ব্রেকিং নিউজ
সংবাদকর্মী আবশ্যক। আগ্রহীগণ সিভি, ছবি এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিসহ আবেদন করুন - onnodristynews@gmail.com/ news@onnodristy.com. মুঠোফোন : ০১৯১১২২০৪৪০/ ০১৭১০২২০৪৪০।

আর্থিক ও সামাজিক মর্যাদা চায় এম,পিও ভুক্ত শিক্ষক সমাজ…

মোহাম্মদ মোকাররম হোসেন (আপন)।।

শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড, শিক্ষা ছাড়া কোন জাতি উন্নতি লাভ করতে পারেনা, “যে জাতি যত বেশী শিক্ষিত সে জাতি তত বেশী উন্নত।”

এসব প্রবাদগুলো যাকে ঘিরে রচিত হয়েছে তিনি হলেন “শিক্ষক”। শত শত বছর ধরে শিক্ষকরা মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন। শিক্ষাগুরু হিসেবে শিক্ষকরা দেশ, সমাজ ও জাতির কাছে নমস্য ব্যক্তি।
শিক্ষকেরা কী করেন? বাচ্চারা স্কুলে যেতে শুরু করার পর থেকেই শেখানো হয়, সে কিভাবে সমাজে চলাফেরা করবে, বড়দের সাথে কেমন ব্যবহার করবে। বাবা-মায়ের পরেই যেন শিক্ষকের অনেক বড় দায়িত্ব প্রতিটি শিক্ষার্থীদের প্রতি!

একটি শিক্ষার্থীর যে মেধা সেটাকে বিকাশ করানোর দায়িত্ব নিচ্ছেন একজন শিক্ষক। তাকে বড় বড় স্বপ্ন দেখতে উৎসাহী করছেন একজন শিক্ষক। তার স্বপ্ন গুলোকে বাস্তবায়িত করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। একটি শিক্ষিত জাতি গড়ছেন একজন শিক্ষক!
এতোগুলো দায়িত্ব একজন শিক্ষকের। তাঁর প্রকৃত মূল্যায়ন করা কি সম্ভব হচ্ছে? যিনি একটি সুষ্ঠু জাতি গড়ে তুলছেন, যার কাছে আমরা সারাজীবন ঋণী হয়ে থাকছি তাঁকে আসলে কিভাবে প্রকৃত মূল্যায়ন করতে পারি আমরা?
জানি আমরা তাঁদের প্রকৃত মূল্যায়ন কোনো কিছু দিয়েই করতে পারব না। তবুও তাঁদেরকে সম্মানী হিসেবে কিছু প্রদান করা হয়, তাঁদের সেই মহান কাজের জন্য। কিন্তু তাঁদের সম্মানী হিসেবে যা প্রদান করা হচ্ছে তা কতটা যথাযথ? কি কারণে সর্বোচ্চ মেধাবীরা শিক্ষকতা পেশায় আসছেন না আমাদের দেশে? মেধাবীরা কেন অন্য পেশা বেঁছে নিচ্ছেন?

অথচ উন্নত দেশ গুলোতে সর্বোচ্চ স্থানে আছে শিক্ষকতা পেশা! সবচেয়ে বেশি সম্মানী তাঁদের প্রদান করা হয়ে থাকে। আর সবচেয়ে মেধাবীরাই যাচ্ছেন শিক্ষকতা পেশায়! কিছু উন্নত দেশের শিক্ষক মূল্যায়নের তথ্য দেখে নিতে পারি আমরা। টপ চারটি দেশ সবচেয়ে বেশি বেতন দিচ্ছেন শিক্ষকদের।
উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়-

১. লাক্সেমবার্গ এ প্রাইমারী স্কুলের একজন শিক্ষক তাঁর শিক্ষকতা জীবনের শুরুতে, বছরে ৬৪,০০০ ইউ এস ডলার পেয়ে থাকেন। এবং শিক্ষকতার ১৫ বছর পরে, ৯৮,০০০ ইউ এস ডলার পান।

২. সুইজারল্যান্ডে একজন শিক্ষক তাঁর শিক্ষকতা জীবনের শুরুতে বছরে ৪৭,৫০০ ইউ এস ডলার পেয়ে থাকেন। এবং শিক্ষকতার ১৫ বছর পরে ৬৯,০০০ ইউ এস ডলার পান।

৩. জার্মানে স্কুলের একজন শিক্ষক তাঁর শিক্ষকতা জীবনের শুরুতে বছরে ৪৭,৫০০ ইউ এস ডলার পেয়ে থাকেন। এবং শিক্ষকতার ১৫ বছর পরে, বছরে ৬৪,০০০ ইউ এস ডলার পান।

৪. নেদারল্যান্ড স্কুলের একজন শিক্ষক তাঁর শিক্ষকতা জীবনের শুরুতে বছরে ৩৬,০০০ ইউ এস ডলার পেয়ে থাকেন। এবং শিক্ষকতার ১৫ বছর পরে, বছরে ৬০,০০০ ইউ এস ডলার পান।

শুধু তাই নয় সম্মানের দিক থেকেও শিক্ষকেরা অনেক এগিয়ে আছেন। উদাহরণ স্বরূপ দেখা যায়- শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা নিয়ে ২০১৩ সালে গবেষণা করে ভার্কি ফাউন্ডেশন। গবেষণায় দেখা যায়, এশিয়ার দেশগুলোর সমাজ কাঠামোয় বিশেষ করে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুরে শিক্ষদের বৃহৎ সম্মানের চোখে দেখা হয়

– চিনাদের মধ্যে ৫০ ভাগ বাবা-মা তাদের বাচ্চাদের শিক্ষক হওয়ার ব্যাপারে উৎসাহ দেন।

আমেরিকায় শতকরা ৩০ ভাগ বাবা-মা শিক্ষক হতে উৎসাহ দেন।

কিন্তু সম্প্রতি Center for Educational Research রিসার্চ নামের একটি শিক্ষা গবেষণা মূলক প্রতিষ্ঠানের ৩৫৫ জন গার্ডিয়ানদের এক জরিপে জানা যায় শতকরা ৬৫ ভাগ বাবা-মা এবং তাদের সন্তানরা চান না শিক্ষকতা পেশায় যেতে। এদের মধ্যে বেশিরভাগের ইচ্ছা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার কিংবা বিসিএস ক্যাডার(প্রশাসনিক কর্মকর্তা)র দিকে। তাদের মাঝে শতকরা ৩০ ভাগ এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি কিংবা ভাগ্যের ওপর নির্ভর করছেন। শুধুমাত্র শতকরা ৩ ভাগ বাবা-মায়েরা এবং তাদের সন্তানরা চান শিক্ষক হতে। শিক্ষক হতে না চাওয়ার কারণ হিসেবে তারা দেখিয়েছেন সমাজের শিক্ষকদের মর্যাদা হ্রাস এবং আর্থিক অনিশ্চয়তা।

আর এইসব অনিশ্চয়তাকে ঘিরে আমরা মেধাবীদের শিক্ষকতায় আনতে পারছি না। যেখানে শিক্ষকের স্থান সর্বোচ্চ স্থানে হওয়া উচিত ছিল। শিক্ষকরাই যেহেতু জাতি গড়ার কারিগর তাই তাঁদেরকে তাঁদের প্রাপ্য সুবিধা এবং সম্মান দেয়া আমাদেরই দায়িত্ব।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশ্বের সাথে তাল মেলাতে এবং উন্নত দেশ বিনির্মানে  আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষকদের সামাজিক ও আর্থিক মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করা এখন রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে আমি মনে করি।

আর এটা বর্তমান সময়ের সাহসী ও জনপ্রিয় নেত্রী, মানবতার মা জননেত্রী শেখ হাসিনা, সকল শিক্ষা ব্যবস্থা একযোগে জাতীয়করণের ঘোষণা করবেন এবং সেই সাথে শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় তিনি যথাযথ ভূমিকা পালন করে জাতির জনকের স্বপ্ন বাস্তবায়নের মাধ্যমে চির স্মরনীয় ও বরনীয় হয়ে রইবেন পুরো শিক্ষক সমাজের হৃদয়ের মনিকোঠায় তো বটেই সেই সাথে ১৮ কোটি বাঙালীর হৃদয় গহীনে এই প্রত্যাশা শিক্ষক সমাজের। শিক্ষা নিয়ে গড়বো দেশ শেখ হাসিনার বাংলাদেশ স্লোগানের যথার্থতা পাবে উল্লেখিত কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে।এই প্রত্যাশা রেখে ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুসাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে শেষ করছি।

লেখক
বিবিসি বাংলা টিভি প্রতিনিধি, ফেনী
সহকারী প্রধান শিক্ষক, ও

সাধারন সম্পাদক, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি, চট্টগ্রাম বিভাগ।

Facebook Comments


Leave a Reply

শিরোনাম
“খাম্বা এখন গলার কাঁটা” ঝিনাইদহে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ী  আটক ঝিনাইদহে বসন্ত মেলার উদ্বোধন বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের কিছু কথা দুপচাঁচিয়ায় আমের মুকুলে মৌ মৌ গন্ধে চারদিক মুখরিত টিআইএন ছাড়া সঞ্চয়পত্র বিক্রি না করার নির্দেশ ইসলামের নামে জঙ্গীবাদ সৃষ্টি করে ধর্মকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী মুক্তি পেল রনির ‘মারিস কেন চোখ’ (ভিডিও) এবার বড় পর্দায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বায়োপিক! সারার ছবি থেকে আপত্তিকর দৃশ্য ও শব্দ বাদ নওগাঁয় প্রযুক্তি-ই হোক নারী মুক্তির দিশা প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিল্পী কল্যাণ পরিষদের আয়োজনে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ বগুড়ার শেরপুরে প্রতিপক্ষের মারপিটে শিশুসহ আহত ৩ শিশু ও নারী উন্নয়নে সচেতনতামূলক যোগাযোগ কার্যক্রম বিষয়ে উঠান বৈঠক জাজিরার বিলাশপুরে ভয়াভহ অগ্নিকান্ডে বসত ঘড়সহ ছয়টি ঘর পুড়ে ছাই! কুষ্টিয়ায় ৭৯ বোতল  ফেনসিডিলসহ একজন আটক মিরপুর উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়ন ঘোষণা ঝিনাইদহে  কৃষকদের মাঝে বিনামুল্যে সার ও বীজ বিতরণ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ৩ শিক্ষার্থীকে ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমানা ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এক বাক প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণ, আটক -১ ঝিনাইদহে ফার্মেসিতে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে জরিমানা আদায়  মহেশপুরে মোবাইল কোর্ট অভিযানে জেল জরিমানা মিরপুরে সিভিডিপি’র মাসিক যৌথ সভা ও ই-প্রশিক্ষণ ‘আধুনিক নগরায়ণে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে জাতিসংঘ’ মুজিববর্ষেই সব ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছাতে সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী

© All rights reserved © 2017 onnodristy.com

Theme Download From ThemesBazar.Com