নোটিশ :
সংবাদকর্মী নিচ্ছে অন্যদৃষ্টি। আগ্রহীগন সিভি পাঠান- 0nnodrisrtynews@gmail.com
২২ অক্টোবর ২০২০, ০৬:২৫ পূর্বাহ্ন

ডা. জোহরা বেগম কাজীর জন্মদিনে গুগল ডুডল

অনলাইন ডেস্ক ।।
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২০, ৭:৩৪ পূর্বাহ্ন

আজ ১৫ অক্টোবর। অবিভক্ত বাংলার প্রথম নারী চিকিৎসক অধ্যাপক জোহরা বেগম কাজীর জন্মদিন। এ উপলক্ষে সার্চ ইঞ্জিন গুগল বিশেষ ডুডল প্রকাশ করেছে।

গুগলে প্রবেশ করলেই বিশেষ এ ডুডল দেখা যাচ্ছে। এতে দেখা যাচ্ছে, জোহরা বেগম কাজীর গলায় স্টেথসস্কোপ এবং মাথার ওপর গাছের ছায়া। গায়ে জড়ানো হলুদ রংয়ের একটি পোশাক।

জোহরা বেগম কাজী ১৯১২ সালের ১৫ অক্টোবর অবিভক্ত ভারতের মধ্য প্রদেশের রাজনান গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম ডাক্তার কাজী আব্দুস সাত্তার ও মায়ের নাম মোসাম্মদ আঞ্জুমান নেসা। তার আদি পৈত্রিক নিবাস বাংলাদেশের মাদারীপুর জেলার কালকিনি থানার গোপালপুর গ্রামে। তিনি ১৯২৯ সালে আলিগড় মুসলিম মহিলা স্কুল থেকে প্রথম বাঙালি মুসলিম আলিগড়িয়ান হিসাবে এসএসসি পাস করেন। ২৩ বছর বয়সেই তিনি দিল্লির ‘লেডি হাডিং মেডিকেল কলেজ’ থেকে ১৯৩৫ সালে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে এমবিবিএস পাস করেন। এজন্য পুরস্কার হিসেবে পান ভাইসরয় পদক।

১৯৩৫ সালে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করার পর জোহরা বেগম কাজী কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। তিনি প্রথমে ইয়োথমাল ওয়েমেন্স (পাবলিক) হাসপাতালে ডাক্তার হিসেবে যোগ দেন। এরপর বিলাসপুর সরকারি হসপিটালে যোগ দেন। পরবর্তীকালে মানুষের সেবার জন্য মহাত্মা গান্ধী নির্মাণ করেন সেবাগ্রাম। এই সেবাগ্রামে অবৈতনিকভাবে কাজ করেন জোহরা বেগম কাজী। এছাড়া তিনি ভারতের বিভিন্ন বেসরকারি ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে ডাক্তার হিসেবে নিরলসভাবে কাজ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর তিনি ঢাকায় চলে আসেন।১৯৪৮ সালে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যোগ দেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত অবস্থায় অবসর সময়ে তিনি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে অনারারি কর্নেল হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন। মিডফোর্ড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি গাইনোকোলজি বিভাগের প্রধান ও অনারারি প্রফেসর ছিলেন। ১৯৭৩ সালে চাকরি থেকে অবসর নেবার পর বেশকিছু বছর হলিফ্যামিলি রেডক্রিসেন্ট হাসপাতালে কনসালটেন্ট হিসাবে চিকিৎ‍সা সেবা প্রদান করেন। পরবর্তীকালে তিনি বাংলাদেশ মেডিকেলে অনারারী অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেন।

ঢাকা মেডিকেলে দায়িত্ব পালন করার সময় নারী রোগীদের চিকিৎসা সংক্রান্ত কুসংস্কার তাকে আহত করে। তিনি তাদের সাথে সরাসরি কথা বলে তাদের ভুল ধারণা দূর করতেন। তার কারণে পরবর্তীতে চিকিৎসা শাস্ত্রে এদেশে মেয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পায়। দীর্ঘ কর্মময় জীবনের স্বীকৃতি হিসেবে পান একুশে পদক, রোকেয়া পদক ও বিএমএ স্বর্ণপদক। তিনি ২০০৭ সালের ৭ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। 

Facebook Comments
Print Friendly, PDF & Email
সংবাদটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো সংবাদ