নোটিশ :
সংবাদকর্মী নিচ্ছে অন্যদৃষ্টি। আগ্রহীগন সিভি পাঠান- 0nnodrisrtynews@gmail.com
২০ জানুয়ারী ২০২১, ০৬:৫৭ অপরাহ্ন

মানুষ এখন অভদ্রতার তুমুল ফ্যান

এম.এ কবির
শনিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২০, ৪:২২ অপরাহ্ন
মানুষ এখন অভদ্রতার তুমুল ফ্যান। এম.এ কবির

চৌদ্দ শতকে ইটালিতে এই মজার খাবারটির প্রচলন শুরু হয়। সে সময়ে ঘরোয়া ভাবেই সামান্য চিনির ঘন রস বিশেষ পদ্ধতিতে সুতোর মতো তৈরি করে বানানো হতো হাওয়াই মিঠাই।

১৮৯৭ সালে মার্কিনি উইলিয়াম মরিসন ও জন সি.ওয়ারটন হাওয়াই মিঠাই তৈরির জন্য প্রথম মেশিন আবিষ্কার করেন। তবে মেশিনে তৈরি হাওয়াই মিঠাই তখন তেমন জনপ্রিয়তা পায়নি। ব্যাপকভাবে এর প্রসার বাড়ে ১৯০৪ সালে।

সে বছর মরিসন এবং ওয়ারটন তাদের মেশিনে তৈরি হাওয়াই মিঠাই নিয়ে হাজির হন সেন্ট লুইসের বিশ^ মেলায়। মেলার প্রথম দিনই ২৫ সেন্ট করে ৬৮ হাজার ৬৫৫ বাক্স হাওয়াই মিঠাই বিক্রি হয়। টটসি রোল অফ কানাডা লিমিটেড বিশে^র সর্বাধিক হাওয়াই মিঠাই উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান।

১৯২০ সালে মার্কিনিরা এই মিঠাইয়ের নাম দেয় ‘কটন ক্যান্ডি।’ ৭ ডিসেম্বর দিনটি ‘জাতীয় কটন ক্যান্ডি ডে’ হিসাবে পালন করে তারা।

অনেকে মজা করে হাওয়াই মিঠাইকে বুড়ির মাথার পাকা চুলও বলেন। ইংরেজিতে বলা হয়- স্পুন সুগার, ফেয়ারি ফ্লস, ক্যান্ডি ফ্লস অথবা কটন ক্যান্ডি।

হাওয়াই মিঠাই খাওয়ার চাইতেও এর দেখার আকর্ষণটা কোনও অংশে কম নয়। পেজা তুলোর মতো তুলতুলে গোলাপি-সাদা রঙয়ের এই ঐতিহ্যবাহী হাওয়াই মিঠাই দেখতে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। কালের পরিক্রমায় আজ সেই ছোট ছোট গোলাকার হাওয়াই মিঠাই আকারে ফুলে ফেঁপে বেশ বড় হয়েছে। কাঠিতে পেঁচিয়ে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় এখন সব জায়গায় পাওয়া যায়।

হাওয়াই মিঠাই বানাতে খুব বেশি কিছু লাগে না। একটি মেশিন,আর উপকরণ হিসেবে স্পিরিট, চিনি, তেল আর হালকা ভোজনযোগ্য রঙ। চলন্ত মেশিনের উপরিভাগের থালার মতো জায়গার মধ্যে ছিদ্রতে দেয়া হয় এই উপকরণ। মেশিনের ঘূর্ণিতে যে তাপ উৎপন্ন হয় তা থেকে রূপ নেয় হাওয়াই মিঠাই। উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে এক কেজি চিনি দিয়ে প্রায় ৫৫০ থেকে ৭০০ হাওয়াই মিঠাই বানানো যায়।

‘কুসংস্কার’ মানুষের বিশ^াসের সাথে সম্পৃক্ত। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিবেকহীন অন্ধবিশ^াস এবং অন্ধ অনুকরণের ফলে পূর্বপুরুষদের দীর্ঘদিনের লালিত রীতি-নীতি, প্রবাদ-প্রবচন মানুষের মস্তিষ্কে কু-বিশ^াসের ভিত মজবুত করে। যা সমাজে ছড়িয়ে আছে।  সভ্যতা, বিভিন্ন মতবাদ,সামাজিকতা ও শাস্ত্রের নামে। সমাজ, গোত্র, জাতি, ও অঞ্চলভেদে কুসংস্কারে বিশ^াসের মাত্রায় রয়েছে ভিন্নতা,তবে এর কোনোটাই কুসংস্কার মুক্ত নয়।

ব্যক্তিগত কিংবা সামাজিক কোনো কুসংস্কারের সঙ্গে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। বিদায় হজের ভাষণে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘ জাহেলি যুগের সকল কুপ্রথা আমার পায়ের নিচে নিক্ষেপ করা হলো।’ (ইবনে মাজা : ৩০৭৪)।

ইসলাম সবসময় কুসংস্কার-বিশ^াসের বিপরীতে। কেননা এটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে আল্লাহর একত্ববাদের বিপরীতে হয়।

সৃষ্টি রহস্য, আসমান-জমিন, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, খেলাধুলা, বিনোদন, চন্দ্র-সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্র, পশু-পাখি, পাহাড়-পর্বত, নদী-নালা, জীব-জড় থেকে শুরু করে জীবনের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে কুসংস্কারের ছোঁয়া নেই।

মূলত কুসংস্কারগুলো আল্লাহ তায়ালা ব্যতীত কোনো এক শক্তিকে বিশ^াস-অবলম্বন করে ধাবিত হয়। সেই শক্তিকে কার্যসম্পাদনের নির্দেশক ভাবা হয়। যেমন, বাচ্চাদের দাঁত পড়লে তা ইঁদুরের গর্তে দিতে হয়। কোনো প্রাণীর আওয়াজকে অপয়া বা বিপদের কারণ হিসেবে গণ্য করা। ব্যাঙ ডাকলে বৃষ্টি হয়। হাতির ছবি ঘরে থাকলে সৌভাগ্য আসে। কালো বিড়াল বা প্যাঁচা দেখলে দুর্ভাগ্য হয়। ডান হাতের তালু চুলকালে টাকা আসে। কাকের ডাক কারও মৃত্যুর সংবাদ বহন করে। টিকটিকির আওয়াজকে কথার সত্যায়ন মনে করা। পরিক্ষার আগে ডিম খেতে নেই। জোড়া কলা খেলে জমজ বাচ্চা হয়। দোকানে সকাল-সন্ধ্যা আগর বাতি জ¦ালাতে হয়, শুরুতে বাকি দিতে নেই এমন অসংখ্য কুসংস্কার সমাজে ঘিরে আছে।

প্রত্যেকটি কাজের ক্ষেত্রে তাওহিদের দাবি উপেক্ষিত। অজ্ঞতা, মূর্খতা ও অন্ধ আনুগত্য মানুষের স্বাভাবিক জ্ঞানকে গ্রাস করার ফলে কুসংস্কারের উৎপত্তি ও বিকাশ সাধন সম্ভব হয়েছে। কিছু কুসংস্কার আছে যেগুলো শিরক ও কুফরের পর্যায়ের।

আল কোরআনে বলা হয়েছে- ‘ তিনি আল্লাহ, যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। গোপন ও প্রকাশ্য সব কিছুই তিনি জানেন। তিনি দয়াময় মেহেরবান। তিনিই আল্লাহ, যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তিনিই বাদশাহ, অতি পবিত্র, শান্তিদাতা, নিরাপত্তাদাতা, রক্ষাকর্তা, সবার উপর বিজয়ী, নিজ হুকুম জারি করায় শক্তিমান এবং অহঙ্কারের অধিকারী। মানুষ তার সঙ্গে যে শিরক করছে তা থেকে আল্লাহ পবিত্র। তিনিই আল্লাহ, যিনি সৃষ্টির পরিকল্পনাকারী, তা বাস্তবায়নকারী ও সে অনুযায়ী রূপদাতা। সব ভালো নাম তারই। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবই তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করছে। তিনি মহাশক্তিশালী ও সুকৌশলী।’ (সুরা হাশর : ২২-২৪)

মূলত পৃথিবীতে যা কিছু পরিচালিত হয় তা সবই মহান আল্লাহ তায়ালার নির্দেশনাতেই হয়। দ্বিতীয় কোনো পক্ষ বা শক্তির প্রভাব অমূলক, নিরর্থক। যদি অনুরূপ কোনো শক্তি বা পক্ষকে বিশ^াস করা হয় তা হলে এটা শিরকের অন্তর্ভুক্ত হবে। সুতরাং কোনোভাবেই বিশ^াস করা যাবে না যে, এটার বদৌলতে এরূপ হয়েছে; বরং তিনি রাজাধিরাজ, সকল কিছুর পরিচালক ও মহাব্যবস্থাপক।

কোনো নিঃসন্তান, বিধবা কিংবা সন্তান হারা কাউকে দেখলে অলক্ষুণে বলে তার স্পর্শ থেকে দূরে থাকা এবং পুরো দিনটাকে অশুভ বলে ধরে নেয়া হয়।

অথচ রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘কোনো কিছুকে অপয়া, অশুভ মনে করা শিরক।’ (আবু দাউদ : ৩৯১০)।

কুসংস্কারগুলো অন্তরের বিশ^াস এবং জবানে বহিঃপ্রকাশের দ্বারা সম্পন্ন হয়ে থাকে। ফলে শিরকের মতো বড় পাপের রোষানলে পড়লে পরকালীন জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘ নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সঙ্গে শরিক করাকে ক্ষমা করেন না। তিনি ক্ষমা করেন এ ছাড়া অন্যান্য পাপ, যার জন্য তিনি চান। আর যে আল্লাহর সঙ্গে শরিক করে সে অবশ্যই মহাপাপ রচনা করে।’ (সুরা নিসা : ৪৮)

বাংলায় প্রবাদ হিসেবে বলা হয়- ‘যত বড় পাঁঠা তত বড় আসন’। যে যত উগ্র, হিং¯্র, ঠোঁটকাটা, কানকাটা, খেয়ালি, সে তত জনপ্রিয়। সুবোধ, শান্ত অথচ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী প্রজন্ম সমাজ থেকে উধাও। একরোখা,ঘাড়ত্যাড়া, টেটিয়া, রাগী মানুষেরা সমাজে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে, ‘ আপনি বাঁচলে বাপের নাম ’। অন্য কারও জন্য নয়। বৈষয়িক স্বার্থসিদ্ধির জন্য লড়ো, প্রয়োজনে মরো।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন জায়গায় বলেছেন, তিনি যে প্রতিশ্রুতি দেন তা রক্ষা এবং বাস্তবায়ন করেন।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা আমাকে ডাকো আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’ (সুরা গাফের : ৬০)।

‘তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণে রাখব এবং আমার

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, অকৃতজ্ঞ হয়ো না।’ (সুরা বাকারা : ১৫২)।

সমাজের মূল্যবোধগুলো খুব দ্রুত বদলে যাচ্ছে। অথচ আল্লাহ তায়ালার প্রতিশ্রুতি হলো,

‘ওই সময়ের কথা স্মরণ করো, তোমাদের পালনকর্তা ঘোষণা করলেন, যদি তোমরা নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করো, তবে তোমাদের নেয়ামত আরও বাড়িয়ে দেব।’ (সুরা ইবরাহিম : ৭)।

আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে ঘোষিত আরেকটি প্রতিশ্রুতি হলো, ‘ আল্লাহ এমন নন যে, তারা ক্ষমা চাইবে অথচ আল্লাহ তাদের শাস্তি দেবেন।’ (সুরা আনফাল : ৩৩)।

একটা বেপরোয়া ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ সবখানে। ব্রিটিশ আমলের নিয়ম ছিল ডিভাইড অ্যান্ড রুল। আর এখন হয়েছে ভাগ কর, দখল কর। গায়ের জোরে শাসন কর।

পুরো পৃথিবী কাঁসার বাসনের মতো ঝনঝন করে বাজছে। চামার-কামার, সুশীল, সবাই জঙ্গি ষ-া-গু-ার মতো আচরণ করছে।

আর দেশে দেশে ‘অবতারের’ মতো দেখা দিয়েছে ডাকসাইটে সব ‘নেতা’। ব্রেক নেই, বেল নেই, নিয়মনীতি-শিষ্টাচারের বালাই নেই। ক্ষেপিয়ে দেয়া, চটিয়ে দেয়ার কৌশল,আছে শুধু হুঙ্কার। ইসরায়েলে নেতানিয়াহু, পোল্যান্ডে দুদা, ফিলিপাইনে রদরিগো দুতের্তে, রাশিয়ায় পুতিন, ব্রিটেনে বরিস জনসন, ব্রাজিলে জাইর বলসোনারো, ভারতে মোদি,  আর চীনে শি জিনপিং।

দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধের পর থেকে পৃথিবী জুড়ে এতজন কট্টর ‘জাতীয়তাবাদী’ ‘অবতার’কে প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতির তখতে বসে থাকতে বোধ হয় কেউ দেখিনি। আর সদ্যবিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেন সেই বৃত্তটি পূর্ণ করেন।

দেশ নামক বিমূর্ত ধারণাটিকে দেশবাসীর মাথায় গেঁথে দেয়ার জন্য এমন দিনের গল্প শোনায় যেখানে ইতিহাস, পুরাণ আর কল্পনা মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। এই ‘অবতার’রা যে জাতীয়তাবাদের কথা শোনান তা দেশবাসীকে নয়, দেশকে ভালো রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়।

পুতিন নিজ দেশে একজন শরণার্থীকেও আশ্রয় দেননি। ক্রিমিয়ার দখল পেতে ইউক্রেনের ওপর আগ্রাসন চালিয়েছেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হাসপাতালে বিষপ্রয়োগে হত্যার চেষ্টা করেছেন। সবখানেই উগ্র জাতীয়তাবাদের এত বাড়বাড়ন্ত।

জাতিসংঘ বা ইউরোপীয় ইউনিয়ন, বিশ^ বাণিজ্য সংস্থা হোক বা আইএমএফ, সাধারণ মানুষের কাছে এই সংস্থাগুলো যে প্রতিশ্রুতি নিয়ে এসেছিল, তার অধিকাংশই পূরণ হয়নি। এমনকি উন্নত দেশগুলোতেও আর্থিক বৈষম্য চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার যে খনিশ্রমিকরা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জেতাবেন বলে পণ করেছিলেন, তাদেরও কিন্তু ধোঁকার টাটি কম দেখানো হয়নি। বিশ^ায়নের দৌলতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত সমাজ অনেক কিছু পেয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই এক কুমিরছানাকে বারবার দেখিয়ে উন্নত দেশগুলো তার ফায়দা তুলেছে হাজার গুণ। স্বভাবতই যে মানুষগুলোর ভাগ্যে কিছুই জোটেনি, তারা নিজেদের প্রাথমিক পরিচয়েই ঘুরে দাঁড়াতে চাইছেন। উগ্রজাতীয়তাবাদের শুরুর কথাও সেখানেই লুকিয়ে।

মূল্যবোধের অবক্ষয়ের ধারায় আমরা অধোগতির তলানিতে। এর মূলে রাজনীতির স্বার্থবাদী দৃষ্টিভঙ্গি, মতবাদের ফাঁকফোকর। তরুণরা এদের অনুসারী হয়। কারণ সবার জানা, ব্যাধি সংক্রামক।

গত এক দশকের আর্থসামাজিক সংকটের মধ্যেই আছে তার সূত্র। সেই সূত্রে বিশ^জোড়া মন্দার পাশেই স্থান নেবে সে দেশের ওয়াল স্ট্রিট-তন্ত্রের বিপর্যয়। বৃহৎ পুঁজির সংকোচনের দাম ক্রমে প্রাত্যহিক জীবনকে দিতে হয়েছে। নীল-কলার শ্রমিকের প্রকৃত আয় কমেছে, চাকরির সুযোগ ও ক্ষেত্র সংকুচিত হয়েছে। সামরিক অভিযানের জন্য রাজস্বের ওপর প্রবল চাপ পড়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম ও বাজেট ছোট হয়েছে। মধ্যবিত্ত ও নি¤œমধ্যবিত্ত করদাতারা দিনের হিসাব মেটাতে না পেরে খাবি খাচ্ছে।

প্লেটোর মতে, দার্শনিক তথা প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিই শাসক হিসেবে সবচেয়ে উপযুক্ত। এ কারণেই হয়ত বলা হয়ে থাকে, ‘একটি সমাজের এক‘শ বুদ্ধিজীবীর মৃত্যু হলেও যতটা না ক্ষতি হয় তারচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় যদি একজন মূর্খ শাসক সেই রাষ্ট্রের ক্ষমতায় চেপে বসে।’

অর্থনৈতিক সংকট যে কত দ্রুত সামাজিক ও রাজনৈতিক রক্ষণশীলতায় পরিণত হয়, সম্প্রতি ব্রিটেন ও আমেরিকা তা প্রমাণ করেছে। অভিবাসী সমাজের বিরুদ্ধে ক্ষেপে উঠলেই যেন সব সংকটের সহজ চটজলদি সমাধান মিলতে পারে।

বিশ^বাসী সেই উন্মত্ত দৌড় হাঁ-করে চেয়ে দেখেছে আর হাততালি দিয়ে উৎসাহ দিয়েছে। কারণ,এখন অশিষ্টতা উদযাপনের যুগ। অশ্লীল আত্মবিজ্ঞাপনকে এখন বলে মার্কেটিং, অন্যকে অনর্গল অপমান করার প্রবণতাকে বলে সপ্রতিভা, হিংসা আর আঘাত করার অভ্যাসকে বলে আগ্রাসন।

একারণেই গ্রিক দার্শনিক প্লেটো রাষ্ট্রের মঙ্গলের জন্য ‘দার্শনিক রাজা’ চেয়েছেন। তিনি মনে করেন, প্রজ্ঞাবান মানুষ জ্ঞানকে নিজের শক্তি-সম্পদ মনে করে, পক্ষান্তরে অন্যরা বৈষয়িক সম্পদকে মনে করে ক্ষমতা ও শক্তি।

কেবল রাজনীতি নয়, ক্রীড়া নয়, জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই সকল ন¤্রতা নিয়ম-রীতিনীতি ভুলে আদিম দখল-মানসিকতা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়াই এখন নীতি।

অন্যদিকে ভালো মানুষও দেখছে,তার হাত থেকে অ-ভালোরা কেড়ে নিয়ে যাচ্ছে চাকরি, সম্মান, প্রেম, পিৎজা, লজেন্স।

নিজেকে তার নিয়ত বিপন্ন মনে হতে থাকে, একসময় আত্মসন্দেহ, এমনকি আত্মঘৃণার দিকেও সে ঢলে পড়ে। নীতিনৈতিকতাহীন এমন জয়ীদের অট্টহাসি তার মর্মে এসে আছড়ায়। বস্তুগত ব্যর্থতার দায় তার ঘাড়ে ভূতের মতো চেপে বসে। ফলে ‘পাঁঠা’দের প্রতি সেও নমনীয় হয়ে ওঠে। ফলে পাঁঠারা আরও বড় আসনে অধিষ্ঠিত হয়।

মিনিমাম টলারেন্স নেই। কেবল হুমকি-ধমকি, অশ্লীল গালাগাল। এরা বীর। এদের থিম হলো, মারো শালা। সপাটে মারো,স-ডাঁটে মারো। ঘ্যাঁক করে কামড়ে দেয়াই এখন স্মার্টনেসের ঝলমল পতাকা। তাই মানুষ এখন অভদ্রতার তুমুল ফ্যান।

 

লেখক

সাংবাদিক, কলামিস্ট,গবেষক,সমাজ চিন্তক।

Facebook Comments
Print Friendly, PDF & Email
সংবাদটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো সংবাদ