ব্রেকিং নিউজ
সংবাদকর্মী আবশ্যক। আগ্রহীগণ সিভি, ছবি এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিসহ আবেদন করুন - onnodristynews@gmail.com/ news@onnodristy.com. মুঠোফোন : ০১৯১১২২০৪৪০/ ০১৭১০২২০৪৪০।

ইবনে তাইমিয়া (রাহ:) এর মতে বিশ রাকাআত তারাবীহের নামাজ উত্তম

আবদুল মান্নান

          -এম এ, এল এল বি।।

(ক)**  ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা ওমর(রা:) শাসনামলে  রাষ্ট্রীয়ভাবে ২০ রাকাআত তারাবীহের নামাজ আদায় করা হত। জামায়াতবদ্ধ তারাবীহের নামাজ আদায়ের পদ্ধতি চালু করেছিলেন।প্রখ্যাত সাহাবি উবাই ইবনে কাআবের নেতৃত্বে এ পদ্ধতি চালু করেছিলেন ওমর(রা:)।  [যেহেতু রাসুল(সা:) এর পক্ষ থেকে তারাবীহের নামাজের কোন সংখ্যা নির্দিষ্ট ছিল না।]

শাইখ ইবনে তাইমিয়া (রা:) বলেন; কোন সাহাবি হজরত ওমর (রা:) এর এই পদ্ধতিকে (২০) অস্বীকার করেননি। ২০ রাকাআত এর উপর সাহাবিদের এজমা ছিল।

ইবনে হাজর মক্কী শাফেয়ী বলেন, ২০ রাকাআত নামাজের উপর সাহাবিদের এজমা প্রতিষ্ঠিত ছিল। ইবনে কুদামা বলেন, এটি এজমার মত। ইমাম নববী,হাফেজ ইবনে আবদুল বর মালেকী, নাওয়াব ছিদ্দিক হাসান ইত্যাদি হাদিস বিশারদগণ এটিকে এজমায়ে সাহাবি বলেন স্বীকার করেছেন।

উসুলে ফিকহের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এজমায়ে সাহাবা  অস্বীকার কারিকে  কাফের বলা হয় । হজরত আবু বকর ছিদ্দিক(রা:) এর খেলাফতের উপর ও সাহাবিদের এজমা ছিল। তার খিলাফত অস্বীকার কারীদের কুফরি/ কাফের হয়ে যায়।

(খ)**ইবনে তাইমিয়া(রা:) তার প্রসিদ্ধ ফতোয়ার কিভাবে ২০ রাকাআত তারাবীহ ও তিন রাকাআত বিতর  নামাজ আদায় করা  উত্তম বলে ফতোয়া প্রদান করেছেন। তিনি কিতাবের ২৩ খন্ডের ১১২ পৃষ্ঠায় বলেন

قد ثبت آن ابي ابن كعب كان يقوم بالناس عشرين ركعة في قيام رمضان و يوتر بثلاث، فراي كثير من العلماء أن ذلك هو السنة لأنه أقامه بين المهاجرين والأنصار ولم ينكره منكر.(مجموع فتاوى ابن تيمية)

অর্থাৎ :  প্রমাণিত হল যে, উবাই ইবনে কাআব(রা:) মানুষদের নিয়ে রমজানে বিশ রাকাআত তারাবীহের নামাজ আদায় করতেন।এবং বিতরের নামাজ তিন রাকাআত পড়তেন। অধিকাংশ উলামার মতে ইহাই সুন্নাত। কেননা তিনি মোহাজির ও আনসারি সাহাবিদের মাঝে বিশ রাকাআত প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।কোন অস্বীকারকারী বিশ রাকাআত তারাবীহ ও তিন রাকাআত বিতর অস্বীকার করেননি।

তিনি আরও বলেন ,واستحب آخرون ؛تسعة وثلاثين ركعة، بناء علي انه عمل أهل المدينة القديم، وقال طائفة؛ ثبت في الصحيح عن عائشة رض ؛ أن النبي صلى الله عليه وسلم لم يكن يزيد في رمضان ولا غيره على ثلاث عشرة ركعة،، و اضطرب قوم في هذا الأصل، لما ظنوه من معارضة الحديث لما ثبت من سنة الخلفاء الراشدين وعمل المسلمين .والصواب أن ذلك جميعه حسن

অর্থাৎ:অনেকই তারাবীহ  ৩৯ রাকাআত মুস্তাহাব বলে মনে করেন।ইহা পুরাতন মদিনা বাসীদের আমল( ইমাম মালেক এর অভিমত)।অপর একদল বলেন, হজরত আয়েশা(রা:) থেকে বিশুদ্ধভাবে বর্ণিত আছে যে, রাসুল(সা:) রমজান ও অপরাপর মাসে তের রাকাআতের বেশি নামাজ আদায় করতেননা। এই মূলনীতির বিষয়ে অপর যে দল ভ্রমে আছে তারা মনে করেন যে, ইহা সেই হাদিসের বিরুদ্ধাচরণ যা খোলাফায়ে রাশেদার সুন্নাত এবং মুসলমানদের আমল দ্বারা প্রমাণিত(২০ রাকাআত)। তবে সঠিক মতামত হচ্ছে প্রত্যেক পদ্ধতিই হাসান বা উত্তম।

ইবনে তাইমিয়া আরো বলেন, তারাবীহের নামাজের সংখ্যা রাসুল(সা:) কতৃক নির্দিষ্ট নাই। তাই

ثم كان طائفة من السلف يقومون باربعين ركعة ويوترون بثلاث وأخرون قاموا بست وثلاثين واوتروا بثلاث؛ وهذا كله ساءغ فكيف ما قام في رمضان هن هذه الوجوه فقد احسن.

অর্থাৎ: সলফে সালেহিনের একটি দল তারাবীহ ৪০ রাকাত/ বিতর ৩ রাকাআত ; অপর দল ৩১রাকাত /৩ রাকাআত আদায় করতেন।এ সমস্ত প্রত্যেক পদ্ধতি শরীয়তসিদ্ধ।রমজানে যে কোন একটি পদ্ধতিতে তারাবীহ আদায় করলে অধিক উত্তম ।

(গ)**- ইবনে তাইমিয়া(রা:) উক্ত কিতাবের ২২ খন্ড:  ২৭২ নং পৃষ্ঠায় নিজের অভিমত ব্যক্ত করে আরো বলেন

فالقيام بعشرين ركعة هو الأفضل و هو الذي يعمل به أكثر المسلمين فإنه وسط بين العشر والأربعين.

অর্থাৎ: ২০ রাকাআত তারাবীহের নামাজ আদায় করা। ইহা অবশ্যই সর্বাপেক্ষা উত্তম। এর উপরে অধিকাংশ মুসলমান আমল করে থাকেন। নিশ্চয় কেননা ইহা দশ ও চল্লিশের মধ্যে অবস্থান।

সুতরাং প্রমাণিত হল যে,  ইবনে তাইমিয়া(রা:)২০ রাকাআত তারাবীহ এবং ৩  রাকাআত বিতর নামাজ আদায়কেই উত্তম বলে স্বীকৃতি ও ফতোয়া প্রদান করেছেন।

(ঘ)**- যে সমস্ত হাদিস দ্বারা ৮ রাকাআত তারাবীহ প্রমাণিত হয় সে হাদিসের ব্যাখায় জমহুর উলামার অভিমত নিন্মে উল্লেখ করা হল

১)  উক্ত হাদিসে ৮ রাকাআত দ্বারা তাহাজ্জুদের নামাজ উদ্দেশ্য।হাদিসে  لم يكن يزيد في رمضان ولا غيره বা রমজান ও রমজানের বাইরে এর চেয়ে বেশি পড়তেন না বলে উল্লেখ আছে।

কারণ, রমজান ছাড়া তারাবীহ পড়া হয় না। তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করা হয়। সেই ৮ রাকাআত  রাতের শেষ দিকে রাসুল(সা:) আদায় করতেন।তারাবীহ রাতের শুরুতে আদায় হয়ে থাকে।

২) ওমর (রা:) সুন্নাহ বিরোধী কোন কাজ করতে পারেননা।

৩) কারণ, তিনি বিদআত বিরোধী কঠোর অবস্থান গ্রহন করতেন।

৩) এ রকম সুন্নাহ বিরোধী কোন আমল করলে সাহাবাগণ অবশ্যই এর বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহন করতেন।

৪)  অথচ  সাহাবাগণ ২০ রাকাআতের উপরে ঐক্যমত্য ছিলেন। কোন সাহাবি ২০ রাকাআত তারাবীহের নামাজ আদায় অস্বীকার করেননি।

৫)- রাসুল(সা:) এর পক্ষ থেকে ২০ রাকাআত বিষয়ে কোন আমল/ কথা ছিল বলে ওমর(রা:) রাষ্ট্রীয়ভাবে  সেই আমল বাস্তবায়ন করেছিলেন। হয়ত তার সনদ আমাদের পর্যন্ত বিশুদ্ধভাবে পৌছেনি।

৬)  হাফেজ ইবনে হাজর المطالب العالية গ্রন্থে একটি হাদিস উল্লেখ করেন যে,
أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يصلي في رمضان عشرين ركعة والوتر. ( مصنف ابن أبي شيبة و مسند عبد بن حميد)

অর্থাৎ: রাসুল(সা:) রমজানে বিশ রাকাআত তারাবীহ আদায় করতেন। <আল্লামা বুসীরি উক্ত হাদিসের সনদ দুর্বল উল্লেখ করলেও ইজমা ও উম্মতের আমল এই হাদিসকে শক্তিশালী করেছে। সুতরাং এই হাদিসকে দুর্বল বলা যাবেনা।
৭) ইমাম আবু ইউসুফ(রা:) বলেন

سألت أبا حنيفة عن التراويح و ما فعله عمر رض ؟ فقال التراويح سنة مؤكدة ولم يتحرضه عمر عن تلقاء نفسه و لم يكن فيه مبتدعا ولم يأمر به إلا عن أصل لديه و عهد من رسول الله صلى الله عليه وسلم ( مراقي الفلاح )

অর্থাৎ: আমি ইমাম আবু হানিফা(রা:) কে তারাবীহ ও ওমর(রা:) এর উক্ত কর্মের বিষয়ে প্রশ্ন করেছি। তিনি বলেন; তারাবীহের নামাজ সুন্নাত মুয়াক্কাদাহ। ওমর(রা) ইহা মনগড়া প্রবর্তন করেননি। বিদআত প্রচলন করেননি। দ্বীনের মূল বিষয় যা তার কাছে ছিল তা থেকে তিনি বিশ রাকাআত এর নির্দেশ দিয়েছিলেন। যা তিনি রাসুল(সা:) এর কাছ থেকে আহরণ করেছিলেন।

(ঙ)-** খোলাফায়ে রাশেদার সুন্নাতের উপর আমল করা আমাদের জন্য আবশ্যক। ওমর(রা:) খোলাফায়ে রাশেদার অন্যতম।

তার সুন্নাত মুসলমানদের পালন করা আবশ্যক। রাসুল(সা:) বলেন

عليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين ( أبو داود، الترمذي)

অর্থাৎ: তোমরা আমার সুন্নাত ও খোলাফায়ে রাশেদার সুন্নাতের অনুসরণ করবে ( আবু দাউদ ও তিরমিযী)

(চ)** পরিতাপের বিষয় হল;  অনেক ব্যক্তি ইবনে তাইমিয়ার মত একজন বিদগ্ধ হাদিস বিশারদকে না বুঝে/ তার কিতাব না পড়ে তার উপর মিথ্যা আরোপ করে থাকেন। তিনি নাকি তারাবীহের ২০/ বিতর ৩ রাকাআত অস্বীকার করেন!  অদ্ভুত!!

এ সমস্ত অল্প বিদ্যার ভাইয়েরা বিগত কয়েক বছর যাবৎ সহজ-সরল মুসলমানদের মাঝে এই বিষয়ে জঘন্য  বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছেন। মাযহাব পালন কিংবা ইমাম আবু হানিফা(রা:) এর মত একজন গ্রহণযোগ্য মুজতাহিদেরকে আক্রমনের ভাষায় কথা বলেছেন (নাউযু বিল্লাহ)।আশ্চর্য জনক হলেও সত্য যে, এ ক্ষেত্রে অনেকে ডা: জাকির নায়েক কে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন!

আবার অন্যদিকে অনেক জ্ঞানী ব্যক্তি ও এই মাসআলাতে  ইবনে তাইমিয়াকে না বুঝে/ না পড়ে  সমালোচনায় নিজেদের রসনা সম্প্রসারণ করেছেন। যা ইসলামের প্রচার ও প্রসারে অপূরণীয় ক্ষতি করে ফেলেছে।

(ছ)**এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ইবনে তাইমিয়া/ অন্য কেউ যদি ২০ রাকাআত তারাবীহ কে অস্বীকার করেন। তখন সকল মুসলমানের ঈমানের দাবি হল সেই মতবাদকে সমুদ্রের গভীরে নিক্ষেপ করা।সেই ভ্রান্ত মতবাদের বিরুদ্ধে ঈমানী শক্তির সর্বোচ্চ প্রয়োগ করা। কারণ ওমর(রা:) এর সুন্নাতের বিরুদ্ধে ইবনে তাইমিয়া কিংবা পরবর্তী কারো মতামত মূল্যহীন। পেশাব- পায়খানার মত! যা অবশ্যই বর্জন করতে হবে।

তবে ইবনে তাইমিয়ার মত একজন হাদিস বিশারদ এ রকম গর্হিত অপরাধ কোন দিন করতে পারেননা। তাই তিনি ২০ রাকাআত তারাবীহের নামাজ ও তিন রাকাআত বিরত নামাজ আদায় করা উত্তম বলে ফতোয়া প্রদান করেছেন।

সুতরাং ইবনে তাইমিয়া  ওমর (রা:) এর সুন্নাত বিশ রাকাআত এর উপর কোন ধরণের চুরি চালানোর ধৃষ্টতা প্রদর্শনের দু:সাহস দেখাননি। সুন্নতের অনুসারী হিসেবে বিশ রাকাআত তারাবীহের নামাজ কে সবচেয়ে অপরাপর সংখ্যা থেকে জোর দিয়ে উত্তম বলে ফতোয়া দিয়েছেন। বিতর নামাজ কে তিন রাকাআত স্বীকৃতি দিয়েছেন।

(সংক্ষেপিত)।

Facebook Comments


শিরোনাম
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চার দালাল আটক হারিয়ে যাওয়া মোহামেডানীদের সালতামামি… ঝিনাইদহে ১ম শ্রেণীর স্কুলছাত্রী ধর্ষণের শিকার থানায় মামলা মাগুরায় গড়াই নদী থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার মাগুরা শ্রীপুরে নকল,ভেজাল ও মেয়াদ উত্তীর্ন ঔষুধ সংক্রান্ত মত বিনিময় সভা ১২২ জনকে নিয়োগ দেবে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন নিয়োগ দেবে সেভ দ্য চিলড্রেন খেলতে গিয়ে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু প্রেমিকার সন্তানের বাবা হলেন অর্জুন রামপাল নিজাম উদ্দিনের দরগা শরীফে স্বামীকে নিয়ে নুসরাত হঠাৎ প্রেসার বেড়ে গেলে খুব দ্রুত কি খাবেন? ২০ রোগের মহা ওষুধ হিসাবে কাজ করে করলা নাসিরনগরে ফলদ বৃক্ষ মেলার শুভ উদ্বোধন করলেন মাননীয় সাংসদ চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক বরাবরে, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির কারণে ” ইসকনের” বিরুদ্ধে মহানগর ছাত্রসেনা স্মারকলিপি আওয়ামী তথ্য-প্রযুক্তি লীগের জেলা সহ-সাধারণ সম্পাদক হলেন রুবেল হোসেন মহম্মদপুরে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত নাসিরনগর জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের শুভ উদ্বোধন জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০১৯ উপলক্ষে কালীগঞ্জে জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হলো নওগাঁর তিনটি কলেজের কেউ পাস করেনি…? কারাবন্দি খালেদা জিয়ার ‘মুক্তির’,  স্লোগানে স্লোগানে  উত্তাল বরিশাল নগরী   নওগাঁর ব্যাপক আলোচিত ৪ পঙ্গুর মা সহ ১০ জন  ভিক্ষুক পেলেন ৪০ টি ভেড়া…? মিন্নির পক্ষে লড়তে চান ওসি মোয়াজ্জেমের আইনজীবী ঝিনাইদহে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে অন্ডকোষ হারালেন যুবক !  খুুলনা বিভাগীয় মহাসমাবেশ সফল করতে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা বিএনপি’র প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত   মাগুরা শ্রীপুরে অসহায় ও অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্হ ব্যক্তিদের মধ্যে আর্থিক সহায়তা প্রদান
© All rights reserved © 2017 Onnodristy.Com
Theme Download From ThemesBazar.Com