১৮ অগাস্ট ২০১৮ || শনিবার || ০৪:১০ অপরাহ্ন

খন্দকার ফিরোজ আহম্মেদ’র রম্য রচনা

হারপিক (১ম পর্ব)

খন্দকার ফিরোজ আহম্মেদ।।

নাম হিটু মিয়া, কিন্তু আজ পর্যন্ত হিট করতে পারেনি। এবারই তার শেষ চান্স ছিলো। কিন্তু পাস হলো না। সে তো বরাবর ভালোই লেখে, অথচ ফলাফলে মহা বিপর্যয় নেমে আসে। বাসা থেকে কমিটমেন্ট দিয়েছে যে এবার পাস করতে না পরলে বাড়ি থেকে বিদায় করে দেবে। একথা সে অনেকবারই শুনেছে, তাতে সমস্যা নেই। সমস্যাটা অন্যখানে। লাভলীর সাথে লাভালাভির বয়স তার প্রায় আট নয় মাস। লাভলী জানতো যে হিটু মিয়া অনার্সে পড়ে, কিন্তু পরীক্ষায় সময় বিষয়টা জানাজানি হয়ে গেছে। ইন্টার পাস করার হ্যাট্টিক চান্সও চলে গেছে। লাভলী বলে দিয়েছে, যদি এবার পাস করতে পারো তাহলে তোমার সাথে সম্পর্ক থাকবে, না হলে রেজাল্টের দিনই তোমার সাথে আমার সম্পর্ক শেষ।
রেজাল্ট হয়েছে আধাঘন্টা আগে। এর মধ্যে লাভলী মেসেজে জানিয়েছে, তার সাথে যেন আর যোগাযোগ না করা হয়। খুব হিট পাইছে হিটু মিয়া।
তিনটের কিছু পরে মন খারাপ করে বাসায় গেলো। বাসায় গিয়ে দেখলো বাসার সবার মন খারাপ। মনে মনে বেশ তৃপ্তি পেলো হিটু মিয়া। তার দু:খে বাসার সবাই দু:খী; এটা কম কথা না। বড়ভাই গম্ভীর কণ্ঠে বললো, রেজাল্ট কী তোমার?
হিটু মিয়া বললো, বুঝলাম না বিষয়টা। বার বার মেসেজ দিচ্ছি, শুধু এফ দেখাচ্ছে; মনে হয় রেজাল্টের সার্ভারে গন্ডগোল হইছে।
এতো দু:খের মধ্যেও ছোট ভাইবোন দুটো হেসে উঠলো। বড় ভাইয়ের রাগ যেনো আরো চড়ে গেলো এতে। হিটু মিয়া অনুভব করলো যে তার উপর হিট শুরু হয়ে গেছে।। এসব মামুলী ব্যাপার, অনেক অভিজ্ঞতা আছে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর সে গেটের বাইরে নিজেকে আবিষ্কার করলো।
নাহ্, আর সম্ভব না। এজীবন আর রাখা সম্ভব না। এতো অপমান সহ্য করা যায় না। লাভলীর কাছ থেকে ডিচকাচ মেসেজ পাওয়ার পর এমনিতেই জীবনের উপর বিতৃষ্ণা এসে গেছে। ওরা বোঝে না যে, পাস করার চেয়ে অভিজ্ঞতা অর্জনটা অনেক জরুরী। বাড়ি থেকে বের করে দেয়া বেশ অপমানজনক। তারপর লাভলীর মতো একটা সুন্দরী ভালো মেয়েও যখন তাকে অপমান করলো, তখন এজীবন ত্যাগ করাই বেটার।
বাসা থেকে কমলাপুর বেশ দুরে। ট্রেনের তলায় মাথা দিয়ে মরাই ভালো হবে। খুব দ্রুত হয় বিষয়টা। কমলাপুর নেমে রেল লাইন ধরে অনেক্ষণ হাঁটলো হিটু, কিন্তু মাথা দেয়ার মতো কোন ফাঁকা জায়গা পেলো না, লোকে গিজগিজ করছে। গিজগিজানি লোকের মধ্যে রেল লাইনে শুয়ে পড়লে লোকে পাগল ভেবে পিটুনী দিতে পারে, অতএব রেলে কেটে মরার পরিকল্পনা বাদ।
পুর্ব দিকে হাঁটতে শুরু করলো হিটু মিয়া। বড় একটা দিঘির মতো পুকুর আছে সামনে। ডুবে মরাই ভালো। কতো লোকেই তো ডুবে মরছে নদীতে পুকুরে, আর একটা সংখ্যা না হয় বাড়বে!
এখনো পুকুর বেশ দূরে। একটা টোঙ দোকানে বসে আয়েশ করে চারটে পুরী, একটা সামুচা আর এককাপ চা খেলো সে। সারাদিন খাওয়া হয়নি রেজাল্টের চিন্তায়। বাড়ি গিয়ে চড় থাপ্পড় কিল খাইছে, কিন্তু ওসবে তো আর পেট ভরে না! একটু পরে পুকুরে তো ডুবছিই, একটু আয়েশ করে খেলে এমন কিই বা আর ক্ষতি হবে! একটা সিগারেট ধরালো। বেশ তৃপ্তি। দু:খ হলো হিটু মিয়ার। কোম্পানী এতো পরিশ্রম করে এতো দামের সিগারেট বানাইছে, তার আর খাওয়া হবে না।
লাভলীর কাছে বেশ কয়েকবার ফোন দিয়েছে, কিন্তু ধরেনি সে। মেসেজ লিখলো, আমি চলে যাচ্ছি।
জবাব আসলো, বেশ।
কোথায় যাচ্ছি সেটা জানতে চাইলে না?
লাভলীর জবাব, দরকার নেই।
তবুও তোমাকে বলে রাখছি, কারণ আমার লাশটা তো সনাক্ত করার দরকার হতে পারে।
দরকার হবে না। লাভলীর জবাব।

চলবে-

Facebook Comments


© All rights reserved © 2017 Onnodristy.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com