ব্রেকিং নিউজ
সংবাদকর্মী আবশ্যক। আগ্রহীগণ সিভি, ছবি এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিসহ আবেদন করুন - onnodristynews@gmail.com/ news@onnodristy.com. মুঠোফোন : ০১৯১১২২০৪৪০/ ০১৭১০২২০৪৪০।

আজ ৬ই ডিসেম্বর ঐতিহাসিক যশোর মুক্ত দিবস

এবিএস রনি, যশোর জেলা প্রতিনিধি।।

দীর্ঘ ৯ মাস ধরে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত আর মা বোনেদের সম্ভ্রম জলাজ্ঞলীর পর আসে কাঙ্খিত ৬ ডিসেম্বর। যশোর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে দেশের প্রথম জেলা যশোরের আকাশে স্বাধীনতার সূর্য ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় মিত্রবাহিনী আর মুক্তিযোদ্ধারা খুলনা ও কুষ্টিয়া জেলাকে হানাদারমুক্ত করে।

যশোর জয়ের উষ্ণতায় ১৬ ডিসেম্বর পৃথিবীর মানচিত্রে নতুন দেশ হিসেবে লাল-সবুজের বাংলাদেশের অভ্যুদয় হয়। যশোর মুক্ত দিবস উপলক্ষে সকালে বিজয় শোভাযাত্রা বের করা হবে।
১৯৭১ সালে যশোর ক্যান্টনমেন্ট ছিল পাকিস্তানিদের অন্যতম সুরক্ষিত দুর্গ। এই দুর্গ রক্ষার জন্য পাকিস্তানিরা বিভিন্ন রণকৌশল গ্রহণ করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারেনি। অস্ত্র, গোলা-বারুদ, ভাত-রুটি, পোশাক-আশাক সব ফেলে রেখে ভীরু কাপুরুষের মতো যশোর ছেড়ে পালিয়ে যায় তারা। একাত্তরের নভেম্বরেই পাকিস্তানিদের পালানোর পথ তৈরিতে আটঘাট বেঁধে রণাঙ্গনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মিত্রবাহিনী আর বীর যোদ্ধার দল। ১৩ নভেম্বর মিত্রবাহিনী বয়রা সীমান্ত হয়ে পূর্ব পাকিস্তানের ভেতর ঢুকে পড়ে। কিন্তু পাকিস্তানি বাহিনী তা জানতে পারেনি। ১৯ নভেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী এ খবর জানতে পেরে ২২ ও ৩৮ ফ্রন্টিয়ার ফোর্সকে আক্রমণের নির্দেশ দেয়। কিন্তু সুবিধা করতে না পেরে পিছু হটে যায় তারা। পরবর্তী সময়ে ৬ পাঞ্জাব, ১২ পাঞ্জাব, ২১ পাঞ্জাব ও ২২ ফ্রন্টিয়ার ফোর্স পাকিস্তানি নবম ডিভিশনের সব শক্তি নিয়ে চৌগাছার জগন্নাথপুর (বর্তমান নাম মুক্তিনগর) রণাঙ্গনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। অন্যদিকে মিত্রবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশন, চতুর্থ মাউনটেন ডিভিশন মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে আক্রমণ শুরু করে। ২১ নভেম্বরের যুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ছয়টি ট্যাংক মিত্রবাহিনী ধ্বংস করে।

২২ নভেম্বর আরো সাতটি ট্যাংক ধ্বংস করা হয়। ওই দিন দুপুরে হানাদার বাহিনী বিমান হামলা চালায়। মিত্রবাহিনী তিনটি স্যাভার জেট ভূপাতিত করে। একপর্যায়ে শুরু হয় হাতাহাতি যুদ্ধ। ঐতিহাসিক ওই যুদ্ধে সামরিক-বেসামরিক মিলে কমপক্ষে এক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। জগন্নাথপুরের যুদ্ধের পর পাকিস্তানি বাহিনী কাগুজে বাঘে পরিণত হয়। ৩ ডিসেম্বর মিত্রবাহিনী ক্যান্টনমেন্ট দুর্গের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। চূড়ান্ত আক্রমণের লক্ষ্যে ক্যান্টনমেন্টকে টার্গেট করে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। কিন্তু ৬ ডিসেম্বর বিকেলে হানাদার বাহিনী যশোর ক্যান্টনমেন্টের ব্রিগেড সদর দপ্তর ছেড়ে দ্ইু ভাগে ভাগ হয়ে ঢাকা ও খুলনার দিকে পালিয়ে যায়। পরের দিন সকালে মিত্রবাহিনী কোনো রকম প্রতিরোধ ছাড়াই যশোর শহরে প্রবেশ করে। ক্যান্টনমেন্টে গিয়ে দেখা যায়, পাকিস্তানের একজন সেনাও নেই। রান্না করা খাবার টেবিলে পড়ে আছে। পড়ে আছে সামরিক পোশাক, হানাদারদের ব্যবহৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ। একটি গুলি খরচ না করেও যৌথ বাহিনী যশোরে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে দেয়। হাজার হাজার মুক্তিকামী মানুষ ঘর থেকে বের হয়ে আসে। ‘জয় বাংলা, বাংলার জয়’ স্লোগানে কেঁপে উঠে যশোরের আকাশ-বাতাস। তারা কালেক্টরেট চত্বরে ,দড়াটানা আওয়ামী লীগের অফিসসহ গোটা শহর জয় বাংলা শ্লোগান সহকারে প্রদক্ষিণ করেন।সেদিন স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তৎকালীন বৃহত্তর যশোর জেলা মুজিব বাহিনীর সহ-অধিনায়ক রবিউল আলম বলেন, চৌগাছার বড় যুদ্ধের পর নাস্তানুবুদ হয়ে গিয়েছিল পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার। ৬ডিসেম্বর রাতেই যশোর সেনানিবাস ত্যাগ করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পালিয়ে যায়। ওই দিন সন্ধ্যায় তিনি তার ৫/৬ জন মুক্তিবাহিনী সঙ্গী নিয়ে কতোকটা বিনা বাধায় যশোর শহরে প্রবেশ করেন। ৭ডিসেম্বর সকালে মুক্তি ও মিত্র বাহিনীর পক্ষে ক্যাপ্টেন হুদা তার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে যশোর ক্যান্টনমেন্টে ঢোকেন। সেখানে পরিত্যক্ত ট্যাংকে চড়েই জয় বাংলা শ্লোগন দিতে দিতে মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা শহরে প্রবেশ করেন। একই সাথে বিভিন্ন এলাকা থেকে শতশত মুক্তিপাগল মানুষ দড়াটানা আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে কালেক্টরেট চত্বরে ঈদগাহ ময়দানসহ বিভিন্ন স্থানে সমবেত হন। এসময় কালেক্টরেট ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে মানচিত্র খচিত স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করা হয়। ৬ ডিসেম্বর সকালে ও দুপুরে পাকিস্তানের নবম ডিভিশনের সঙ্গে ভারতীয় নবম পদাতিক ও চতুর্থ মাউন্টেন ডিভিশনের প্রচন্ড লড়াই হয়। বিকালেই পাক সেনা অফিসাররা বুঝে যায়, যশোর দুর্গ আর কোনো ভাবেই রক্ষা করা সম্ভব নয়। লে. কর্নেল শামস নিজের ব্রিগেড নিয়ে রাতের আঁধারে গোপনে যশোর ক্যান্টনমেন্ট থেকে পালিয়ে যান খুলনার দিকে। এভাবেই একাত্তরে প্রথম শত্রুমুক্ত জেলা হওয়ার গৌরব অর্জন করে যশোর। ৭ ডিসেম্বর সকালে যুদ্ধের ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে যশোর শহরে প্রবেশ করে যৌথবাহিনী। কিন্তু জনমানবশূন্য শহরে কোনো প্রতিরোধের মখোমুখিই হতে হয়নি যৌথবাহিনীকে। পরিত্যক্ত ক্যান্টনমেন্টে একজন পাকসেনাও ছিল না। পাওয়া যায় তাদের ফেলে যাওয়া বিপুল অস্ত্র, গোলা, রসদ। মুক্তিযুদ্ধে যশোর ছিল ৮ নম্বর সেক্টরে। সেক্টর কমান্ডার মেজর মঞ্জুর। তার অধীনে ছিলেন ক্যাপ্টেন আবু ওসমান চৌধুরী ও ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদা। এই ফ্রন্টেই ৫ সেপ্টেম্বর প্রাণ উৎসর্গ করেন বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ।

জগন্নাথপুরের এই যুদ্ধটি আমাদের মুক্তিযুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট ছিল বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। কারণ এই যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পরই পাকিস্তানিদের মনোবল চুরমার হয়ে যায়। যশোর ক্যান্টনমেন্টের পতনের পর ৭ ডিসেম্বর পূর্বাঞ্চলের সেনাধ্যক্ষ নিয়াজির অভিমত উদ্ধৃত করে ওই বার্তায় তিনি বলেছিলেন, ‘যশোরের বিপর্যয়ের ফলে প্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলের পতন প্রায় আসন্ন…। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিশ্র“ত বৈদেশিক সাহায্য পাওয়া না গেলে জীবনরক্ষার জন্য বরং ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যাপারে আলোচনা শুরু করা বাঞ্ছনীয়।’

দেশের প্রথম শত্রুসেনামুক্ত জেলা শহর যশোরের প্রাণকেন্দ্র টাউন হল মাঠে (মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দান) বাংলাদেশ সরকারের প্রথম জনসভা অনুষ্ঠিত হয় ১১ ডিসেম্বর। কলকাতা থেকে পাকিস্তানি কূটনীতিকদের ব্যবহৃত ‘শেভারলেট’ গাড়িতে পেট্রাপোল-বেনাপোল হয়ে যশোর আসেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি। হাজার হাজার মুক্তিপাগল মানুষের সামনে বক্তৃতা করেন তাজউদ্দিন আহমেদ ও সৈয়দ নজরুল ইসলাম। এই দুই নেতার সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন জহির রায়হান, এমআর আকতার মুকুল, সংসদ সদস্য ফণীভূষণ মজুমদার, অ্যাডভোকেট রওশন আলী, তবিবর রহমান সরদার প্রমুখ।

দিনটি উপলক্ষে যশোর জেলা প্রশাসনের সাথে সাথে বিবিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠর নানা কর্মসূচীর আয়োজন করেছে।

Facebook Comments


শিরোনাম
সব পুড়ে ছাই, অক্ষত আছে কলেমা ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ ‘ দ্বিতীয় চক্রের ২য় ধাপের সুপারিশ তালিকা প্রকাশ করবে এনটিআরসিএ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন উদ্যোগ চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় আজ সারাদেশে মোনাজাত সৌদি আরব পাকিস্তানকে খণ্ড-বিখণ্ড করতে চায়: জেনারেল সোলায়মানি চকবাজার ট্র্যাজেডি: ৪৫ জনের পরিচয় শনাক্ত, ৪০ জনের মরদেহ হস্তান্তর চকবাজারের পর এবার সিলেট তালতলায় হোটেল সুফিয়ার নিচে আগুন ৪%অতিরিক্ত কর্তন অবসর ও কল্যাণে জন্য ক্যান্সারের কারন হতে পারে! ইবিতে “বাংলা ভাষার বাংলাদেশ” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত  ঝিনাইদহে স্বেচ্ছাসেবক দলের আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মাগুরায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে প্রভাতফেরী ও শহীদ বেদিতে পুষ্পমাল্য রাঙ্গুনিয়ায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা রাবিতে শেষ হলো ‘মুক্তির সূচনা’ শিল্পকর্ম প্রদর্শনী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির শহীদ মিনারে ফুলেল শ্রদ্ধার্ঘ অর্পণ ।। চকবাজার ট্র্যাজেডি !  অন্যদৃষ্টি পরিবারের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ… মাগুরায় মহান শহীদ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে উপজেলা প্রশাসনের প্রভাতফেরী মাগুরায় মহান শহীদ দিবসে বীরেন শিকদার আদর্শ স্কুলের প্রভাতফেরী… হেড মাস্টারের কান্ড : মাগুরায় জুতা পায়ে শহীদ মিনারকে অবমাননা…! ভাষা শহীদদের প্রতি রাবি রিপোর্টার্স ইউনিটির বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন একুশের প্রথম প্রহরে এমপি আফিলের ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি শহীদ মিনারে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র শ্রদ্ধাঞ্জলি   রাবি শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যু ভাষা শহিদদের প্রতি রাবি ট্যুরিস্ট ক্লাবের শ্রদ্ধাঞ্জলি চুয়াডাঙ্গার বদরগঞ্জে শ্রেণি কক্ষে পাঠদান প্রক্রিয়া বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
© All rights reserved © 2017 Onnodristy.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com