২০ জুলাই ২০১৮ || শুক্রবার || ০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন

২০১৯-এ অনিশ্চিত বিজেপির দেড়শো!

অন্যদৃষ্টি অনলাইন।।

রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুকূল নয়। সে কারণে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব দলের প্রায় ১৫০ বর্তমান সাংসদকে আসন্ন লোকসভা ভোটে মনোনয়ন দেবেন না বলেই আপাতত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত কার্যকর হলে বিজেপির বর্তমান সাংসদদের (২৭৩ জন) শতকরা ৫০ ভাগ নামই বাদ যাচ্ছে। এঁদের মধ্যে আধা-ডজন ছোটবড় মন্ত্রী থাকতে পারেন। আপাতত খবর, অসুস্থ সুষমা স্বরাজ অসুস্থতার কারণে টিকিট না-ও পেতে পারেন। পটনা থেকে শত্রুঘ্ন সিনহা, দ্বারভাঙা থেকে কীর্তি আজাদকে টিকিট দেওয়া হবে না। উমা ভারতী,  রাধামোহন সিংহ, স্পিকার সুমিত্রা মহাজন ভোটে লড়বেন না বলে দলকে জানিয়েছেন। মুরলী মনোহর জোশী, কারিয়া মুন্ডা, শান্তা কুমার, খাণ্ডুরির মতো প্রবীণেরা বয়সের কারণে টিকিট পাবেন না। তবে লালকৃষ্ণ আডবাণী ব্যতিক্রম হবেন কি না, সেটাই দেখার।

গত লোকসভা নির্বাচনে কিছু রাজ্যে বিজেপি প্রায় সব আসন জিতেছিল। যেমন রাজস্থানে তারা ২৫টি আসনই জেতে। হিমাচলে ৪টি, দিল্লিতে ৭টি আসনের প্রতিটিই বিজেপির ঝোলায় যায়। উত্তরপ্রদেশে ৮০টি আসনের মধ্যে ৭১টি, ছত্তীসগঢ়ে ১১টার মধ্যে ১০টি, মধ্যপ্রদেশে ২৯টির মধ্যে ২৭টি পায় তারা। বিহারেও তাদের আন অনেকটা বে়ড়েছিল। এ বার বিজেপির আশঙ্কা, আসন্ন নির্বাচনে এই রাজ্যগুলোতে আসন সংখ্যা প্রায় অর্ধেক হয়ে যেতে পারে। সে কারণেই বিজেপির সর্বশেষ কৌশল হল, এই সব রাজ্য থেকে বর্তমান ১৫০ সাংসদকে সরিয়ে নতুন মুখ নিয়ে আসা। দলীয় বিশ্লেষণ, স্থানীয় অনেক সাংসদের বিরুদ্ধে অসন্তোষ তীব্র। তাই নতুন প্রার্থীকে নিয়ে এসে তাঁকে নির্বাচনে জেতানো দলের লক্ষ্য। অমিত শাহের মতে, এ বার প্রার্থী বাছাইয়ে সব চেয়ে বড় নির্ধারক বিষয় হবে, জেতার ক্ষমতা।

বিষয়টি নিয়ে বিজেপি নেতারা আরএসএস-এর সঙ্গেও আলোচনা করেছেন। বিজেপির নিজেদের হিসেব অনুযায়ী, হিন্দি বলয়ে তো বটেই, এমনকি গুজরাতেরও বহু আসন, সব মিলিয়ে প্রায় ১৮০টি আসন নিয়ে যথেষ্ট চিন্তা রয়েছে। তাই অমিত শাহ প্রায় ২০০ জন সাংসদকে এ বার বাদ দিতে চেয়েছিলেন। পরে আলোচনা করে ঠিক হয়েছে, অন্তত ১৫০ জনকে বাদ দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী নমো-অ্যাপের মাধ্যমে এবং বেশ কিছু বেসরকারি সংস্থাকে দিয়ে সাংসদদের কাজের মূল্যায়ন করাচ্ছেন। অনেক সাংসদকে কাজ করার ব্যাপারে সতর্ক করে পরিষদীয় দলের তরফে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে  মোদী-শাহ জুটি এই সাংসদ-বিসর্জন করাচ্ছেন, এমন বার্তা এড়াতে পুরো প্রক্রিয়াটি রাজ্য ও জাতীয় স্তরে স্ক্রিনিং কমিটির মাধ্যমে করা হবে।

বিজেপি সূত্রের খবর, যাঁদের প্রার্থী করা হবে, তাঁদের উগ্র হিন্দুত্ববাদী চরিত্র বা পরিচিতি থাকলে ভাল। বিজেপি মনে করছে, কয়েকটি রাজ্য থেকে এ বার আসন বাড়বে। অসম, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গে আসন বাড়ানোর চেষ্টা করছে তারা।

তবে বর্তমান ১৫০ জন সাংসদকে বাদ দিতে হলে তার সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া বোঝার চেষ্টা করছেন মোদী-অমিত। প্রথমত, বাদ গেলে এই নেতারা বিক্ষুব্ধ হয়ে অন্য দলে চলে যাবেন বা আলাদা দল গঠন করবেন কি না, তা দেখা হচ্ছে। বিশেষত, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশে বিজেপি এবং আরএসএস-এর দ্বন্দ্ব তীব্র। তাই এ সব রাজ্য থেকে বাদ পড়া নেতারা আবার পাল্টা দল গঠনে না যান।

 

Facebook Comments


© All rights reserved © 2017 Onnodristy.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com