নোটিশ :
সংবাদকর্মী নিচ্ছে অন্যদৃষ্টি। আগ্রহীগন সিভি পাঠান- 0nnodrisrtynews@gmail.com
১৯ এপ্রিল ২০২১, ০৯:১২ অপরাহ্ন

নওগাঁয় জমি নিয়ে দন্দ, গলা কেটে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ

আর আর চৌধুরী, নওগাঁঃ
শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২১, ৬:১২ অপরাহ্ন

নওগাঁর মান্দায় মাত্র ৪ শতক জমি (সম্পত্তি) নিয়ে অখিল দাসকে নিম গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতন সহ গলা কেটে ও এসিড ঢেলে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। ঘটনায় টাকার অভাবে চিকিৎসা করতে না পারায় বাড়িতে বিছানায় এক প্রকার বিনা চিকিৎসায় রয়েছেন এসিড দগ্ধ অখিল দাস।

এ ঘটনায় মামলা করার পর আসামীরা গা-ঢাকা দিয়ে থাকার কারনে আসামীদের পুলিশ গ্রেফতার করতে না পারায়ভুক্তভোগী ও তার পরিবার আশঙ্কায় রয়েছেন।১৪ ফেব্রুয়ারী রাতে মান্দা উপজেলার কুসুম্বা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (দীঘিরপাড়) এর পেছনে জঙ্গলে এই ঘটনাটি ঘটেছে বলে অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে।

জানা গেছে, মান্দা উপজেলার কুসুম্বা দীঘিরপাড়ের বাসিন্দা অখিল দাস ও সুবাস দাস এবং কার্ত্তিক দাসগং। তারা কাকাতো-জ্যাটাতো ভাই। পারিবারিক মাত্র ৪ শতক জমি(সম্পত্তি) নিয়ে গরীব অখিল দাস ও সুবাস দাসগংদের মধ্যে দন্দ্ব দেখা দেয় প্রায় ১২ বছর আগে। এই নিয়ে একাধিক মামলাও রয়েছে তাদের মধ্যে।

এমতাবস্তায় ১৪ ফেব্রুয়ারি রাতে কুসুম্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিছনে নিমের গাছের সাথে অখিল দাসকে বেঁধে গলা কেটে ও এসিড ঢেলে হত্যা চেষ্টা করেন সুবাস দাসগং। কিন্তু ভাগ্যক্রমে অখিলের আত্নচিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে জখম অবস্থায় উদ্ধার করে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখান থেকে রাজশাহী  (রামেকে) স্থানান্তর করা হয়। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক পর্যায়ে টাকার অভাবে চিকিৎসা করতে না পেরে বর্তমানে বাড়িতে বিছানায় এক প্রকার বিনা চিকিৎসায় দিনপার করছেন অখিল দাস।

নির্যাতনের শিকার অখিল দাস সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার রাতে তার ছেলে সমর দাসকে অন্য বাড়িতে রেখে আসার সময় রাত সাড়ে ৯ টার দিকে সুভাষ দাস, কার্ত্তিক দাস, নিমাই চন্দ্র, ধীরেন্দ্র দাসসহ আরো অজ্ঞাত ২ জন তাকে ঘিরে ধরে গামছা দিয়ে মুখ বেঁধে গাছের সাথে রশ্মি দিয়ে বেঁধে ফেলে। এরপর লাঠিসোডা দিয়ে মারপিটের এক পর্যায় গলায় চাকু চালায়। রাতের অন্ধকারে গলায় বেঁধে রাখা গামছার উপর দিয়ে চাকু চলে যাওয়ায় গলা কেটে যায়। এরপর গলা ও বুকে এসিড ঢেলে দিলে এসময়  মুখের বাধন খুলে যাওয়ায় আমি চিৎকার শুরু করলে ওরা পালিয়ে যায়। তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, ওই সম্পত্তি আমাদের। বিচার শালিস না মেনে কার্ত্তিক দাসগং প্রভাব খাটিয়ে দখল করে রেখেছে। সম্পত্তি নিয়ে দন্দ্বের জেরেই এই ভাবে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়েছে। মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসিড দগ্ধের চিকিৎসা না থাকায় রামেকে স্থানান্তর করা হয়েছে। তার গলায় ৬টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও এসিডে গলা, বুক, পেট ও হাতের কিছু অংশ ঝলছে গিয়েছে।

অখিল দাসের স্ত্রী বিউটি রাণী জানান, তাদের সম্পত্তি বলতে কিছুই নেই। তার স্বামী হাট-বাজারে বাদাম ও চানাচুর বিক্রি করে সংসারের খরচ মেটাতেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি অখিল দাস বিছানায় পরে থাকায় কি করে সংসারের খরচ মেটাবেন সেই দুশ্চিন্তাই রয়েছেন তারা।

প্রতিবেশি শিউলী রাণী জানান, ১৪ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৯ টার দিকে স্কুলের পেছনে একটি লোকের আত্নচিৎকারে তিনি সহ অনেকেই এগিয়ে এলে কিছু লোক দৌড়ে পালিয়ে যায়। এরপর নিম গাছে দড়ি দিয়ে বাঁধা ও জখম অবস্থায় অখিলকে উদ্ধার করে রাতেই দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বিবাদী মামলার আসামীদের কাউকে বাড়িতে না পাওয়া গেলেও কার্ত্তিক দাসের স্ত্রী আঙ্গুরী দাস সাংবাদিকদের জানান, পৈত্রিক সম্পত্তি ভাগবাটোয়ারা শেষে আমাদের ভাগে সম্পত্তি ভোগ দখল করছিলাম। ওই সম্পত্তি অখিল দাস পাবে দাবি করে একাধিকবার মামলা ও দখলের চেষ্টা করে আসছেন জানিয়ে তিনি মারপিট বা এসিড দেওয়ার ঘটনার অভিযোগ অস্বীকার ( সত্য নয়) দাবি করে আরো বলেন, ঘটনার রাতে আমার স্বামী ও জামাইরা বাড়িতেই ছিলেন। কিন্তু মামলা করার পর বাড়িতে না থেকে আত্নগোপনে থাকেন।

নির্যাতনের শিকার অখিল দাসের ছেলে ও মামলার বাদী সমর কুমার দাস জানান, টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে বাবাকে রামেকে থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারী বাড়ীতে নিয়ে আসা হয় এবং পরেদিন ১৮ফেব্রুয়ারি মামলা দায়ের করলেও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এখন পর্যন্ত আসামীদের গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। এতে ন্যায় বিচার না পাওয়ার শঙ্কায় রয়েছি আমরা, এমনকি আমাদের পরবিার এখন আতংকের মধ্যেই রয়েছি জানিয়ে তিনি আসামীদের গ্রেফতার পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যে নওগাঁ জেলা পুলিশের উধ্বর্তন কর্মকর্তাদের আশু পদক্ষেপ কামনা করেন।

এব্যাপারে মান্দা থানার ওসি শাহিনুর রহমান জানান, এ ঘটনায় সুভাষ দাস, কার্ত্তিক দাস, নিমাই চন্দ্র, ধীরেন্দ্র দাসসহ আরো অজ্ঞাত ২ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে জানিয়ে ওসি আরো বলেন, মামলার আসামীরা গা-ঢাকাদিয়ে রয়েছেন, তারপর তাদের গ্রেফতারে তৎপর রয়েছে পুলিশ, এছাড়া ঘটনাটি তদন্তে কোন মহলের প্রভাব নেই। সঠিকভাবে তদন্ত পূর্বক জড়ীতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন ওসি।

Facebook Comments
Print Friendly, PDF & Email
সংবাদটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো সংবাদ