নোটিশ :
সংবাদকর্মী নিচ্ছে অন্যদৃষ্টি। আগ্রহীগন সিভি পাঠান- 0nnodrisrtynews@gmail.com
২২ অক্টোবর ২০২০, ০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন

উপনির্বাচনে ঢাকায় বিএনপির প্রার্থী জাহাঙ্গীর, সিরাজগঞ্জে সেলিম

অন্যদৃষ্টি ডেস্ক
শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২০, ৯:০৭ পূর্বাহ্ন
এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন ও সেলিম রেজা

শেষ পর্যন্ত ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি ঢাকা মহানগর যুবদল উত্তরের সভাপতি। সিরাজগঞ্জ-১ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সদস্য সেলিম রেজা। নির্বাচনের তফসিল অনুসারে আসন দু’টিতে আগামী ১২ নভেম্বর ভোটগ্রহণ করা হবে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শুক্রবার বিকেলে দলের চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গীর ও সেলিমের নাম ঘোষণা করেন।

দলীয় সূত্র জানায়, ঢাকা-১৮ আসনে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে দলের ভেতরে টানাপোড়েন চলছিল। বিশেষ করে ১২ সেপ্টেম্বর প্রার্থীদের সাক্ষাৎ​কার গ্রহণের দিন গুলশানের কার্যালয়ের সামনে এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন ও এম কফিল উদ্দিন আহম্মেদ সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনায় মনোনয়ন নিয়ে জট বেঁধে যায়। কফিল উদ্দিন অভিযোগ করেন, জাহাঙ্গীরের লোকজন তাঁর সমর্থকদের মারধর করে রক্তাক্ত করেছে। বিষয়টি নিয়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বিভক্ত হয়ে পড়েন।  ঘটনা তদন্তে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবিরকে একক দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর আজ মনোনীত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হলো।

খায়রুল কবির প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি মহাসচিবের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। মারামারিতে প্রার্থীদের সমর্থকেরা জড়িত ছিল, কিন্তু তাতে কোনো প্রার্থীর সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মারপিটের ঘটনায় দলের লোকজনের সঙ্গে কিছু বহিরাগতও জড়িত ছিল। আমি আরও অধিকতর তদন্তের সুপারিশ করে​ছি এবং দলের জড়িতের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া কথা বলেছি।’

শুরু থেকেই ঢাকা-১৮ আসনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ​ও বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে উত্তেজনা ছিল। দল দুটির মনোনয়ন পেতে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন ৬৫ জন। এর মধ্যে ৫৬ জন আওয়ামী লীগে, ৯ জন বিএনপিতে। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন মোহাম্মদ হাসান হাবিব। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

ঢাকা-১৮ তে বিএনপির মনোনয়ন পেতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জাহাঙ্গীর হোসেন ও কফিল উদ্দিন। সাক্ষাৎ​কারের দিন মারপিটের ঘটনার পর কফিল উদ্দিনসহ সাত প্রার্থী এক হয়েছিলেন জাহাঙ্গীরের বিপক্ষে। তাঁরা জাহাঙ্গীরকে মনোনয়ন না দিতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে চিঠি লিখে অনুরোধ জানান। সঙ্গে নির্বাচনী এলাকা ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশনের গত নির্বাচনে দলীয় দুই নারী কাউন্সিলর প্রার্থীসহ আট কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর সমর্থন নেওয়া হয়।

অন্যদিকে জাহাঙ্গীর কফিলের বিরুদ্ধে নির্বাচনী এলাকার সাত থানা— উত্তরা পূর্ব, উত্তরা পশ্চিম, দক্ষিণখান, উত্তরখান, বিমানবন্দর, খিলক্ষেত ও তুরাগ থানা বিএনপি এবং যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও জাসাসের সভাপতি-সম্পাদকসহ শীর্ষ নেতাদের স্বাক্ষরসহ একটি লিখিত সুপারিশপত্র দলের কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা দেন। তাতে সবাই জাহাঙ্গীরকে মনোনয়ন দিতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে সুপারিশ করেন।

প্রার্থী ঘোষণার পর আজ রাতে এম কফিল উদ্দিন আহম্মেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘দল যেটা ভালো মনে করেছে, সেটা করেছে। বিএনপিতো এখন…এটা আমার ৩০ বছরের রাজনীতির ফসল।’

এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘সাক্ষাৎ​কারের দিন যেটা হয়েছে, আমরা সেটা ভুলে গেছি। আমরা যাঁরা মনোনয়ন প্রার্থী হয়েছিলাম তাঁদের মধ্যে কোনো সমস্যা নেই। মনোনয়ন আমি না পেয়ে যদি অন্য কেউ পেতেন আমি বিএনপির বিরুদ্ধে যেতাম? না, কারণ আমরা সবাই বিএনপি করি, ধানের শীষকে ভালোবাসি। সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়েই মাঠে থাকব।’

Facebook Comments
Print Friendly, PDF & Email
সংবাদটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো সংবাদ