নোটিশ :
সংবাদকর্মী নিচ্ছে অন্যদৃষ্টি। আগ্রহীগন সিভি পাঠান- 0nnodrisrtynews@gmail.com
২৮ অক্টোবর ২০২০, ০২:০১ অপরাহ্ন

কোমায় থাকা সেনা অফিসার পেলেন “কর্ণেল” পদোন্নতি

আবদুল মান্নান
শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২০, ৬:০০ অপরাহ্ন

 

কোমায় থাকা সেনা অফিসার পেলেন “কর্ণেল পদোন্নতি”

 

দীর্ঘ ৮ বছর কোমায় থাকা এক সেনা কর্মকর্তাকে “কর্নেল” পদে পদোন্নতি দিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোমায় থাকা কোন সেনা কর্মকর্তাকে বিরল পদোন্নতি দেওয়া হল। সম্মাননা পাওয়া এই সেনা অফিসারের নাম দেওয়ান মোহাম্মদ তাছাওয়ার রাজা। প্রায় দীর্ঘ ৮ বছর কোমায় থেকেও পদোন্নতি পেয়েছেন তিনি।হাসপাতালের বিছানাতেই তাকে পদোন্নতির ব্যাচ পরানো হয়।

২০১৩ সালের ১১ মার্চে হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক করেন চৌকস সেনা কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ তাছাওয়ার রাজা।ফলে মস্তিষ্কের কিছু অংশ কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তিনি চলে যান কোমায়। সেখানেই কেটে গেছে জীবনের কঠিন প্রায় আটটি বছর। এই পুরো সময় ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) অফিসার্স ওয়ার্ডের নন্দকুঁজা নামের একটি কক্ষে চিকিৎসাধীন আছেন তিনি। হাত-পা নাড়াতে পারলে ব্রেইনের কার্যক্ষমতা না থাকায় গভীর কোমায় আচ্ছন্ন এই হতভাগ্য সেনা অফিসার।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে থেকে অসুস্থ হয়ে পড়া সেনাবাহিনীর চৌকস এই কর্মকর্তা কর্মক্ষম থাকলে হয়তো পৌঁছে যেতেন সাফল্যের কাঙ্ক্ষিত শিখরে। কিন্তু জীবনের এক নির্মম বাস্তবতা তাকে দেয়নি সেই সুযোগ। কিন্তু বাহিনীর প্রতি তাছাওয়ারের অবদান ভুলে যায়নি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। হাসপাতালের বেডে শুয়ে এক বিরল সম্মান পেলেন তিনি। ১২ অক্টোবর সোমবার তাকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদ থেকে কর্নেল হিসেবে পদোন্নতির সম্মানে ভূষিত করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

বাহিনীর এই সম্মাননায় গর্বিত কোমায় থাকা মোহাম্মদ তাছাওয়ার রাজার স্ত্রী মোসলেহা মুনীরা রাজা ও তাদের তিন সন্তান। তার স্ত্রী মুনীরা রাজা বলেন, তার স্বামীর ইচ্ছে ছিল তাদের দুই ছেলে বড় হয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে দেশের জন্য কাজ করবে। কিন্তু তাদের বাবার অসুস্থতার পর সবকিছু পাল্টে গেছে। তবে তারায় দেশপ্রেমিক বাবার আদর্শেই বড় হচ্ছে। মুনীরার প্রত্যাশা তাদের বাবা একদিন সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপন করবে।

সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসুদ মজুমদার বলেন, তার এই অসুস্থতাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় হাইপোস্কিক স্মিমিক ইনজুরি টু ব্রেইন ইফেক্টস বলা হয়। তার হার্ট অ্যাটাকের পর হার্ট ফিরে আসে। তবে ব্রেইন ফিরে আসেনি। ব্রেইনের নিচের অংশ ভালো। বাইরের যে অংশগুলো আমাদের চিন্তা-চেতনার সঙ্গে জড়িত সেই এরিয়ার সেলগুলো পুনরুজ্জীবিত হয়নি। এজন্য জীবন চালানোর জন্য বেসিক বডির প্রটেকটিভ সিস্টেম ভালো থাকলেও হাইয়ার সাইকোলজিক্যাল ফাংশনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’ এ অবস্থা থেকে মুক্তির সুসংবাদ দিতে না পারলেও সিএমএইচ সবসময় তাছাওয়ার রাজার পাশে থাকবে বলেও জানান তিনি।

দীর্ঘ আট বছর কোথায় থাকা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই চৌকস অফিসার বাউল শিল্পী হাছন রাজার বংশধর। তিনি ১৯৮৯ সালের ২৩ জুন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাজোয়া বাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। তিনি ১৯৯৬ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের অধীন ইরাক-কুয়েত এবং ২০০৭ সালে সুদানে শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ করেন। দীর্ঘ চাকরি জীবনে প্রায় অর্ধ শতাধিক দেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা রয়েছে বিশেষ রোগাক্রান্ত এই সামরিক অফিসার।

কবি হাছন রাজার জীবন ও কর্ম নিয়ে “হাছন রাজা সমগ্র” মেজর জেনারেল এম এ জি ওসমানীকে নিয়ে “ও জেনারেল মাই জেনারেল” বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইতিহাস সহ একাধিক গ্রন্থ লিখেছেন কর্ণেল দেওয়ান মোহাম্মদ তাছাওয়ার রাজা।

Facebook Comments
Print Friendly, PDF & Email
সংবাদটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো সংবাদ