নোটিশ :
সংবাদকর্মী নিচ্ছে অন্যদৃষ্টি। আগ্রহীগন সিভি পাঠান- 0nnodrisrtynews@gmail.com
২০ জানুয়ারী ২০২১, ০৬:২৫ অপরাহ্ন

নওগাঁয় একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাল নিবন্ধন সনদে ৩ জনের চাকুরি

আর আর চৌধুরী, নওগাঁ
বৃহস্পতিবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২১, ৮:১৯ অপরাহ্ন
নওগাঁয় একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাল নিবন্ধন সনদে ৩ জনের চাকুরি

নওগাঁয় একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদ দিয়ে দীর্ঘ ১১ বছর ধরে চাকরি করছেন ৩ জন শিক্ষক।

২০১০ ইং নওগাঁর মান্দা উপজেলার কালিকাপুর চককালিকাপুর স্কুল এণ্ড কলেজে জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদ দিয়ে নিয়োগ পেয়েছেন তারা ৩ জন।

নিয়োগের পর প্রায় ১১ বছর ধরে এমপিও ভোগ করছেন ঐ ৩ জন জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদধারী শিক্ষকরা। জাল সনদ দিয়ে সরকারি লাখ লাখ টাকা এমপিও বাবাদ আত্মসাৎ করছেন।

সম্প্রতি ঐ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির এ তিন শিক্ষকের শিক্ষক নিবন্ধন সনদ জাল বলে যাচাই প্রতিবেদন দিয়েছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যায়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। একই সাথে জাল সনদধারী ঐ ৩ জন শিক্ষকদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করতেও বলা হয়েছে অধ্যক্ষকে।

জাল সনদধারী শিক্ষকরা হলেন, নওগাঁর মান্দা উপজেলার কালিকাপুর চককালিকাপুর স্কুল এণ্ড কলেজের ইসলাম শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক জাহানারা, কম্পিউটার শিক্ষক মোঃ আবুল কালাম আজাদ এবং বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক মোঃ এনামুল হক।

প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, জাল সনদধারী ঐ ৩ জন শিক্ষক ২০১০ ইং সালের বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে এমপিওভুক্ত হয়েছেন। এরপর থেকে তারা নিয়মিত এমপিও ভোগ করতেন। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ৩জন শিক্ষকের সনদ যাচাইয়ের জন্য এনটিআরসিএতে পাঠানো হলে গত ২৯ ডিসেম্বর তাদের সনদ যাচাই করে প্রতিবেদন দিয়েছে এনটিআরসিএ। যাচাইয়ে তিন শিক্ষকের নিবন্ধন সনদ-ই জাল বলে প্রমাণিত হয়েছে।

এনটিআরসিএ সহকারী পরিচালক তাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ধর্ম শিক্ষক জাহানারা যে সনদটি দাখিল করে চাকরি নিয়েছেন তার প্রকৃত মালিক, হাবিব মোঃ আব্দুল আওয়াল নামের আরেক প্রার্থী। ৪র্থ নিবন্ধন পরীক্ষার সনদ জাল করে নিয়োগ পেয়েছেন তিনি। ২০১০ইং সালের মার্চ মাস থেকে এ জালিয়াতির মাধ্যমে জাহানারা এমপিওভোগ করছেন বলে প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় সতেরো লাখ টাকা সরকারি কোষাগার থেকে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন।

অপরদিকে একই প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার বিষয়ের শিক্ষক মোঃ আবুল কালাম আজাদ ৩য় নিবন্ধন পরীক্ষার যে সনদটি দিয়ে চাকরি নিয়েছেন তার প্রকৃত মালিক গোলক চন্দ্র রায়। ২০০৯ ইং নিয়োগ পেয়ে ২০১০ ইং সালের ১ মে এমপিওভুক্ত হয়েছিলেন তিনি। এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৬ লাখ টাকা সরকারি কোষাগার থেকে উত্তোলন করে আত্নসাৎ করেছেন আবুল কালাম।

এছাড়াও একই প্রতিষ্ঠানের জীববিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক এনামুল হক যে নিবন্ধন সনদটি জমা দিয়ে চাকুরি নিয়েছেন তা আসলে অনুত্তীর্ণ। ২০০৯ ইং সালে নিয়োগ পেয়ে ২০১০ ইং সালের ১ মে এমপিওভুক্ত হয়েছিলেন তিনি। এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৬ লাখ টাকা সরকারের কোষাগার থেকে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন।

এনটিআরসিএর সনদ যাচাই প্রতিবেদনে জাল ও ভুয়া সনদধারী ৩ জন শিক্ষকদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা রুজু করতে কালিকাপুর চককালিকাপুর স্কুল এণ্ড কলেজের অধ্যক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মোহাম্মদ আব্দুল আলিম প্রতিবেদককে বলেন, আমি এখনো বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যায়ন কর্তৃপক্ষের চিঠি হাতে পাইনি। অফিসিয়ালভাবে চিঠি হাতে পেলেই সরকারি নির্দেশনা অনুসারে জাল নিবন্ধন সনদধারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে বলেও জানান তিনি।

এব্যাপারে জাল সনদধারী শিক্ষক মোঃ আবুল কালাম আজাদ তার নিবন্ধন সনদ সঠিক বলে দাবি করেন, এসময়  কেন সনদটি জাল বলা হচ্ছে তা জানতে চাইলে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

অপর জাল নিবন্ধন সনদধারী শিক্ষক এনামুল বলেন, আমার সনদ ঠিক আছে এবং ওয়েবসাইটে আছে। আমার ৩/৪ টি সার্টিফিকেট। আমি সব বিষয়ে নিবন্ধন করেছি।

তাহলে এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ সনদটি জাল বললেন কেন, এমন প্রশ্ন করাহলে, কোন সদুত্তর দিতে পারেননি এ শিক্ষক। অপরদিকে একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে ৩ জন চাকুরি করার ঘটনাটি এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ তাদের ওয়েব সাইডে প্রকাশ করার পর স্থানিয় সচেতন মহলে চলছে আলোচনা ও সমালোচনা।

Facebook Comments
Print Friendly, PDF & Email
সংবাদটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো সংবাদ