নোটিশ :
সংবাদকর্মী নিচ্ছে অন্যদৃষ্টি। আগ্রহীগন সিভি পাঠান- 0nnodrisrtynews@gmail.com
০২ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:৪৯ অপরাহ্ন

কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করে সঠিক প্রমান করতে চাওয়া সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা!

আর আর চৌধুরী, নওগাঁ
শনিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২০, ৫:০৩ অপরাহ্ন
কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করে সঠিক প্রমান করতে চাওয়া সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা!

নওগাঁর মান্দা থানা আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজে ভুয়া সনদে ১০ বছর ধরে চাকরি করছেন শরীর চর্চা বিষয়ের শিক্ষক পাপিয়া খান।

সম্প্রতি তিনি উচ্চতর স্কেল নেয়ার জন্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে জানালে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ তার নিবন্ধন সনদটি যাচাইয়ের জন্য এনটিআরসিএ পাঠান। যাচাই-বাছাইয়ের পর তার নিবন্ধন সনদ ভুয়া বলে প্রমাণিত হওয়ায় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) কলেজের অধ্যক্ষকে পত্র পাঠিয়েছেন।

এ ছাড়া জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া সনদে চাকরির অপরাধে ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশ দিয়েছে এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ। সে জন্য কলেজের অধ্যক্ষ বাদী হয়ে মান্দা থানায় ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন, যার মামলা নং-১৮/২০২০ জি আর নং ৫৩৫/২০২০ ধারা ৪০৬,৪২০,৪৬৮ ও ৪৭১।

প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জানা যায়, সম্প্রতি তার চাকরি ১০ বছর পূর্ণ হওয়ায় তিনি উচ্চতর স্কেল নেওয়ার জন্য তৎপরতা শুরু করেন। তাই তার সনদটি যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয় এনটিআরসিএতে। সনদ যাচাইয়ে শরীর চর্চা শিক্ষকের নিবন্ধন সনদ ভুয়া প্রমাণিত বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এনটিআরসিএর সহকারী পরিচালক তাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রথমে ১৬০৫ ও পরবর্তীতে ১৭৭০ নং স্মারকে সনদ যাচাই সংক্রান্ত চিঠি গত ১৬ সেপ্টেম্বর ও ৮ অক্টোবর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

এ ছাড়া কলেজের অধ্যক্ষকে পত্র  মারফত এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়। ভুয়া সনদে চাকরির অপরাধে ওই প্রভাষকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়েরসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষকে অবগত করার জন্যও বলা হয়।

এনটিআরসিএর প্রেরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয় যে, ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ব্যাচের নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ পাপিয়া খানের দাখিলকৃত নিবন্ধন সনদের রোল নম্বর ২১১৯০৩৪৪, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৭০০৮৯২১ যাচাইকালে সনদটি ভুয়া প্রমাণিত হয়।

সম্পূর্ণ জালিয়াতির আশ্রয়ে ভুয়া সনদে পাপিয়া খান ২০১০ সালের ৫ আগস্ট নিয়োগ লাভ করেন।

এর পর ২০১০ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি এমপিওভুক্ত হন। এমপিওভুক্তির পর থেকে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে অবৈধপন্থায় তিনি ১৬/১৭ লক্ষ সরকারি টাকা ভোগ করছিলেন।

মান্দা থানা আদর্শ মহিলা বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আলমগীর হোসেন জানান, প্রথমে শরীর চর্চা শিক্ষক পাপিয়া খানের নিবন্ধন সনদ ভুয়া সংক্রান্ত বিষয়টি এনটিআরসিএর ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে পাঠানো যাচাই রিপোর্টের মাধ্যমে জানতে পারি।

তার পর ঐ শিক্ষক গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে এনটিআরসিএ এর সহকারী পরিচালক তাজুল ইসলাম স্যারের স্বাক্ষরিত নিবন্ধন সনদ আমার অফিসে জমা দেন এবং বলেন তাজুল ইসলাম স্যার আমার সনদটি যাচাই করে সঠিক বলে সনদে স্বাক্ষর করে দিয়েছেন। সেই পূনরায়  যাচাইকৃত সনদটি সঠিক নয় বলে আমার সন্দেহ হলে আমি এনটিসআরসিএ কে সনদটি আবার যাচাইয়ের আবেদন করি। তার প্রেক্ষিতে গত ৮ অক্টোবর আবারও কর্তৃপক্ষ সনদটি সঠিক নয় বলে জানান।

অধ্যক্ষ আরও জানান, ঐ জাল নিবন্ধন সনদধারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, মান্দা আদর্শ মহিলা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আলমগীর হোসেন অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন।

Facebook Comments
Print Friendly, PDF & Email
সংবাদটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো সংবাদ