নোটিশ :
সংবাদকর্মী নিচ্ছে অন্যদৃষ্টি। আগ্রহীগন সিভি পাঠান- 0nnodrisrtynews@gmail.com
১৯ এপ্রিল ২০২১, ০৯:৩৩ অপরাহ্ন

সিলেটে সাজিদা হত্যার অনুসন্ধনে অন্তরালে নানা রহস্য

আবুল কাশেম রুমন,সিলেট:
মঙ্গলবার, ২ মার্চ, ২০২১, ৯:১৭ অপরাহ্ন

প্রেমিক জয়নাল চৌধুরী যুক্তরাজ্যের বাসিন্দা দেখতে সমাজে বড় ভদ্রলোক। কিন্তু তার অন্তর যে জঘন্য কোন লোকই জানতেন না। ২০২০ সালে তার প্রেমিকা সাহিদা আক্তার সুলতানা হত্যার ঝামেলায় জড়াতে পারেন ভেবেই আগে থেকে নিল নকশা অনুযায়ী পাড়ি দেন যুক্তরাজ্যে।

অনুসন্ধান তথ্য থেকে জানা গেছে, ২০২০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার পানিশাইল গ্রামের মৃত আমির আলী চৌধুরীর ছেলে অভিযুক্ত জয়নাল চৌধুরীর বাড়ি থেকে প্রেমিকা সাহিদা আক্তার সুলতানার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত সাহিদা হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার রাইয়াপুর গ্রামের মো. রব্বান মিয়ার কনিষ্ট মেয়ে।

এ ঘটনায় গত বছরের ৩ মার্চ প্রবাসী জয়নাল চৌধুরীকে প্রধান করে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে বড়লেখা থানায় হত্যা মামলা (নং-০১(৩)২০২০) দায়ের করেছিলেন নিহতের বাবা রব্বান মিয়া।এজহাজারে ৩০২/৩৪ ধারা অনুয়ায়ী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সং/২০০৩) একই উদ্দেশ্যে হত্যা ও অপহরনের অভিযোগ আনা হয়। আমলায় আসামী করা হয় বড়লেখা উপজেলার পানিশাইল গ্রামের মৃত মন্তই মিয়ার ছেলে ইকবাল হোসেন মাতাব, মৃত মইন উদ্দিনের ছেলে ওয়াহিদ জামাল লিপু, মৃত ছমির উদ্দিনের ছেলে মো. সোয়া মিয়া, উপজেলার ধর্মদেহী গ্রামের মৃত ফিরোজ আলীর ছেলে রহমত আলীসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন।

এহজারে বাদী উল্লেখ করেন তার ছোট মেয়ে সাহিদা আক্তার সুলতানার সঙ্গে জয়নাল চৌধুরী মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে  সম্পর্ক চলাবস্থায় জয়নাল চৌধুরী দেশে আসেন। বাদির অগোচরে মাঝে মধ্যে বাড়িতে আসা-যাওয়া করলে তিনি জানতে পেরে বাধা দেন। কিছু দিন পর জয়নাল মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। আসামির স্ত্রী সন্তান থাকায় বিয়ের প্রস্তাবে রাজি হন নি সাহিদার বাবা। কিন্তু পিতার অজ্ঞাতে মেয়েকে ফুসলিয়ে বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে ওই বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি গোপনে বাড়ি থেকে পালিয়ে নিয়ে যান। মেয়েকে সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখোঁজিতে থাকাবস্থায় জয়নাল চৌধুরী ফোন করে জানান সাহিদা তার কাছে আছে, কোনো চিন্তা না করতে।
আরও উল্লেখ করেন বাদির বড় মেয়ের ছেলে মো. নয়ন আহমদ (১৪) নানা বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করতো।

২৬ ফেব্রুয়ারি স্কুল থেকে ফেরার পথে আসামিগণ বাদির নাতি নয়ন আহমদকে অপহরণ করে  জয়নালের বাড়িতে নিয়ে যায়। ভিকটিমের মোবাইল থেকে নয়ন ফোন করে বলে তাকে খালার কাছে আনা হয়েছে।
পরদিন ২৭ ফেব্রুয়ারি জানতে পারেন জয়নাল চৌধুরীর বাড়িতে এক নারীর মরদেহ পাওয়া গেছে। সঙ্গে সঙ্গে বাদি তার মেয়ে সাহিদা ও জয়নালের মোবাইল ফোনে কথা বলার চেষ্টা করলেও দু’টি ফোনই বন্ধ পান। এরপর নিকটাত্বীয়ের মাধ্যমে বড়লেখা উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান তাজ উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আসামি জয়নালের বাড়িতে মেয়ের লাশ পাওয়ার সত্যতা জানতে পারেন। ভাইস চেয়ারম্যানে কাছ থেকে থানার এসআই রশিদ উদ্দিনের ফোন নাম্বার নিয়ে যোগাযোগ করে মোবাইল ফোনে ছবি পাঠানে নিশ্চিত হন নিহত নারী আর কেউ নয় তার মেয়ে সাহিদা।

২৮ ফেব্রুয়ারী ভোরে বড়লেখা থাানায় গিয়ে মেয়ের লাশটি সনাক্ত করেন। কিন্তু তার নাতি নয়ন আহমদের কোনো সন্ধান না পেয়ে থানার ওসিকে অনুরোধ করেন তাকে খোঁজে উদ্ধার করতে। নয়নকে হত্যা করা হতে পারে এমন সংশয়ে ছিলেন বাদি। এদিন হঠাৎ করে নয়ন বাদির সঙ্গে থাকা তার বাবার মোবাইল ফোনে অপরিচিত নাম্বার থেকে কথা বলে জানায় অপহরণ করে তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, মেয়ের লাশ ময়না তদন্ত শেষে দাফন করেন।

মানুষের সহযোগীতায় বাদির নাতি নয়ন ঢাকা বিমানবন্দর থেকে এনা ট্রান্সপোর্টের গাড়িতে আউশকান্দিতে পৌছলে আত্মীয়স্বজন তাকে বাড়িতে নিয়ে যান। ফেরার পর নয় কান্না জড়িত কন্ঠে অপহরণের বর্ণনা দিয়ে বলে, স্কুল থেকে ফেরার পথে রাস্তায় একটি কালো রংয়ের মাইক্রোবাসে তাকে তুলে নিয়ে ১নং আসামি জয়নালের বড়লেখাস্থ বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে জয়নাল তাকে বেড়ানোর কথা বলে কিছুদূর গিয়ে মোবাইল ফোন বাড়িতে রেখে এসেছে বলে গাড়ি থেকে নেমে যায়।

প্রায় এক ঘন্টা পর আবারো গাড়িতে এসে তাকে নিয়ে বাড়িতে যায়। সেখানে গিয়ে ডাকাডাকির পর জানালা ভেঙে সাহিদাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে থাকার বিষয়টি সে দেখতে পায়। এরপর সাহিদার লাশ ঘরে রেখে নয়নকে সঙ্গে নিয়ে জয়নাল কার যোগে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর আসে। সেখান থেকে তাকে নিয়ে ঢাকায় যায়। সেখানে একটি হোটেলে নয়ন আহমদকে রেখে জয়নাল চৌধুরী পালিয়ে যুক্তরাজ্য চলে যান।

অভিযোগে বাদি আরো উল্লেখ করেন, জয়নাল চৌধুরী তার সঙ্গীয় আসামিদের সহযোগিতায় তার মেয়েকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে তুলে নিয়ে গণধর্ষণের পর হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক মঞ্চস্থ করেন এবং নিরাপদে বিদেশ পাড়ি দিতে তার নাতিকে অপহরণ করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হত্যাকান্ডের পর জয়নাল সিলেটে সবুজবাগের নিজের বাসা থাকা স্বত্বেও প্রতিবেশি জামাত কর্মী সালেহ আহমদের বাসায় আশ্রয় নেন। এরপর সেখান থেকে প্রাণে হত্যার হুমকি দিয়ে নয়নকে বিমানযোগে ঢাকায় নিয়ে যান। সেখানে নয়নকে হোটেলে রেখে তিনি পালিয়ে যুক্তরাজ্যে পাড়ি দেন।

এ বিষয়ে সালেহ আহমদ জানান, তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক আছে প্রতিবেশি হিসেবে। এর বাইরে কেবল মসজিদের সেক্রেটারি হিসেবে বেতন তুলতে গিয়েছি। তাছাড়া নগরীর সবুজবাগ এলাকায় জয়নালের একটি ৩ তলা ভবন রয়েছে। আরো দু’টি প্লটও আছে। সেসব প্লটে টিন শেড বাসা রয়েছে। তবে গ্রামে হত্যাকান্ডের ঘটনাটি তার জানা ছিল না। 

Facebook Comments
Print Friendly, PDF & Email
সংবাদটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো সংবাদ