শাহ সিকান্দরের পালিত পুত্র।কালু আর গাজীর ছিল ভাল আন্তরিকতা।সামন্ত রাজা রামচন্দ্র ওরফে মুকুট রাজার মেয়ে চম্পাবতী। চম্পাবতীর ভালোবাসার টানে গাজী ছুটে গিয়েছিলেন ছাপাই নগর; বর্তমানে বারোবাজার নামে পরিচিতি।হিন্দুরাজার মেয়ের প্রেম গাজীকে ভুলিয়ে দিল সে মুসলমান।  ছাপাই নগর চলে আসার পর গাজীর সঙ্গে কালুও ছিলো।

ছাপাই নগরের বলিহর বাওরের তমাল গাছ তলায় গাজী নিয়মিত অপেক্ষা করতেন চম্পাবতীর জন্য। এদিকে মুকুট রাজা তো রাগে আগুন। গাজীকে শায়েস্তা করতে ভার দিলেন তার সেনাপতিকে। তবে সেনাপতি দক্ষিণা রাও যুদ্ধে পরাজিত হয়ে গাজীর কাছে ইসলাম ধর্মের দীক্ষা নেন। অন্যদিকে রাজা রামচন্দ্র যুদ্ধে পরাজিত হয়ে চলে যান ঝিনাইদহের বাড়িবাথান। পিছু পিছু গাজীও গেলেন। সঙ্গী হিসেবে এবার কালুর সঙ্গে দক্ষিণা রাওও আছেন। শেষ পর্যন্ত চম্পাবতীকে উদ্ধার করে নিজের বাড়ি নিয়ে আসলেও রাজা সিকান্দর মেনে নিলেন না। তিনি গাজীকে তার বাড়ি থেকে বিতাড়িত করলেন।

প্রেমের জন্য দরবেশ হলেন গাজী। চম্পাবতীকে নিয়ে পথে নামলেন। ঘুরতে ঘুরতে একসময় গাজীর আস্তানা হয় সুন্দরবন এলাকায়। সেখানে তার সঙ্গী কালু ও দক্ষিণা রাও। গাজী, কালু, চম্পাবতী’র কথা দেশের দক্ষিণাঞ্চলে শোনেনি এমন লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। সুন্দরবনের মৎসজীবী হিন্দিুরা এখনও গাজীর নামে পাঠা বলি দেয়! জনশ্রুতি আছে গাজীকালুর আধ্যাত্মিক প্রভাবে বাঘ-কুমিরে একঘাটে জল পান করত।

হিন্দুধর্মবলম্বলীরা বনদূর্গার বদলে যাদের পূজা করে তাদের মধ্যে গাজী-কালু অন্যতম। তাদের নিয়ে অনেক পৌরাণিক গল্প চালু আছে। রয়েছে কবিতা ও পুঁথি।বারোবাজারের গাজী, কালু, চম্পাবতী’র মাজার রয়েছে।

চলবে

Facebook Comments


Leave a Reply

শিরোনাম
সারা বাংলা হবে সোনার বাংলা :তথ্য প্রতিমন্ত্রী ঐতিহাসিক “মুজিব শতবর্ষে ” বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ চাই বাকবিশিক মুজিবর্ষেই জাতীয়করণের লক্ষ্যে কুমিল্লায় বাশিসের মতবিনিময় সভা শেরপুরে অবশেষে দখল মুক্ত হল স্কুল মাঠটি ঝিনাইদহ জেলা মৎস্যজীবি দলের   প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত  ঝিকরগাছার বাঁকড়ায় একতা মেডিকেল সার্ভিস শুভ উদ্বোধন  পুনর্মিলনীতে উচ্ছ্বসিত জবির দর্শন বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা রাঙ্গুনিয়ায় গাউছিয়া সমিতির ১ম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত  শুরুর আগেই দর্শনার্থীর ভীর, প্রস্তুতি শেষের পথে, শনিবার আনুষ্টানিক উদ্বোধন শহিদ কাপুরকে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে ফেঁসে গেলেন শ্রাবন্তী সালমান শাহ ইস্যুতে এবার মুখ খুললেন মৌসুমীও, তবে..! পাটমন্ত্রী করোনাভাইরাসে নয়, সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত : ফ্লোরা খালেদা জিয়ার জামিন হচ্ছে না রাজনৈতিক কারণে : মওদুদ হরিণাকুণ্ডু উপজেলাতে নানা আয়োজনে পালিত হলো লালন জন্মভূমি স্মরণ উৎসব মিরপুরে বঙ্গবন্ধু অলিম্পিয়াডের পুরষ্কার বিতরণ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা মিরপুরে আমরা নতুন শিক্ষা নিকেতন’র বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরষ্কার বিতরণ ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র বিজু কারাগারে মিরপুরে সড়ক দূর্ঘটনায় বৃদ্ধা নিহত মিরপুরে দারুস সালাম একাডেমীর ৭ শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপি’র মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত     ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের উপ নির্বাচন প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র জমা টাইগ্রেস ৮৬ রানে পরাজিত ‘একমুঠো জোনাকি’ নওগাঁয় জেলা প্রশাসক জাতীয় জুনিয়র টেনিস টুর্নামেন্টের শুভ উদ্ধোধন মিউজিক্যাল লাইভ শোতে দেবলীনা-সন্দীপন

© All rights reserved © 2017 onnodristy.com

Theme Download From ThemesBazar.Com